কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, July 20, 2026

July 20, 2026

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, মা-মেয়ে আহত

পটুয়াখালী, ২০ জুলাই ২০২৬: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাকড়াবুনি ইউনিয়নের দক্ষিণ গাবুয়া গ্রামে জমি-বিরোধের জেরে এক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে একদল দুর্বৃত্ত ওই পরিবারের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘর ভাঙচুর করে এবং মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে পরিবারের মা ও মেয়ে গুরুতর আহত হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আহত মা ও মেয়েকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখাতে দেখা যায়। ভিডিওতে তারা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে এবং তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পরিবারটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী মহল তাদের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল। বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হলেও তারা জমি ছাড়তে রাজি হননি। এরই ধারাবাহিকতায় সংঘবদ্ধভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং বিভিন্ন মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যায়, যাতে পরিবারের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বাধা দিতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও মেয়ের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়।

ঘটনার পর থেকে দক্ষিণ গাবুয়া গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তারা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিচার এবং নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা চেয়েছেন। তারা কোনো প্রতিশোধ না চেয়ে শুধু আইনের আশ্রয় চান বলে জানিয়েছেন।

প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত এ ঘটনায় মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
July 20, 2026

আজ শ্রাবণের প্রথম সোমবার: মহাদেবের আরাধনায় মুখর মন্দির প্রাঙ্গণ

আজ পবিত্র শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনটি অত্যন্ত শুভ ও মহিমান্বিত। দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার জন্য শ্রাবণ মাসকে বছরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে শ্রাবণের প্রতিটি সোমবার—যা ‘শ্রাবণ সোমবার’ নামে পরিচিত—ভক্তদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

শাস্ত্র মতে, এই মাসে ভগবান শিবের পূজা-অর্চনা, উপবাস ও জলাভিষেক করলে ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ হয় এবং সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, সমু্র মন্থনের সময় সৃষ্ট ‘হালাহল’ বিষ পান করে দেবতা ও মানবজাতিকে রক্ষা করেছিলেন মহাদেব। সেই বিষপানের ফলে তাঁর কণ্ঠ নীলবর্ণ ধারণ করে এবং তিনি ‘নীলকণ্ঠ’ নামে পরিচিত হন। কথিত আছে, মহাদেবের শরীরের তাপ প্রশমিত করতে দেবতারা তাঁর মাথায় অবিরাম জল ঢেলেছিলেন—যার স্মরণে আজও শ্রাবণ মাসজুড়ে শিবলিঙ্গে জল, দুধ, মধু ও দই অর্পণের রীতি পালিত হয়।

হিন্দু শাস্ত্রে সোমবারকে চন্দ্রের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। চন্দ্র মানুষের মন, আবেগ ও মানসিক স্থিতির প্রতীক। মহাদেবের জটাজুটে অর্ধচন্দ্র শোভা পায় বলেই সোমবার তাঁর পূজা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

আজ ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন শিবমন্দিরে ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। স্নান করে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করে ভক্তরা মন্দিরে গিয়ে পূজা-অর্চনা করছেন। শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল, দুধ, মধু, দই ও ঘি দিয়ে অভিষেক করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেলপাতা, ধুতুরা, আকন্দ ফুল, চন্দন ও ফলমূল নিবেদন করছেন তারা। পূজার সময় ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ এবং ‘মহামৃত্যুঞ্জয়’ মন্ত্র জপের মধ্য দিয়ে মহাদেবের আশীর্বাদ কামনা করা হচ্ছে।

শ্রাবণ সোমবারের উপবাস শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির প্রতীকও। অনেক ভক্ত এই দিনে নির্জলা বা ফলাহার উপবাস পালন করেন এবং সন্ধ্যায় নিরামিষ আহারের মাধ্যমে ব্রত সম্পন্ন করেন। অবিবাহিত নারী-পুরুষরা মনের মতো জীবনসঙ্গী লাভের আশায় এই ব্রত পালন করেন, আর বিবাহিত দম্পতিরা পরিবারের সুখ-শান্তি কামনায় মহাদেবের শরণাপন্ন হন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, শ্রাবণের প্রথম সোমবার নিষ্ঠাভরে মহাদেবের আরাধনা করলে জীবনের দুঃখ-কষ্ট, রোগ-শোক ও নেতিবাচকতা দূর হয়। আজকের এই পবিত্র দিনে দেশ-বিদেশের কোটি কোটি ভক্ত উপবাস, পূজা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দেবাদিদেবের আশীর্বাদ কামনা করছেন। “হর হর মহাদেব” ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ ও পূজামণ্ডপ।


 

Sunday, July 19, 2026

July 19, 2026

ভোলার লালমোহনে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা: আহত ২, লুটপাটের অভিযোগ

