কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, May 21, 2026

May 21, 2026

বগুড়ার গাবতলীতে গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা, মধ্যরাতে এলাকায় চাঞ্চল্য

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় রীতা রানী মজুমদার (৪৫) নামের এক গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার মমিনহাটা দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রীতা রানী মজুমদার ওই এলাকার বিধান চন্দ্র রায়ের স্ত্রী। দম্পতির ছেলে ও মেয়ে পড়াশোনার কারণে ঢাকায় থাকায় বাড়িতে তারা দুজনই বসবাস করতেন।
নিহতের স্বামী বিধান চন্দ্র রায় জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে তারা একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজ নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে হঠাৎ দরজায় ধাক্কার শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। কিছুক্ষণ পর স্ত্রীর ঘর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনে তিনি সেখানে যান।
তিনি বলেন, ঘরে ঢুকে দেখতে পান রীতা রানীর গলাকাটা নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে আছে। এ সময় চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসে এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
গাবতলী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মরদেহ শয়নকক্ষের মেঝেতে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

 

May 21, 2026

পটুয়াখালীতে বাবা-মা হারিয়ে অসহায় তিন প্রতিবন্ধী ভাই, মানবিক সহায়তার আহ্বান

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের চাঁদকাঠী গ্রামে মর্মস্পর্শী এক মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে বাবা ও মাকে হারিয়ে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী তিন ভাই—রিপন দাস, নিদু দাস ও সাদন দাস।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে তাদের বাবা রতন চন্দ্র দাস মারা যান। এরপর তিন প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে থাকেন মা সরস্বতী রানী। অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের দেখাশোনা চালিয়ে গেলেও একসময় তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে গতকাল তিনি মারা যান।
মায়ের মৃত্যুর পর ঘরের ভেতরের দৃশ্য স্থানীয়দের নাড়িয়ে দিয়েছে। ঘরে মায়ের মরদেহ পড়ে ছিল, আর পাশে বসে অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল তিন প্রতিবন্ধী সন্তান। এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই কান্না ধরে রাখতে পারেননি বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, তিন ভাইই জন্মগতভাবে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। তারা কেউ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না এবং নিজেরা কোনো কাজ করেও জীবিকা নির্বাহের সক্ষমতা নেই। বাবা-মা বেঁচে থাকতেই কষ্ট করে তাদের দেখাশোনা করতেন। এখন তারা পুরোপুরি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে পরিবারটিতে চরম খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। কীভাবে তারা চলবে, কে খাবার দেবে কিংবা ভবিষ্যতে কোথায় থাকবে—তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীরা সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করার চেষ্টা করছেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে তিন ভাইয়ের দায়িত্ব বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় স্থানীয়রা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের প্রতি দ্রুত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে তিন ভাইয়ের চিকিৎসা, ভরণপোষণ ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষায়, “বাবা-মাকে হারানোর শোকের মধ্যেই এখন অনাহার আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়ছে তিন ভাই। মানবিক সহায়তা ছাড়া তাদের টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে পড়বে।”

 

May 21, 2026

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত, অভিযুক্ত আটক

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তনয় ঘোষ নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দাউদকান্দি মডেল থানা মসজিদ মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে তনয় ঘোষ ও সাহিন আলম বাবু নামে আরেক ব্যবসায়ীর মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সাহিন আলম বাবু ধারালো অস্ত্র দিয়ে তনয় ঘোষকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ছুরিকাঘাতের পর তনয় ঘোষ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত সাহিন আলম বাবুকে আটক করে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

May 21, 2026

শরীয়তপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, যৌতুকের জন্য হত্যার অভিযোগ পরিবারের

