কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Friday, May 15, 2026

May 15, 2026

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে রাজনৈতিক কার্যক্রম ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগে ভক্তদের ক্ষোভ

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উপাসনালয় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক কার্যক্রম, নির্বাচনী প্রচারণা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগ উঠায় সাধারণ ভক্ত ও সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ঢাকেশ্বরী মন্দির শুধু একটি পূজার স্থান নয়, বরং এটি ধর্মীয় ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ মর্যাদা বহন করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মন্দিরের পবিত্র পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ভক্তদের অভিযোগ, মন্দির প্রাঙ্গণ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক সভা, দলীয় কর্মসূচি ও নির্বাচনী প্রচারণার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে গীতার বাণী সংবলিত স্থানে নির্বাচনী স্টিকার লাগানোর দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অনেক ভক্তের ভাষ্য, একটি জাতীয় মন্দিরের পরিবেশ সব ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য সমানভাবে শান্ত, পবিত্র ও নিরপেক্ষ থাকা উচিত। সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় প্রচারণা চললে সাধারণ দর্শনার্থী ও উপাসকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে ধর্মীয় শ্লোক বা পবিত্র স্থাপনার ওপর স্টিকার লাগানোর মতো ঘটনাকে তাঁরা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে দেখছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মন্দিরের কিছু অংশ অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা রাজনৈতিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, ধর্মীয় স্থানের আধ্যাত্মিক মর্যাদার চেয়ে আর্থিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হলে ভবিষ্যতে এর পবিত্রতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি–র ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অনেক সচেতন নাগরিক ও ভক্তদের দাবি, হিন্দু সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে ধর্মীয় স্থানের মর্যাদা রক্ষা করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর অবস্থান খুব একটা দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সাধারণ ভক্তরা মনে করছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিভাজনের ক্ষেত্র বানানো উচিত নয়। বরং এসব স্থান হওয়া উচিত প্রার্থনা, ধ্যান, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র। তাঁদের দাবি, জাতীয় মন্দিরে রাজনৈতিক সভা, দলীয় প্রচারণা ও বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
একই সঙ্গে মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসন, মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় সংগঠনগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন ভক্তরা। তাঁদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ঐক্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক চর্চাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার।
সনাতনী সমাজের একাধিক সদস্য বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঢাকেশ্বরী মন্দির দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে আছে। তাই এই স্থানের মর্যাদা রক্ষায় সব পক্ষকে সংবেদনশীল ও সতর্ক থাকা জরুরি।

 

May 15, 2026

৩৫-এর পর নারীদের শরীরে শুরু হয় নীরব হাড় ক্ষয়, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

