দেশ
May 08, 2026
খাগড়াছড়িতে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় পরিবহন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একটি পুকুর থেকে কৃষ্ণ দে (৫২) নামে এক পরিবহন শ্রমিকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতের দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে তারা দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানালে খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত কৃষ্ণ দে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে চলাচলকারী একটি বাসের শ্রমিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন। সহকর্মী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণ ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো জীবিকার তাগিদে পরিবহন খাতে কাজ করেই পরিবারের দায়িত্ব পালন করতেন। হঠাৎ তার এমন মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে পুকুরের পাশে কয়েকজন পথচারী অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পান। কাছে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন পানিতে একটি মরদেহ ভাসছে। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
খাগড়াছড়ি সদর থানার এক কর্মকর্তা বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”
নিহতের সহকর্মীরা জানান, কৃষ্ণ দে নিয়মিত পরিবহন শ্রমিকের কাজ করতেন এবং বেশিরভাগ সময় বাসস্ট্যান্ড ও সড়ক এলাকাতেই কাটাতেন। তার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কৃষ্ণ দের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে যান। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাই এমন ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা বলেন, একজন সাধারণ শ্রমিকের মৃত্যু হলেও এর পেছনের কারণ উদঘাটন করা প্রয়োজন, যাতে কোনো অপরাধ ঘটে থাকলে দায়ীরা আইনের আওতায় আসে।
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি অঞ্চলে পরিবহন শ্রমিকদের জীবনযাপনও বেশ কষ্টসাধ্য। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় সড়কে কাজ করতে হয় তাদের। অল্প আয়ে পরিবার চালাতে গিয়ে নানা চাপের মধ্যেও থাকতে হয়। কৃষ্ণ দের মৃত্যু তাই শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং শ্রমজীবী মানুষের অনিরাপদ জীবনের বাস্তবতাকেও সামনে এনে দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আশপাশের এলাকা ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হবে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)