কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, July 27, 2026

July 27, 2026

ছয় মাসে সারা দেশে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা, নিহত ৪৪: ঐক্য পরিষদের প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২৭ জুলাই ২০২৬: বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দাবি করেছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি–জুন) সারা দেশে অন্তত ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি।

সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ লিখিত বক্তব্যে জানান, দেশীয় সংবাদপত্র, গণমাধ্যম ও নিজস্ব সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি প্রকৃত ঘটনার আংশিক চিত্রমাত্র।”

পরিসংখ্যানে যা উঠে এসেছে

সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪০টি ঘটনায় ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া—

৬২টি উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা

৪৭টি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

৪২টি হামলা, হত্যার হুমকি ও নির্যাতন

২১টি জোরপূর্বক বাড়ি, জমি ও ব্যবসা দখল

১৫টি উপাসনালয়ের জমি দখল বা দখলের চেষ্টা

১০টি অপহরণ, চাঁদাবাজি ও নির্যাতন

৫টি নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা

সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদী, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট, কক্সবাজার ও মানিকগঞ্জের কয়েকটি আলোচিত ঘটনা উল্লেখ করে দাবি করা হয়, এসব ঘটনায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

আট দফা দাবি

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংগঠনটি আট দফা দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—

সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন

জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের বাস্তবায়ন

জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসন

দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণে আইন

বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন

বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য অতিরিক্ত সরকারি ছুটি

এছাড়া সংগঠনটি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন রামমূর্তি-সংশ্লিষ্ট আলোচনায় থাকা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে তার দ্রুত মুক্তি দাবি করে। একইসঙ্গে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তিরও দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটি বিগত সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সরকারি–বেসরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রতিকার বর্তমান সরকারেও দৃশ্যমান নয় বলেও অভিযোগ করে।


 

July 27, 2026

কালের সাক্ষী ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা রাজবাড়ির সাত মন্দির: হারিয়ে যাওয়া রাজবংশের ইতিহাস


ঝিনাইদহ, ২৭ জুলাই ২০২৬: একসময় রাজা, রাজ্য, প্রাসাদ আর সৈন্যবাহিনী ছিল। কালের বিবর্তনে সব হারিয়ে গেলেও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা গ্রামের সাতটি প্রাচীন মন্দির। কালীমাতা, লক্ষ্মী, গণেশ, দুর্গা, তারা, বিষ্ণু ও রাজেশ্বরী—এই সাত মন্দির এখনো বহন করছে হারিয়ে যাওয়া নলডাঙ্গা রাজবংশের স্মৃতিচিহ্ন।

ঝিনাইদহ সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং কালীগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার উত্তরে বেগবতী নদীর তীরে অবস্থিত এই স্থাপনাগুলো। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি মন্দির সংস্কার করা হয়েছে। একটি মন্দিরের কাজ আংশিক হয়েছে, বাকি দুটি এখনো সংস্কারের অপেক্ষায়।

ইতিহাসের পাতা থেকে

জেলা তথ্য অফিস প্রকাশিত ‘ঝিনাইদহ জেলার ইতিকথা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচশ বছর আগে বিষ্ণুদাস হাজরার হাত ধরে নলডাঙ্গা রাজবংশের সূচনা হয়। ১৫৯০ সালে মোঘল সুবেদার মানসিংহ তার আতিথেয়তায় সন্তুষ্ট হয়ে পাঁচটি গ্রাম দান করেন। সেই জমিদারি থেকেই গড়ে ওঠে নলডাঙ্গা রাজবাড়ি। রাজা বাহাদুর প্রথম ভূষণ দেবরায়ের আমলেই মন্দিরগুলো পূর্ণতা পায়।

১৮৭৯ সালে জমিদারির দায়িত্ব নেওয়া রাজা বাহাদুর প্রথম ভূষণ দেব রায় ১৯১৩ সালে ‘রাজা বাহাদুর’ উপাধি লাভ করেন। শিক্ষার প্রসারে তিনি ‘ইন্দু ভূষণ’ ও ‘মধুমতি’ বৃত্তি চালু করেন এবং ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বর্তমান সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ বিদ্যালয়। ১৯৫৫ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে শেষ হয় নলডাঙ্গা রাজবংশের অধ্যায়।

পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে

প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক এসব মন্দির দেখতে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ দাস বলেন, ‘এটি আমাদের এলাকার গর্ব। আরও সংস্কার ও পর্যটন সুবিধা বাড়ানো হলে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা আসবেন এবং ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।’ পুরোহিত প্রান্ত কুমার জানান, তিনি নিয়মিত মন্দিরের দেখভাল করেন এবং যথাযথ সংরক্ষণের দাবি জানান।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ‘নদীর ধারে অবস্থিত মন্দিরগুলো যাতে আরও সুন্দর করা যায়, সে বিষয়ে শিগগির কাজ শুরু করব।’

July 27, 2026

সিলেটের প্রধান শিক্ষিকার রিল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক, শিক্ষক সমাজের সংহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট, ২৭ জুলাই ২০২৬: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের একটি ফেসবুক রিল ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ব্যান্ড ডিফারেন্ট টাচের ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের সঙ্গে বিদ্যালয়ের আঙিনায় হাঁটার একটি ছোট ভিডিও ভাইরাল হলে একদিকে শুরু হয় ট্রল ও সাইবার বুলিং, অন্যদিকে তার পক্ষে সংহতি জানিয়ে দেশজুড়ে শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদী ভিডিও পোস্ট করছেন।

শিক্ষিকার বক্তব্য ও অভিযোগ
এ বিষয়ে শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল গণমাধ্যমকে জানান, ভিডিওটি স্কুল চলাকালীন নয়, বরং ছুটির পর ধারণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে রিল বানাতে জানি না। এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করছিলাম কীভাবে রিল বানায়। স্কুল ছুটির পরে স্কুলের আঙিনাতেই আমি হেঁটে গেছি আর তিনি ভিডিওটি করেছেন।’

তার অভিযোগ, ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘নেতিবাচক ক্যাপশনে’ তার ভিডিও ভাইরাল করেন আসিফ ইকবাল হিরণ নামের এক প্রবাসী তরুণ। তিনি বলেন, ওই তরুণের পাঠানো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাজ করেছেন। শিক্ষিকা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত, এভাবে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা কাম্য নয়।’ তিনি শিক্ষক সুরক্ষা আইনের দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষক সমাজের সংহতি
ভাইরাল হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো শিক্ষিকা একই গান ব্যবহার করে নিজেদের ভিডিও পোস্ট করে বিউটি রানী পালের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। শিক্ষিকা সামিয়া শিকদার লিখেছেন, ‘বিউটি রাণী পাল ম্যাডামকে হেনস্তার চেষ্টা সফল হয়নি। আজ প্রতিটি সাহসী শিক্ষকই একেকজন বিউটি রাণী পাল।’

তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
এদিকে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বিভাগ। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা জানান, ভিডিওতে কোনো সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তা দেখা হবে। তবে এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা।

অভিযোগের বিষয়ে আসিফ ইকবাল হিরণ বলেন, ‘আমি ম্যাডামকে আদাব দিয়ে ভিডিওর বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়েছি। আর কিছু বলিনি।’ তবে তিনি ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ পেজের কোনো নিবন্ধন নেই বলেও স্বীকার করেছেন।


 

July 27, 2026

বাজারের ২৬টি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় মানদণ্ডের দাবি

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে এক গবেষণায় দাবি করেছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরীক্ষিত প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিও কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা ও পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ইএইচই ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে ১টিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টিতে এবং ভিয়েতনামের ২টি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে (৩২০ কণা), ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে (১৬০ কণা), কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরিতে (১৪০ কণা) এবং সিগন্যাল গ্রিন টিতে (১২০ কণা)।

ইএসডিও জানিয়েছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বাংলাদেশে কোনো জাতীয় মানদণ্ড, গ্রহণযোগ্য সীমা বা লেবেলে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নেই। সংস্থাটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে ইএসডিও।


 