হাড় ক্ষয়

৩৫-এর পর নারীদের শরীরে শুরু হয় নীরব হাড় ক্ষয়, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
ত্বকের যত্ন, ওজন নিয়ন্ত্রণ কিংবা হরমোনজনিত পরিবর্তন নিয়ে নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। তবে শরীরের ভেতরে নীরবে চলতে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এখনও অনেকটাই আলোচনার বাইরে থেকে যায়। সেটি হলো হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর নারীদের শরীরে ধীরে ধীরে হাড় ক্ষয় শুরু হয়। শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ না থাকায় অধিকাংশ নারী বিষয়টি বুঝতেই পারেন না। কিন্তু সময়মতো সচেতন না হলে ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
৩৫ বছরের পর থেকেই শুরু হয় পরিবর্তন
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নারীদের হাড়ের সর্বোচ্চ শক্তি বা ‘পিক বোন মাস’ সাধারণত ২০-এর শেষ ভাগ থেকে ৩০-এর শুরুর দিকে পৌঁছায়। এরপর ধীরে ধীরে শরীরে নতুন হাড় তৈরির তুলনায় হাড় ক্ষয়ের গতি বাড়তে শুরু করে।
ভারতের নয়াদিল্লির মণিপাল হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন Dr. Lalit Nemichand Bafna বলেন, অনেক নারীই ৩০-এর দশকে হাড়ের স্বাস্থ্য নিয়ে খুব একটা ভাবেন না। অথচ ৩৫ বছরের পর থেকেই শরীরে এমন পরিবর্তন শুরু হয়, যা ভবিষ্যতে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
তার মতে, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো শুরুতে এই পরিবর্তনের কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ থাকে না। ফলে দীর্ঘ সময় নীরবে হাড় দুর্বল হতে থাকে এবং পরে গিয়ে সেটি ব্যথা, দুর্বলতা বা হাড় ভাঙার মাধ্যমে ধরা পড়ে।
শুরুতে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাড় ক্ষয়ের প্রথম দিকের লক্ষণ অনেক সময় এতটাই সাধারণ হয় যে মানুষ গুরুত্বই দেয় না। যেমন—
উচ্চতা সামান্য কমে যাওয়া
মাঝেমধ্যে পিঠে ব্যথা
সামান্য আঘাত বা পড়ে গেলেই হাড় ভেঙে যাওয়া
দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকলে কোমর বা পিঠে অস্বস্তি
তবে এসব লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই অনেক ক্ষেত্রে হাড়ের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
অস্টিওপোরোসিস আসলে কী?
অস্টিওপোরোসিসকে সাধারণভাবে শুধু ‘হাড় দুর্বল হওয়া’ মনে করা হলেও এটি আসলে হাড়ের গঠনগত পরিবর্তন। স্বাভাবিক হাড়ের ভেতরের অংশ ঘন ও শক্ত থাকে। কিন্তু অস্টিওপোরোসিসে সেই কাঠামোর মধ্যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হতে থাকে। ফলে হাড় ধীরে ধীরে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং সহজেই ভেঙে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের আগে ও পরে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
নারীদের ঝুঁকি বেশি কেন?
চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ নারীদের হাড় দ্রুত দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
হরমোনের পরিবর্তন
ইস্ট্রোজেন হরমোন হাড়কে সুরক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করলে হাড়ের শক্তিও কমে যায়।
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি
অনেক নারী নিয়মিত ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান না। পাশাপাশি রোদে কম থাকার কারণে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও দেখা দেয়। এই দুটি উপাদান হাড় মজবুত রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘসময় বসে থাকা
বর্তমান নগরজীবনে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার প্রবণতা বেড়েছে। শারীরিক পরিশ্রম ও হাঁটাচলা কমে যাওয়ায় হাড় ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে।
গর্ভধারণ ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শরীর থেকে প্রচুর ক্যালসিয়াম ব্যবহার হয়। পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে তা দীর্ঘমেয়াদে হাড়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
যে পরীক্ষাটি অনেকেই দেরিতে করেন
হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করার জন্য ডেক্সা স্ক্যান করা হয়। এটি খুব সহজ ও ব্যথাহীন একটি পরীক্ষা। কিন্তু অনেক নারী মনে করেন, এটি শুধুমাত্র বয়স্কদের জন্য প্রয়োজন। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যা ধরা পড়ে দেরিতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকি থাকলে ৩৫ বছরের পর থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাড়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।
হাড় শক্ত রাখতে যা করবেন
চিকিৎসকরা বলছেন, বয়স বাড়লেও সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে হাড় ক্ষয়ের গতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এজন্য কিছু অভ্যাস নিয়মিত মেনে চলা জরুরি।
প্রতিদিন হাঁটা বা ব্যায়াম করা
ওজন বহনের ব্যায়াম ও স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করা
দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শাকসবজি ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
প্রতিদিন কিছু সময় রোদে থাকা
ধূমপান ও অতিরিক্ত কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতার আলোচনায় হাড়ের স্বাস্থ্যকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ এই সমস্যা নীরবে শুরু হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।

 

May 15, 2026

হারিয়ে যেতে বসেছে ইতিহাসের সাক্ষী ‘কুয়াকাটার কুয়া’

