কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Saturday, June 13, 2026

June 13, 2026

রাঙামাটির পাহাড়ধসের ৯ বছর: এখনো মাটির নিচে চাপা পড়ার আতঙ্ক, থামেনি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি

"ছেলেদের লাশ দুটো যখন কাঁধে নিলাম, মনে হলো পাহাড়টাই আমার কাঁধে উঠে গেছে"— নয় বছর আগের পাহাড়ধসের সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় রাঙামাটির বাদল দত্তকে। ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাতে টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে পড়েছিল তাঁর ঘরের ওপর। সেনাবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার পেলেও মাটির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছিল দুই ছেলে। স্বামী বাদল কোনো রকমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও স্ত্রী ভুলু রানী দুই সন্তানের শোকে এখনো পাথর।
শুধু বাদল দত্তের পরিবার নয়, ওই দিনের ভয়াবহতায় শুধু রাঙামাটিতেই প্রাণ গিয়েছিল ১২০ জনের। বৃহত্তর চট্টগ্রামে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৫৮। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল প্রায় ছয় হাজার ঘরবাড়ি, ১৪২টি স্থানে ঘটে পাহাড়ধসের ঘটনা। কিন্তু এত বড় দুর্যোগের পরও শিক্ষা মেলেনি। এখনো শহরের বিভিন্ন পাহাড়ের ঢালে চলছে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি।
ওই দিন সকালের কথা মনে করে বাদল দত্ত বলেন, "হঠাৎ বিকট শব্দ। ঘুম ভেঙে দেখি, পাহাড় এসে পড়েছে ঘরের ওপর।" মাটির নিচে চাপা পড়েছিলেন স্ত্রী-সন্তানসহ। পরে বড় ছেলেকে দুই দিন ও ছোট ছেলেকে তিন দিন পর মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়, তবে প্রাণ ফিরে আসেনি।
পাহাড়ধসের ওপর গবেষণা করা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ইকবাল সরোয়ারের মতে, শুধু অতিবৃষ্টিই নয়, পাহাড়ের বালুময় মাটি, সড়ক নির্মাণে নির্বিচার পাহাড় কাটা, বন উজাড় ও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি জনসংখ্যার চাপেই ওই দুর্যোগ ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। এখনো পাহাড় কাটা ও বন উজাড় বন্ধ না হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, পাহাড়ের সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে স্থাপনা বন্ধ এবং আগাম পূর্বাভাস ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
শহরের পশ্চিম মুসলিম পাড়ায় ৯ বছর আগে ২০টি পরিবার থাকলেও এখন তা বেড়ে ৬০টিতে পৌঁছেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা আলিম উদ্দিন। নুরুন্নাহার বেগমের মতো অনেকে জানিয়েও বলেন, "ঘর-সংসার ফেলে যাব কোথায়? তাই ঝুঁকি জেনেও থাকি।" অথচ প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী, এখনো পৌরসভায় অন্তত ২৯টি পাহাড়ি ঢাল ভূমিধস-ঝুঁকিপূর্ণ। বছরের এই সময়ে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লেই বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবুও থামছে না ঝুঁকিপূর্ণ বসতি।
June 13, 2026

ঝালকাঠির ঐতিহাসিক বারচালা নাটমন্দির ভেঙে ভবন নির্মাণের উদ্যোগে উদ্বেগ

ঝালকাঠি শহরের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজ জয় নারায়ণ ঘোষালের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বারচালা বা নাটমন্দির ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে ঘিরে শহরে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বহু ঐতিহাসিক ঘটনা ও রাজনৈতিক সমাবেশের সাক্ষী এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
সনাতন ধর্মীয় স্থাপত্যে নাটমন্দির হলো মূল মন্দিরের সামনের উন্মুক্ত মণ্ডপ, যা একসময় নৃত্য-সংগীত, কীর্তন, যাত্রাপালা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের কেন্দ্র ছিল। স্থানীয়দের মতে, ঝালকাঠির এই বারচালা নাটমন্দিরটি শুধু উপাসনালয়ই নয়, এটি শহরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন সময়ে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, মাওলানা ভাসানী, সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসসহ বহু কীর্তিমান নেতা এখানে সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, এত ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন একটি স্থাপনা ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কী এবং তা কার স্বার্থে করা হচ্ছে? তারা বলছেন, স্থাপনাটি জরাজীর্ণ হয়ে থাকলে সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হোক, ধ্বংস নয়। তাদের মতে, পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন, ১৯৬৮-এর আওতায় এমন স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
স্থানীয় বাসিন্দারা শহরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায় বারচালা নাটমন্দির ভাঙার উদ্যোগ বন্ধ করে দ্রুত সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
June 13, 2026