Sunday, July 26, 2026

July 26, 2026

সীতাকুণ্ডে জগন্নাথ আশ্রমে চুরি ও ভাঙচুরের অভিযোগ, কমিটির দুই সদস্য আহত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী জগন্নাথ আশ্রমে চুরি ও ভাঙচুরের পর পরিচালনা কমিটির সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। পৃথক ঘটনায় আশ্রম পরিচালনা কমিটির দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কমিটি।

কমিটি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে একদল দুর্বৃত্ত আশ্রমে প্রবেশ করে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। পরে আশ্রমের অফিসের আলমারি ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বিভিন্ন মালামাল ও ড্রয়ারে থাকা নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এর পরদিন শুক্রবার বিকেলে কয়েকজন ব্যক্তি আশ্রমে প্রবেশ করে পরিচালনা কমিটির সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ধারণ করতে গেলে সেখানে উপস্থিত এক সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বর্তমান পরিচালনা কমিটির নেতারা দাবি করেছেন, পূর্ববর্তী কমিটির আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে বিরোধের জেরেই এসব ঘটনা ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, বহিষ্কৃত পক্ষের লোকজনই চুরি ও হামলার সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় ওই পক্ষের দুই সেবকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পূর্ববর্তী কমিটির বহিষ্কৃত দুই সেবক। বর্তমান কমিটির কর্মকাণ্ড নিয়ে তাদের অসন্তোষ থাকলেও চুরি বা হামলার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা তারা নাকচ করেছেন।

এ ঘটনায় জগন্নাথ আশ্রমের নিরাপত্তা ও পবিত্রতা রক্ষার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতারা।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
July 26, 2026

মতিঝিলে উল্টোরথ যাত্রার আগে বোমা উদ্ধার: নাশকতার চেষ্টা ঠেকালো পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২৬ জুলাই ২০২৬: রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে একটি শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রায় নাশকতার উদ্দেশ্যেই বোমাটি ফেলে রাখা হয়েছিল। তবে সময়মতো এটি শনাক্ত হওয়ায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি সাধারণ ফোল্ডিং ছাতার ভেতরে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল জিআই পাইপে তৈরি এই বোমাটি। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট জানিয়েছে, এটি ছিল একটি ‘পাইপ বোমা’, যার ভেতর এক কেজির বেশি সালফার, প্রচুর তারকাঁটা ও ধারালো লোহার টুকরো ছিল। ছাতার বোতাম টিপলেই বিস্ফোরণ ঘটত—এমনভাবে ডিভাইসটি তৈরি করা হয়েছিল।

পুলিশের চোখ এড়ায়নি সন্দেহ
ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে দৈনিক বাংলা মোড় থেকে শাপলা চত্বরের দিকে উল্টোরথ যাত্রা যাওয়ার সময় মেট্রোরেল স্টেশনের জেনারেটরের কাছে পড়ে থাকা ছাতা থেকে মিটমিট করে আলো জ্বলতে দেখে পুলিশ। পরে শোভাযাত্রা শেষ হলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।

মতিঝিল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় বলা হয়েছে, রথযাত্রার সময় এলাকাটি ঘিরে রাখা হয় এবং ‘শর্টসার্কিটের’ অজুহাতে শোভাযাত্রাকে পাশ কাটিয়ে যেতে বলা হয়—যাতে আতঙ্ক ছড়াতে না পারে। পুলিশের ধারণা, সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে এবং জনজীবন বিপন্ন করতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বোমাটি ফেলা হয়েছিল।

তদন্ত অব্যাহত
মতিঝিল থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে নাশকতার চেষ্টা মনে করছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ঘটনার তদন্ত করছে। উদ্ধার হওয়া বোমা থেকে জিআই পাইপের খণ্ডিত অংশ, ব্যাটারি ও বেয়ারিংয়ের বল উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


 

July 26, 2026

বিনামূল্যে ফেসবুক আইডি ভেরিফাই করার সুযোগ পাবেন যারা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় ভুয়া প্রোফাইল ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি সহজ হয়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নিরাপত্তা ফিচার চালু করেছে মেটা। ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ নামের এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিজেদের পরিচয় যাচাই করে একটি বিশেষ ব্যাজ পেতে পারবেন।

মেটা জানিয়েছে, এই ফিচারে কোনো ধরনের সাবস্ক্রিপশন ফি প্রযোজ্য নয়। ফেসবুকের মার্কেটপ্লেস, ডেটিং বা গ্রুপের মতো প্ল্যাটফর্মে অপরিচিত কারও সঙ্গে লেনদেন বা যোগাযোগের সময় এই ব্যাজটি প্রোফাইলের সত্যতা নিশ্চিত করবে, যা প্রতারণার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কীভাবে পাবেন এই ব্যাজ?