ভোলা, ১৮ জুলাই ২০২৬: ভোলার লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উরন সাধু বাড়ি এলাকায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার গোপাল কৃষ্ণ দাস (৪২), তার পিতা ওরন চন্দ দাস এবং স্ত্রী আখি রানি দাস (৩৩) বর্তমানে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে শনিবার সকালে আবু কালামের নেতৃত্বে একটি দল তাদের জমিতে জোরপূর্বক চাষ দিতে গেলে তারা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবু কালাম, জাহিদ, কামাল মাঝি, শফিকসহ প্রায় ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা গোপাল কৃষ্ণ দাস ও তার স্ত্রীকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন এবং একটি মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন। পরে ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে নগদ ৬ হাজার টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

গোপাল কৃষ্ণ দাস দাবি করেন, অভিযুক্তরা এর আগে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা (মামলা নং-৬১৬, তারিখ: ১ ডিসেম্বর ২০২৫) করেছিলেন, তবে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেওয়ায় অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

অভিযুক্ত আবু কালাম ও অন্যদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকে তারা পালাতক রয়েছেন।

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
July 19, 2026

মানিকগঞ্জ ও সাটুরিয়ায় নির্মিত হবে দুটি মডেল মন্দির ও শ্মশানঘাট: পর্যটনমন্ত্রী

মানিকগঞ্জ, ১৮ জুলাই ২০২৬: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানিকগঞ্জের মানুষ সবসময় ঐক্যবদ্ধ। এখানকার সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য অন্যান্য জেলায় খুব কমই দেখা যায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রয়োজনীয় উন্নয়নে মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়ায় দুটি মডেল মন্দির ও শ্মশানঘাট নির্মাণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মানিকগঞ্জ শহরের শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দিরে রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, "নির্বাচনের সময় মানিকগঞ্জবাসী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমার পাশে ছিল। তাদের ভালোবাসায় আজ আমি এ পর্যায়ে এসেছি। ৫ আগস্টের পরও আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে ছিলাম। এ জেলায় কোনো ভেদাভেদ নেই—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করছি।"

মন্ত্রী আরও বলেন, "বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে জনজীবনের মানোন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছেন।"

তিনি জানান, গত ১৭ বছরে মানিকগঞ্জে তেমন কোনো উন্নত মন্দির বা শ্মশানঘাট নির্মিত হয়নি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছ থেকে এসব সমস্যার কথা শুনে মানিকগঞ্জ ও সাটুরিয়ায় দুটি মডেল মন্দির ও শ্মশানঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাদের প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোজের জন্য ব্যক্তিগতভাবে এক লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে মন্দির কমিটির সভাপতি ডা. উমেশ চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ সরকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম, জেলা বিএনপি নেতা জহির আলম খান লদী, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতা মিঠু রবিদাসসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেতাকর্মীরা।


 

Saturday, July 18, 2026

July 18, 2026

হরিদাস চন্দ্র তরণীর মুক্তির দাবিতে ঐক্য পরিষদের প্রতিবাদ সমাবেশ

ঢাকা, ১৮ জুলাই ২০২৬: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের সভাপতি হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এই সমাবেশে নেতারা তাঁর তাৎক্ষণিক মুক্তি দাবি করেন। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় ঘুরে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, মন্দিরটি দীর্ঘদিন নির্মাণাধীন ছিল এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা কয়েকবার তা পরিদর্শন করেছেন। এরপরও হঠাৎ করে মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, হুন্ডির মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে করা একটি মামলায় গত ১২ জুলাই রোববার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির অভিযোগ, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক উৎস থেকে বিপুল অর্থ জমার তথ্য পাওয়া গেছে। পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

ঐক্য পরিষদের নেতা মনীন্দ্র কুমার নাথ অভিযোগ করেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের প্রায়ই গ্রেপ্তার করা হয়, অথচ যারা সংখ্যালঘুদের ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তিনি সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসেরও মুক্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর জামিন নামঞ্জুর হলে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী নিহতের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
July 18, 2026

তৃষ্ণার্ত পুণ্যার্থীদের পানি বিলিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত চট্টগ্রামের আরমানের

চট্টগ্রাম, ১৮ জুলাই ২০২৬: ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও বিভেদের খবরের মাঝে চট্টগ্রামের জামালখান মোড়ে দেখা গেল মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রথযাত্রা উৎসবে অংশ নেওয়া শত শত ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে সুপেয় পানির বোতল বিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন আরমান হোসেন নামের এক মুসলিম যুবক।

আরমান হোসেন পেশায় একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী এবং চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ফিরিঙ্গি বাজারের জনপ্রিয় ‘ওরশ বিরানি’র উদ্যোক্তা।

গতকাল (১৭ জুলাই) জামালখান মোড়ে রথযাত্রার উৎসবে প্রচণ্ড গরমে পুণ্যার্থীরা যখন তৃষ্ণায় ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন, তখন আরমান নিজের উদ্যোগে পানির বোতল নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান। ধর্ম-বর্ণের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি তৃষ্ণার্ত মানুষের হাতে পানি তুলে দেন—যেখানে প্রধান পরিচয় ছিল মানুষের প্রয়োজন, না ধর্মীয় পোশাক বা পরিচয়।