আম্পানে সব হারিয়ে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিরা মণ্ডল

কপোতাক্ষ নদের পাশে কাশির হাটখোলায় ছোট্ট এক মিষ্টির দোকান। কাচের বাক্সে সাজানো রসগোল্লা, চমচম, কালোজামের পাশে দোকান সামলাচ্ছেন হিরা মণ্ডল (৩০)। ছয় বছর আগের ভয়াবহ সেই ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি মনে করেই হেসে বললেন, "নতুন করে শুরু করছি সব।"
হিরার এই দোকান শুধু মিষ্টি বিক্রির জায়গা নয়, এটি এক তিক্ত সংগ্রামের প্রতীক। খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাশির হাটখোলা একসময় কপোতাক্ষ নদের ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। সেই হাটে হিরা ও তার স্বামী বিশ্বজিৎ মণ্ডলের ছিল ছোট্ট মিষ্টির দোকান আর বসতভিটা। স্বপ্ন ছিল, একদিন দোকানে ছানার রসগোল্লা, সন্দেশও বিক্রি হবে।
কিন্তু ২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পান কপোতাক্ষের সেই স্বপ্ন কেড়ে নেয়। প্রবল বাতাসে উড়ে যায় টিনের চাল, ভেঙে পড়ে দোকানের বেড়া। নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যায় ভিটেমাটি।
হিরা স্মৃতিচারণ করে বলেন, "চোখের সামনে সব শেষ হইয়ে গেল। মেয়েডারে নিয়ে শুধু প্রাণটা বাঁচাইছিলাম।" পাঁচ বছরের মেয়ে পূজাসহ পরিবার আশ্রয় নেয় বেড়িবাঁধের ওপর। সেখানেই তাঁবু খাঁটিয়ে চলে অনিশ্চিত জীবন।
সব হারানোর পর হিরা থেমে থাকেননি। স্বামী ভ্যান চালালেও সংসার চালাতে তিনি নেমে পড়েন কপোতাক্ষের নোনা পানিতে, নেট দিয়ে ধরতেন বাগদার পোনা। কিন্তু মনের ভেতর মিষ্টির দোকানের স্বপ্নই বড় হয়ে ফিরে আসে। সমস্যা ছিল, তিনি ছানার মিষ্টি বানাতে জানতেন না। তাই একদিন পাশের এলাকার এক প্রবীণ কারিগরের কাছে গিয়ে বিনা পয়সায় কাজ শেখার প্রস্তাব দেন। হিরার ভাষায়, "উনি বললেন, টাকা দিতি পারব না। আমি বললাম, টাকা লাগবি না, শুধু কাজ শিখাই দেন।" সেভাবেই শেখা হয় রসগোল্লা, চমচম, কালোজাম তৈরির কৌশল।
গত বছর আবার দোকান গড়ে তোলেন তারা। এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করা এই দোকানে এখন স্বামী-স্ত্রী মিলেই কাজ করেন। প্রতি মাসে কিস্তি তিন হাজার টাকা। হিরা বলেন, "যেদিন বিক্রি কম, সেদিন গাঙে নামতি হয়। স্বামীও মাঝেমধ্যি দিনমজুরি করে। বসে থাকলি চলে না।"
কিন্তু নতুন দুশ্চিন্তা এখন তার বুকে ধরা পড়া টিউমার। বললেন, "ওষুধ শেষ, আবার ডাক্তার দেখাতি হবে।" পাশাপাশি খাসজমিতে গড়া এই ঘরদোর যে কোনো দিন সরাতে হতে পারে, সেই আতঙ্কও তাড়া করে বেড়ায়।
তবু স্বপ্নপূরণের আশায় বুক বেঁধেছেন হিরা। তার ইচ্ছা, সন্তানেরা যেন লেখাপড়া শিখে তার মতো কষ্ট না করে। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে পাশে পাওয়া মানুষের ভালোবাসার কথাও ভোলেননি তিনি। বলেন, "মেয়ের জন্মের সময় সবাই— হিন্দু-মুসলমান— এগিয়ে আসছিল।"
স্থানীয় শিক্ষক মিহির কান্তি মণ্ডল বলেন, "কপোতাক্ষ হিরার সব কেড়ে নিয়েছে, তবু তিনি থেমে যাননি। তার দোকান এখন শুধু জীবিকা নয়, দুর্যোগে মাথা তোলার এক নারীর প্রতীক।"