ব্যবহারকারীকে একটি ছোট সেলফি ভিডিও ধারণ করতে হবে। ফেসবুকের সিস্টেম সেটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হবে। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডস মেনে চলতে হবে। প্রতারণা, জালিয়াতি বা বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়—এমন অ্যাকাউন্টই এই ভেরিফিকেশনের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

কোথায় দেখা যাবে এই ব্যাজ?

ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে ব্যাজটি প্রথম পর্যায়ে ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ফেসবুক ডেটিং, ফেসবুক গ্রুপস এবং ব্যবহারকারীর প্রোফাইলে প্রদর্শিত হবে। ভবিষ্যতে ফেসবুক ফিডের পোস্টেও এটি দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে মেটার।

মেটা স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ ব্যবহারকারীকে ‘বিখ্যাত’ নয়, বরং ‘প্রকৃত ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করে, যা ভুয়া আইডি চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। নির্বাচিত কয়েকটি দেশে ধাপে ধাপে ফিচারটি চালু করা হচ্ছে এবং পরে তা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল বিশ্বে প্রতারণা ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড রোধে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও প্রক্রিয়ার কার্যকারিতার ওপর।


 

July 26, 2026

ছয় মাসে ৮২৪টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত, এইচআরসিবিএমের প্রতিবেদনে উদ্বেগ

হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ (এইচআরসিবিএম) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩টি জেলা থেকে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ৮২৪টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের হলরুমে “Equal Citizens, Equal Justice” শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

সংগঠনটির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড় প্রতিবেদনে তুলে ধরেন, নথিভুক্ত ঘটনার মধ্যে রয়েছে ২৩৪টি ভূমি দখল, সম্পত্তিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ; ২২৩টি অপহরণ ও শারীরিক হামলা; ১৬৮টি হত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যু; ১৪১টি মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর; ৪১টি যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ; এবং ১৭টি ধর্ম অবমাননাসংক্রান্ত ঘটনা।

প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ও অন্যান্য অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সহিংসতা ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও বাড়ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে; উদ্ধার হওয়া কয়েকজন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্মেলনে এইচআরসিবিএম সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, ট্রানজিশনাল জাস্টিস বাস্তবায়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের দ্রুত বিচার ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানায়। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও আইন মন্ত্রীর সঙ্গে সংগঠনের প্রতিনিধি দলের জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট ড. জে. কে. পাল। বক্তব্য দেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান, মণীন্দ্র কুমার নাথ, ড. মোহাম্মদ আব্দুল হাই, অ্যাডভোকেট জিতেন্দ্র বর্মন ও জয়া বর্মন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন অ্যাডভোকেট শঙ্কর চন্দ্র দাস।