এই মানবিক মুহূর্তের একটি ভিডিও গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত ভাইরাল হয়। অসংখ্য নেটিজেন তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে মন্তব্য করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিলয় চক্রবর্তী নামের এক ব্যক্তি প্রথম ঘটনাটি তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন, “তৃষ্ণার্ত হিন্দু পুণ্যার্থীদের জল বিতরণের এই দৃশ্য বাংলাদেশের প্রকৃত সৌন্দর্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও আরমানের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে—সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবতাই শ্রেয়।

এই মানবিক কাজের জন্য চট্টগ্রামের সাধারণ নাগরিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা আরমান হোসেনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। নেটিজেনদের একটাই সুর—‘মানুষ মানুষের জন্য, জয় হোক মানবতার।’
July 18, 2026

.পিরোজপুরের রায়য়েরকাঠি শিব মন্দির: চারশ বছরের সনাতনী ঐতিহ্যের মহাতীর্থ

পিরোজপুর, ১৮ জুলাই ২০২৬: পিরোজপুর সদর উপজেলার রায়য়েরকাঠি গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ির মঠ ও মন্দির কমপ্লেক্সটি সনাতনী ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। মোঘল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে তৎকালীন ভাটিয়াল রাজা রুদ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী প্রায় ২০০ একর জমির ওপর এই মন্দির কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন, যা প্রায় চারশ বছরের পুরোনো।

এই কমপ্লেক্সের প্রধান আকর্ষণ হলো প্রায় ২৫ মণ (১,০০০ কেজির বেশি) ওজনের কষ্টিপাথরের বিশাল শিবলিঙ্গ, যা উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিবলিঙ্গ হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও ১৬৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পঞ্চমুণ্ডি কালিমন্দির এবং প্রায় ৭৫ ফুট উচ্চতার ১১টি প্রাচীন মঠ এই স্থাপনাটিকে ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

প্রতি বছর দুর্গাপূজা, শিবপূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটে এই তীর্থস্থানে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মন্দির কমপ্লেক্সটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায় ও ইতিহাসপ্রেমীরা এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রায়য়েরকাঠি শিব মন্দির কমপ্লেক্স শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং চার শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলের সনাতনী সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
July 18, 2026

ভূতনাথ ধামে দুর্বৃত্তদের হামলা, মূর্তি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

নওগাঁ, ১৮ জুলাই ২০২৬: নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের শিকারপুর সোনাপুর বেলী ব্রিজ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ভূতনাথ ধামে দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাতে একদল দুর্বৃত্ত ধামে প্রবেশ করে ভূতনাথ বাবার মূর্তি ভাঙচুর ও দানবাক্স ভেঙে নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তরা জানান, সকালে ধামে এসে তারা ভাঙচুরের চিত্র দেখতে পান। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করতে শুরু করে।

এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ ধরনের হামলাকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তারা ধামের নিরাপত্তা জোরদার ও ক্ষতিগ্রস্ত ধাম পুনরুদ্ধারে সহায়তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Wednesday, July 15, 2026

July 15, 2026

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে পারিবারিক মন্দুরে হামলা, প্রতুমা ভাঙচুর ও দানিাক্সের টাকা লুট

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বামনেরবাসা এলাকায় একটি পারিবারিক মন্দিরে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর এবং দানবাক্সে থাকা টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারের পারিবারিক মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনা হয়ে আসছিল। তবে সোমবার দিবাগত রাতে (১৩ জুলাই ২০২৬) অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মন্দিরে প্রবেশ করে সেখানে থাকা একাধিক প্রতিমা ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে এর ভেতরে থাকা নগদ অর্থ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন মন্দির-সংশ্লিষ্টরা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের খবর এতদিন শুনলেও তাদের এলাকায় এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। হঠাৎ করেই নিজেদের পারিবারিক মন্দিরে এ ধরনের হামলার ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত ও আতঙ্কিত। তাদের দাবি,

পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতেই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও এলাকাবাসী মন্দিরে ভিড় করেন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা বলেন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলার সাহস কেউ না পায়।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

July 15, 2026

বকেয়া টিউশনির টাকা চাইতেই শিক্ষিকার ওপর নৃশংস হামলা! মাথায় ১০ কোপ, বিচ্ছিন্ন হলো আঙুল।


কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বকেয়া টিউশনির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিঁথি সীমিতা নামে এক স্কুলশিক্ষিকার ওপর ভয়াবহ হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক ছাত্রীর মা প্রিয়া বেগম ঘরের দরজা বন্ধ করে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেন।

হামলায় শিক্ষিকার মাথায় একাধিক গুরুতর আঘাত লাগে এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত নারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

একজন শিক্ষকের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি সমাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং মূল্যবোধ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

"
"