কুয়াকাটার কুয়া
‘সাগরকন্যা’ খ্যাত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা প্রতিদিনই টানে হাজারো পর্যটককে। সমুদ্রের গর্জন, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন এই সৈকত নগরীতে। তবে কুয়াকাটার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে, যা আজ অবহেলা আর অযত্নে হারিয়ে যেতে বসেছে। সেটি হলো বহু পুরোনো ঐতিহাসিক ‘কুয়াকাটার কুয়া’।
স্থানীয়দের মতে, ১৭৮৪ সালে রাখাইন সম্প্রদায়ের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে এই কূপ খনন করা হয়েছিল। সেই সময় উপকূলীয় এই অঞ্চলে মিঠা পানির সংকট ছিল তীব্র। তখন এই কুয়ার পানিই ছিল স্থানীয় মানুষের ভরসা। ইতিহাসবিদ ও স্থানীয় প্রবীণদের ধারণা, এই ‘কুয়া’ থেকেই পরবর্তীতে এলাকার নাম হয় ‘কুয়াকাটা’।
বর্তমানে কুয়াটি একটি বৌদ্ধ বিহারের পাশে সংরক্ষিত থাকলেও এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব স্পষ্ট। সেখানে কোনো সাইনবোর্ড বা পরিচিতিমূলক তথ্যফলক না থাকায় অনেক পর্যটকই বুঝতে পারেন না যে এটি কুয়াকাটার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ননিদর্শন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়ার চারপাশে অবহেলার চিত্র স্পষ্ট। প্রবেশপথে তারকাঁটার বেড়া থাকলেও নেই কোনো সৌন্দর্যবর্ধন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পলিথিন, পানির বোতল ও বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা। কুয়ার ভেতরের পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ায় সেখানে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা এক পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কুয়াকাটার নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক স্থাপনার এমন অবস্থা সত্যিই হতাশাজনক। এটি সংরক্ষণ করা খুব জরুরি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সোহেল বলেন, “এই কুয়াটি শুধু একটি কূপ নয়, এটি কুয়াকাটার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। অথচ বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে আছে। দ্রুত সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যতে হয়তো এই নিদর্শন হারিয়ে যাবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে কুয়াকাটার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হলেও ঐতিহাসিক এই কুয়ার সংরক্ষণে তেমন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে এর সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। খুব দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
ইতিহাস ও ঐতিহ্য সচেতন মহলের দাবি, শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই নয়, এই কুয়ার পাশে তথ্যসমৃদ্ধ ফলক স্থাপন, সৌন্দর্যবর্ধন এবং পর্যটকদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ, কুয়াকাটার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই কুয়া কেবল একটি পুরোনো স্থাপনা নয়, এটি উপকূলীয় জনপদের অতীত জীবনধারা ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।
 

May 15, 2026

রমনা কালী মন্দির: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত স্মৃতির এক অমর প্রতীক