Saturday, July 25, 2026

July 25, 2026

বাবার লাশ সৎকার না করেই যুদ্ধে গিয়েছিলেন যে নারী

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বলতেই সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে অস্ত্রের গর্জন, রণাঙ্গনের বারুদ আর উদাম গায়ের একদল তরুণ মুক্তিযোদ্ধার ছবি। কিন্তু এই সংঘাতের একটা নীরব অধ্যায়ও ছিল, যা লেখা হয়েছিল ফিল্ড হাসপাতাল আর শুশ্রূষাকেন্দ্রে। রণাঙ্গনের বাইরে জীবন বাঁচানোর সেই অলিখিত যুদ্ধে যারা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছিলেন, রাজবাড়ীর শিবরামপুর গ্রামের ইরা কর তাঁদেরই একজন।
১৯৭১ সালের ৫ মে ইরা করের জীবনে সবকিছু উলটপালট হয়ে যায়। দিনের আলোতেই বিহারী ও স্থানীয় রাজাকাররা তাঁর বাবা জিতেন্দ্র নাথ করকে হত্যা করে। বাবার লাশ সৎকার করার মতো ন্যূনতম সুযোগটুকুও পায় নি পরিবারটি। বাধ্য হয়েই সব হারিয়ে তাঁরা পা বাড়ান অনিশ্চয়তার পথে; টানা নয় দিন হেঁটে কোনোমতে পৌঁছান ভারত সীমান্তে।
সীমান্তে পৌঁছে দূরসম্পর্কের এক স্বজনের সহায়তায় ইরা ও তাঁর বড় বোন গীতা কর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম তালিকাভুক্ত করেন। নারী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য তৈরি 'গোবরা শিবির'-এর প্রথম যে পাঁচজনকে নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল, এই দুই বোন ছিলেন তাঁদের অন্যতম। স্বজন হারানোর বেদনা আর দেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন বুকে নিয়েই শুরু হয় তাঁদের এই নতুন লড়াই।
পরবর্তীতে বিভিন্ন শরণার্থী শিবির থেকে আরও নারী এসে এই ক্যাম্পে যুক্ত হতে থাকেন। ইরা করের ভাষায়, সেখানে জমা হয়েছিল “৪০০ মেয়ে, ৪০০ রকমের জীবনের গল্প।” শিরিন বানু মিতিল, লায়লা পারভীন বানু, খাদিজা আখতার কিংবা মনিকা ব্যানার্জির মতো ব্যক্তিত্বরা উঠে এসেছিলেন এই আঙিনায়। সেখানে শুধু অস্ত্র চালানো বা ক্রলিং শেখানো হতো না; চলত গোয়েন্দাগিরি ও রণাঙ্গনের প্রাথমিক চিকিৎসার নিবিড় প্রশিক্ষণ।
প্রশিক্ষণের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ইরা কর জানান, ২ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের কার্যক্রম শুরু হয়। পরিধেয় হিসেবে একটি ধুতি, আর নিত্যব্যবহারের জন্য একটি মগ ও টিনের থালা—এটুকুই ছিল সম্বল। নিরাপত্তা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে রাতে আলো জ্বালানো কিংবা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর ছিল কড়া নিষেধাজ্ঞা। যাদবপুর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা সেখানে প্রশিক্ষণ দিতে আসতেন। ফরাসি বা কিউবান বিপ্লবের মতো বিশ্বের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের গল্প শুনিয়ে তাঁদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখা হতো।
প্রশিক্ষণ পর্ব শেষে তাঁদের হাতে মাত্র ১০ টাকা দিয়ে ১৫ জনের একটি দলকে ট্রেনে তুলে দেওয়া হয় আগরতলা সীমান্তের উদ্দেশে। নানা অসংগতি আর পথভুল পেরিয়ে একসময় তাঁরা যুক্ত হন ঐতিহাসিক বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালে। সেখানে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম, ডা. এম. এ. মবিন, ডা. নাজিম ও ডা. মোর্শেদের মতো চিকিৎসকরা তাঁদের স্বাগত জানান এবং সরাসরি চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত করেন। সেখানেই ইরা কর পাশে পান সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, নিলীমা বৈদ্য, বাসনা চক্রবর্তী ও পদ্মা রহমানের মতো সহযোদ্ধাদের।
দিন যত গড়াচ্ছিল, রণাঙ্গন থেকে আসা আহতদের সংখ্যা ততই বাড়ছিল। কারো হাত নেই, কারো পা উড়ে গেছে—এমন সব বিভীষিকাময় দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হতো প্রতিদিন। অথচ শারীরিক যন্ত্রণা ছাপিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের চোখে মুখে ছিল স্বাধীন স্বদেশের এক অবাস্তব সুন্দর স্বপ্ন। একটু সুস্থ বোধ করলেই তাঁরা আবার রণাঙ্গনে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতেন। মৃত্যু যেখানে একদম নিকটবর্তী, সেখানেও অদম্য মনোবল ধরে রাখতে এই স্বেচ্ছাসেবীরা আহতদের দেশাত্মবোধক গান গেয়ে শোনাতেন।
১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও ইরা ও গীতা কর তড়িঘড়ি করে ফিরতে পারেননি। তখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বহু আহত যোদ্ধা। তাছাড়া এতদিন পরিবারের কোনো খবরও তাঁদের জানা ছিল না। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তাঁদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, দেশ স্বাধীন হলেও পুনর্গঠনের লড়াই কেবল শুরু। অবশেষে ১৯৭২ সালের ১৬ জানুয়ারি কুমিল্লার সোনামুড়া সীমান্ত দিয়ে স্বাধীন দেশে পা রাখেন দুই বোন।
রাজবাড়ীর নিজ ভিটায় ফিরে দেখেন ভিটেমাটি একবারে উজাড়। ঘরবাড়ি ভাঙাচোরা, আর তার মধ্যেই কোনোমতে মাথা গুঁজে আছেন পরিবারের ১২ জন সদস্য। বাবা ও কাকা নিহত হওয়ায় আয়ের কোনো পথ ছিল না; দুবেলা দুমুঠো অন্ন সংস্থান করাই তখন এক পর্বতসম চ্যালেঞ্জ।
যে নারী একাত্তরে বাবার শেষকৃত্যটুকু করার সুযোগ পাননি, তিনিই দেশের প্রয়োজনে নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু সঁপে দিয়েছিলেন আহত যোদ্ধাদের সেবায়। ইতিহাসে এই নীরব সেিক্সটর ও তাঁর নিঃশব্দ আত্মত্যাগ চিরকাল গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