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় রাজলক্ষ্মী পূরবী (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর স্বামী চঞ্চল হালদার তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। যদিও স্বামীর পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যার ঘটনা।
বুধবার (২০ মে) সকালে উপজেলার সিঙারচড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত পূরবী গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকার কৃষক সুনীল মণ্ডলের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর আগে চঞ্চল হালদারের সঙ্গে পূরবীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, কোনো স্থায়ী পেশা না থাকায় চঞ্চল প্রায়ই শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা নিতেন। সম্প্রতি বিদেশ যাওয়ার কথা বলে তিনি চার লাখ টাকা দাবি করেন। সেই টাকা আনার জন্য পূরবীকে বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি খালি হাতেই স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান।
পরদিন সকালে ঘরের আড়ার সঙ্গে পূরবীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে দ্রুত তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকেই স্বামী চঞ্চল হালদার ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
নিহতের বাবা সুনীল মণ্ডল বলেন, “মেয়ে প্রায়ই ফোন করে জানাত, টাকা না দিলে তাকে মারধর করা হয়। আমি গরিব মানুষ, এত টাকা কোথা থেকে দেব? টাকার জন্যই আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে।”
মা দুলালী রানীও একই অভিযোগ করে বলেন, “আগেও ধারদেনা করে জামাইকে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি। তারপরও তাদের চাহিদা শেষ হয়নি। শেষ পর্যন্ত মেয়েটাকে হারাতে হলো।”
অন্যদিকে অভিযুক্তের মা লক্ষ্মী রানী দাবি করেন, বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা চাওয়া হয়েছিল ঠিকই, তবে পূরবী অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই পূরবীর মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

May 21, 2026

গৌরীপুরে ধর্মগ্রন্থ অবমাননার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার, এলাকায় উত্তেজনা

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন অবমাননার অভিযোগে শাওন চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সন্ধ্যার দিকে শাওন চন্দ্র দাস তার ব্যক্তিগত ইমু আইডিতে একটি ছবি আপলোড করেন, যেখানে তাকে পবিত্র আল কোরআনের ওপর পা রেখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ঘটনার প্রতিবাদে গৌরীপুর পৌরসভার বড় মসজিদের সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে যান গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাল্লা। তার নির্দেশনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেয়।
পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে ২০ মে ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশের সহযোগিতায় শাওন চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে শান্ত থাকার এবং গুজব বা উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

 

May 21, 2026

ধর্মীয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ঐক্য পরিষদের

ধর্মীয় বৈষম্য ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানবাধিকারভিত্তিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
বুধবার (২০ মে) সংগঠনটির ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নেতারা এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের উত্থাপিত আট দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিক পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ।
সভায় বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কাজল দেবনাথ, জয়ন্তী রায়, অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, সন্তোষ শর্মা, রঞ্জন কর্মকার, অ্যাডভোকেট তাপস পাল, অতুল চন্দ্র মণ্ডল, কৃষ্ণ দাস, শিমুল সাহা, দীপংকর চন্দ্র শীল, জয়া ভট্টাচার্য ও সুপ্রিয়া ভট্টাচার্যসহ সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত ১৯৭২ সালের অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক সংবিধান বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাদের দাবি, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা এখনও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
তারা আরও বলেন, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক সহাবস্থান ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
আলোচনা সভা থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সমঅধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকারও আহ্বান জানানো হয়।
 

Wednesday, May 20, 2026

May 20, 2026

পিরোজপুরে নিখোঁজের একদিন পর কবিরাজ নির্মল হালদারের মরদেহ উদ্ধার

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় নির্মল হালদার (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলার পানাউল্লাহপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত নির্মল হালদার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের পশ্চিম কুড়িয়ানা গ্রামের বাসিন্দা। এলাকায় তিনি ‘নির্মল ওঝা’ নামে পরিচিত ছিলেন। পেশায় একজন গ্রাম্য কবিরাজ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মল হালদার অত্যন্ত শান্ত, সদালাপী ও পরিচিত মুখ ছিলেন। এলাকায় সবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল বলেও জানান তারা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বের হন নির্মল হালদার। কিন্তু রাত পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তার মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে রাতে নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন স্বজনরা।
পরদিন সকালে পানাউল্লাহপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নির্মল হালদার সবসময় গলায় প্রায় দেড় ভরির দুটি স্বর্ণের লকেট পরতেন এবং সঙ্গে নগদ টাকাও রাখতেন। তবে মরদেহ উদ্ধারের সময় তার গলায় কোনো স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন বা টাকা পাওয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনাটি নিয়ে রহস্য আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নিহতের ভাগনে দিলীপ হালদার বলেন, “মামার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তিনি নিয়মিত বাজারে যেতেন এবং সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতেন। এমন একজন মানুষের মরদেহ এভাবে পড়ে থাকা খুবই রহস্যজনক।”
স্থানীয় বাসিন্দা সমীরণ রায় জানান, সোমবার বিকেলের পর থেকেই নির্মল হালদারের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নেছারাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