Friday, June 12, 2026

June 12, 2026

রাধাগোবিন্দ মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকিতে ঐক্য পরিষদের উদ্বেগ, উসকানিদাতাদের বিচার দাবি

গাইবান্ধার রাধাগোবিন্দ মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। একইসঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকার, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নির্মল রোজারিওর সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় নেতা মনীন্দ্র কুমার নাথের পরিচালনায় সভায় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দেশের প্রায় ৫০টি জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা আলোচনায় অংশ নেন। এছাড়া ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, ঊষাতন তালুকদার, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কাজল দেবনাথ, মিলন কান্তি দত্ত, রঞ্জন কর্মকারসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর ঐক্য পরিষদের একাদশ জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে সারা দেশে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার করা হবে বলেও জানান নেতারা। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৭ ও ৮ জানুয়ারি সংগঠনটির দশম ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
June 12, 2026

‘একই আকাশ, একই বাতাস’ বার্তা দিয়ে ঢাকায় পৌঁছালেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ‘ভালোবাসা ও আন্তরিকতা দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব’— এমন বার্তা দিয়ে আজ শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছেছেন। সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে স্ত্রী মিনাল ত্রিবেদীসহ তিনি ঢাকায় আসেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতায় নেতাজি ভবন পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমার একমাত্র অগ্রাধিকার বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক। আমরা সবাই ভাই-বোন। আমাদের অভিন্ন সীমান্ত, কিন্তু স্বপ্নও অভিন্ন। একই আকাশ, একই বাতাস, একই যন্ত্রণা। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা, তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের ২০ কোটি ও ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ— এই ১৬০ কোটিই আমাদের ভাই-বোন, তাদের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নেতাজির আশীর্বাদ, ভারতের মানুষের শুভকামনা ও বাংলাদেশের সমর্থন আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।”
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে লেটার্স অব ক্রিডেনশিয়ালস গ্রহণ করেন ত্রিবেদী। এপ্রিলে তার নিয়োগ ঘোষণার পর থেকেই এটি গুরুত্ব পায়, কারণ তিনি একজন পেশাদার কূটনীতিক নন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বিজেপির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির পরিচিত মুখ ত্রিবেদী ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হলেন। বাংলা ভাষায় সাবলীল ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি-সংস্কৃতির গভীর জ্ঞানের অধিকারী হওয়ায় তাকে ঘিরে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছান তিনি। আগমন উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রোটোকলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এখন ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্রিডেনশিয়ালস পেশের পর পুরোদমে মিশন শুরু করবেন দীনেশ ত্রিবেদী। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দিল্লি একজন রাজনীতিককে পাঠিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে চাইছে।
June 12, 2026

নবাবগঞ্জে ঈদের দিন নিখোঁজ মিস্ত্রির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির ঈদের দিন মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ নারায়ণ সরকার (৫০) নামে এক থাই গ্লাস মিস্ত্রির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাতদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার নিকড়া চক এলাকার আড়িয়াল বিলের একটি ডাঙার পাশ থেকে মরদেহটি পানিতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।
পরিবার সূত্র জানায়, নারায়ণ সরকার ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় কাজ করতেন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরেন। ঈদের দিন সকালে স্থানীয় জগদীশ সরকারের সঙ্গে নিকড়ার বিলে মাছ ধরতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে পরদিন তার স্ত্রী চম্পা রাণী সরকার নবাবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগ এনে দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি।
নিখোঁজের সাতদিন পর বৃহস্পতিবার স্বজনরা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে আবারও বিলে খোঁজতে গেলে নিকড়া চকের একটি ডাঙার পাশে জমে থাকা পানিতে নারায়ণের মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে পুলিশ গিয়ে সেটি উদ্ধার করে।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি মো. আবু হানিফ জানান, মরদেহের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক নেমে এসেছে, স্বজনরা দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

June 12, 2026

গাইবান্ধায় বিশ্বের বৃহত্তম রামমূর্তি নির্মাণ স্থগিত, সম্প্রীতি রক্ষায় সিদ্ধান্ত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন বিশ্বের বৃহত্তম শ্রীরামের মূর্তির কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মন্দিরের উপদেষ্টা শ্রী শ্যামল কুমার মহন্ত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, "সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। এই সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থেই রামমূর্তি নির্মাণের কাজ সাময়িক স্থগিত করা হলো। তবে শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে।"
সম্প্রতি মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসের অতীত কর্মকাণ্ড ও অর্থের উৎস নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। রামমূর্তি নির্মাণ বন্ধের পাশাপাশি এ প্রকল্পে বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন আছে কি না, তা তদন্তের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয় ইমাম উলামা পরিষদ।
এরই প্রেক্ষাপটে মন্দির কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মন্দির কমিটি বলছে, সামাজিক সম্প্রীতি অটুট রাখাই তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
June 12, 2026

মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির-সংলগ্ন পাহাড় ‘মিনি কাশ্মীর’ নয়, দেবোত্তর সম্পত্তিতে পর্যটনকেন্দ্রের দাবি আইনসঙ্গত হবে না

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত আদিনাথ মন্দির সংলগ্ন কিছু পাহাড়কে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মিনি কাশ্মীর’ বা ‘নীল পাহাড়’ হিসেবে প্রচার করে সেখানে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি তোলা হচ্ছে। তবে স্থানীয় ও আইনগত সূত্র বলছে, এসব পাহাড় আদতে দেবোত্তর সম্পত্তি, যা পর্যটন বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পাহাড়গুলো প্রাকৃতিকভাবে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ, বিভিন্ন স্থানে গভীর খাদ রয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খাজনার বিনিময়ে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ঘাস ও শন সংগ্রহের জন্য এসব জমি ব্যবহার করছেন। বর্ষায় পাহাড় সবুজে ঢেকে গেলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ছবি-ভিডিও দেখে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন, দৌড়াদৌড়ি ও ছবি তুলছেন। এতে একদিকে লিজগ্রহীতাদের ফসল নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, জমিদার শরৎচন্দ্র রায় চৌধুরী ১৮৭৬ সালে এসব সম্পত্তি দেবোত্তর হিসেবে উৎসর্গ করেন। দেবোত্তর সম্পত্তি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নয়, বরং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে উৎসর্গকৃত। আইনজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত আইন ও উচ্চ আদালতের নীতিমালা অনুযায়ী, দেবোত্তর সম্পত্তির মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করে বিনোদন বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে এখানে সাধারণ পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট বা বিনোদন পার্ক করার দাবি দেবোত্তর সম্পত্তির মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
যদিও মন্দির-সংশ্লিষ্ট প্রবীণরা বলছেন, ধর্মীয় পরিবেশ ও সম্পত্তির চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখে তীর্থযাত্রীদের সুবিধায় যাত্রীনিবাস, নিরাপদ সিঁড়ি বা বিশ্রামাগারের মতো উন্নয়নমূলক কাজ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে, প্রয়োজনে মন্দির কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান লিজও পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আবেগনির্ভর প্রচারণার বদলে ইতিহাস, আইন ও সম্পত্তির প্রকৃত অবস্থান বিবেচনার পাশাপাশি দেবোত্তর সম্পত্তির ধর্মীয় মর্যাদা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং স্থানীয়দের জীবিকা— এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
June 12, 2026

খুলনা সিটি মেডিকেলে ভয়াবহ আগুন, জেনারেটর কক্ষ থেকে সূত্রপাতের ধারণা

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১৬ তলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হলে পুরো হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে রোগী ও স্বজনরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে থাকেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিচতলার জেনারেটর কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, যা পরক্ষণেই ওপরের তলাগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র ধোঁয়ায় হাসপাতাল চত্বরে হুড়োহুড়ি ও চিৎকারের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে হাসপাতালের সামনে উৎসুক জনতার ভিড় ও যানজটের কারণে আগুন নেভানোর কাজ শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অবস্থান করছেন।
এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়া হয়নি। আগুন লাগার কারণও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফায়ার সার্ভিসের অভিযান চলমান থাকায় পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

 

Thursday, June 11, 2026

June 11, 2026

পরিচয় মিলল পুশইনের শিকার সেই বৃদ্ধের

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত পুশইনের শিকার ষষ্টি চন্দ্র বর্মন (৭০) নামের ওই বৃদ্ধ বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রায় ২৪ ঘণ্টা নো-ম্যানস ল্যান্ডে কাটানোর পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বিজিবি তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে পাঠিয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের সামনে শূন্যরেখা এলাকা থেকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চান্দলাই গ্রামের বাসিন্দা। ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তার স্বজনরা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরিচয় যাচাই শেষে উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এর আগে কামালপুর সীমান্তে বৃদ্ধকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা, বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা সীমান্তজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন জানান, বৃদ্ধের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। স্বজনরা রাজশাহী থেকে ইতোমধ্যে রওনা দিয়েছেন। তারা পৌঁছালে যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"
"