 

July 25, 2026

কারও কথায় কান দেবেন না, বিএনপি আপনাদের নিরাপত্তা দেবে

 ঢাকার ধামরাই পৌর এলাকার কায়েতপাড়া রথখোলায় শ্রী শ্রী যশোমাধবের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার উল্টো রথ উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, অধিকার ও বিচার নিশ্চিত করবে। তিনি সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বলেন, ‘কারও কথায় কান দেবেন না। আপনারা যেন ন্যায্য পাওনা পান, সে ব্যবস্থা বিএনপি করবে।’

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে উল্টো রথ টানের মধ্য দিয়ে প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজন কান্তি সরকার বলেন, ‘অনেকে এসে বলে থাকেন, আপনাদের নিরাপত্তা হবে না, আপনারা এ দেশে থাকতে পারবেন না। আজ আমরা এসেছি সেই কথা মিথ্যা প্রমাণ করতে। আপনারা বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন, এখন বিএনপির পালা। আপনারা শিক্ষা, হাসপাতাল, চাকরি, সব জায়গায় ন্যায্য অধিকার পাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বকশিশ চাই না, হিসাবের পাওনা চাই। সনাতনী, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাই।’

উল্টো টানে শেষ হলো রথযাত্রা

গত ১৬ জুলাই যশোমাধবকে নিজ মন্দির থেকে মাসির বাড়িতে নেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এ বছরের রথযাত্রা। শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে শুরু হওয়া এই উৎসবের আট দিন পর শুক্রবার উল্টো রথ টেনে যশোমাধবকে আবার কায়েতপাড়া রথখোলায় ফিরিয়ে আনেন ভক্তরা। এ সময় নারী-পুরুষের ঢল নামে রথের পথে এবং ভক্তরা চিনি ও কলা ছিটিয়ে ভক্তি নিবেদন করেন।

রথযাত্রা শেষ হলেও ধামরাই পৌর এলাকায় মাসব্যাপী মেলা চলবে, যেখানে খাবার, প্রসাধনী, খেলনা ও নিত্যপণ্যের প্রায় দুই শতাধিক দোকান বসেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ। সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ মন্দির কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাস। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিক।

জগন্নাথ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিক বলেন, ‘উল্টো রথের মধ্য দিয়ে এ বছরের রথযাত্রা শেষ হলো। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজন সফল হয়েছে। মাসব্যাপী মেলা চলবে।’

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন জানান, পুরো আয়োজন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।


 

"
"