May 20, 2026

হাতিয়ায় হিন্দু বিধবা নারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের রাজের হাওলা গ্রামে হিন্দু বিধবা নারী টটি বালা দাসের (৬১) ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টা ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত টটি বালা দাসের ঘরে ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাকে হত্যার চেষ্টা করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার কান কেটে গুরুতর আহত করে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও লুট করে নিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন অসহায় বিধবা নারীর ওপর এমন নৃশংস হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, “এ ধরনের হামলা শুধু একজন মানুষের ওপর নয়, পুরো সমাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অনেকেই ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। স্থানীয়রা বলেন, অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে আরও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় টটি বালা দাস চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

May 20, 2026

নড়াইলে নামযজ্ঞের মেলায় কলেজছাত্রীকে ছুরিকাঘাত, তিন মাস আগে হামলার শিকার হয়েছিলেন বাবাও

নড়াইল সদর উপজেলার পংকবিলা সর্বজনীন পূজামণ্ডপে নামযজ্ঞের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন পূর্বা সোম (২১) নামে এক কলেজছাত্রী। রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পূর্বা সোম নড়াইল পৌরসভার ভওয়াখালি এলাকার পরিতোষ সোমের মেয়ে। তিনি নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পংকবিলা সর্বজনীন পূজামণ্ডপে তিন দিনব্যাপী নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। রোববার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেখানে যান পূর্বা। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার আগে মন্দির প্রাঙ্গণের একটি দোকানে পান কিনতে দাঁড়ান তিনি। এ সময় ভিড়ের মধ্যে থেকে এক দুর্বৃত্ত পেছন দিক থেকে তার কোমরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে স্বজনরা রক্তাক্ত অবস্থায় পূর্বাকে উদ্ধার করে দ্রুত নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার পর পরিবার জানায়, প্রায় তিন মাস আগে পূর্বার বাবা পরিতোষ সোমও দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছিলেন। শহরের মিতালি সংঘের সামনে দিয়ে রাতে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত কয়েকজন তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরিতোষ সোম বলেন, “গতকাল রাতে হঠাৎ এক যুবক দৌড়ে এসে আমার মেয়েকে ছুরি মেরে পালিয়ে যায়। এর আগে আমাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল। কারও সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি।”
তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
May 20, 2026

নিখোঁজের একদিন পর পরিত্যক্ত ঘরের পাশে মিলল নির্মল ওজার মরদেহ

পিরোজপুরের নেছারাবাদে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর নির্মল হালদার ওরফে নির্মল ওজা (৬০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের পানাউল্লাহপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নির্মল ওজা উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের পশ্চিম কুড়িয়ানা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিপেন হালদারের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো স্থানীয় কুড়িয়ানা বাজারে যান নির্মল। রাত ৮টার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে রাতে নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিহতের ভাগিনা দিলীপ হালদার জানান, নির্মলের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। তিনি সবসময় গলায় প্রায় দেড় ভরির দুটি স্বর্ণের লকেট পরতেন। এছাড়া তার কাছে কিছু নগদ টাকাও ছিল বলে পরিবারের ধারণা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় নির্মল ‘ওজা’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। মানুষের প্রয়োজনে প্রায়ই তিনি টাকা ধার দিতেন। প্রতিবেশী অমল রায় বলেন, “নির্মল অনেককে আর্থিক সহায়তা করতেন। এক সপ্তাহ আগেও আমাকে ৫০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। রাতে নিখোঁজের খবর শুনি, সকালে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পাই।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে নিহতের গলায় কোনো স্বর্ণের লকেট পাওয়া যায়নি। তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকাপয়সাও পাওয়া যায়নি।
নেছারাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

"
"