রমনা কালী মন্দির

ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রমনা কালী মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের বেদনাময় স্মৃতির এক জীবন্ত সাক্ষী। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দক্ষিণ পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় পাঁচশ বছরের পুরোনো এই মন্দির যুগের পর যুগ ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
ইতিহাসবিদদের মতে, বহু শতাব্দী আগে বদ্রী নারায়ণের যোশী মঠের সন্ন্যাসী গোপাল গিরি ঢাকায় এসে রমনা এলাকায় একটি আখড়া প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাথমিকভাবে এটি ‘কাঠঘর’ নামে পরিচিত ছিল। পরে সাধক হরিচরণ গিরি সেখানে মা কালীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে এটি ‘রমনা কালীবাড়ি’ নামে পরিচিতি লাভ করে এবং ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরটির খ্যাতি ও গুরুত্ব বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বিশ শতকের শুরুতে ভাওয়ালের রানী বিলাশমনি দেবীর পৃষ্ঠপোষকতায় মন্দিরটির ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়। তাঁর উদ্যোগে মন্দিরের স্থাপত্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। উঁচু চূড়া, নান্দনিক নকশা এবং বিশাল পরিসরের কারণে এটি তৎকালীন ঢাকার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। প্রতিদিন অসংখ্য ভক্ত, সাধু ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মুখর থাকত পুরো রমনা এলাকা।
কিন্তু ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এই মন্দিরের ইতিহাসে নিয়ে আসে এক বিভীষিকাময় অধ্যায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী স্বাধীনতার সূচনালগ্নেই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মতো রমনাকেও টার্গেট করে। ২৫ মার্চের কালরাত্রির পর রমনা কালী মন্দির ও আশ্রমে আশ্রয় নেন বহু নিরীহ মানুষ। কিন্তু ২৭ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর অংশ হিসেবে মন্দিরে ভয়াবহ হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী পরমানন্দ গিরিসহ নারী, পুরুষ ও শিশুকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে রমনা কালী মন্দির পরিণত হয় হত্যাযজ্ঞের এক ভয়ঙ্কর স্থানে। বিভিন্ন সূত্র মতে, ওই হামলায় প্রায় একশ মানুষ নিহত হন।
শুধু হত্যাকাণ্ডেই থেমে থাকেনি পাকিস্তানি বাহিনী। হত্যাযজ্ঞের পর তারা ডিনামাইট দিয়ে পুরো মন্দির ও আশ্রম ধ্বংস করে দেয়। শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উপাসনালয় মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে সেই ধ্বংসাবশেষ মুক্তিযুদ্ধের নির্মমতার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ সহযোগিতায় রমনা কালী মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভারত সরকারের অর্থায়নে নতুন নকশায় মন্দিরটি পুনর্গঠিত হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি Ram Nath Kovind পুনর্নির্মিত রমনা কালী মন্দির উদ্বোধন করেন।
বর্তমানে ৯৬ ফুট উচ্চতার চূড়াবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন এই মন্দির আবারও ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শনে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত, পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমী এখানে আসেন পূজা, প্রার্থনা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনুভব করতে।
রমনা কালী মন্দির আজ শুধু একটি উপাসনালয় নয়। এটি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের এক অমর প্রতীক। শত ধ্বংসের পরও যে ইতিহাস আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে, রমনা কালী মন্দির তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।

 

May 15, 2026

মৌলভীবাজারে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে তদন্তে পুলিশ

শুক্লা সেন

মৌলভীবাজার শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শুক্লা সেন (২৪) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে।
বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা তার কক্ষের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ দেখতে পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে তারা কয়েকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে শুক্লা সেনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার মডেল থানার কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, নিহত শুক্লা সেন মৌলভীবাজার আধুনিক চক্ষু হাসপাতালের একজন রিসিপসনিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার তিলকপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা অল্পন সেন এবং মা লক্ষী রানী সিনহা। পরিবারের বড় মেয়ে শুক্লা চাকরির কারণে শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার ওই বাসায় একাই থাকতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবারও প্রতিদিনের মতো তিনি কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরেন। তবে সন্ধ্যার পর থেকে তার কক্ষে কোনো সাড়া-শব্দ না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ থাকার পর তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়টি জানতে পারেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ কারণে ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্লা সেনের আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যেও গভীর শোক নেমে এসেছে। কর্মস্থলের সহকর্মীরা জানান, তিনি শান্ত স্বভাবের এবং দায়িত্বশীল একজন মানুষ ছিলেন। তার এমন মৃত্যু তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তারা দ্রুত ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

Thursday, May 14, 2026

May 14, 2026

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে যুবক গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

ময়মনসিংহের নেত্রকোনার বারহাট্টায় ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে অনয় কান্তি রায় নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। তবে অভিযুক্ত যুবক নিজেই ওই পোস্ট করেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও তার স্বজনরা। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনয় কান্তি রায়ের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্ট প্রকাশিত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কায় বারহাট্টা থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং অনয় কান্তি রায়কে আটক করে।
পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
তবে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইডি হ্যাক, ফেক আইডি তৈরি কিংবা অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানোর ঘটনা অহরহ ঘটছে। ফলে শুধুমাত্র একটি পোস্টের ভিত্তিতে কাউকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করার আগে গভীর ডিজিটাল তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
অনয়ের পরিবারের সদস্যরাও দাবি করেছেন, তিনি এমন কোনো কাজ করতে পারেন না। তাদের ভাষ্য, প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আগ পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তারা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ধর্মীয় সংবেদনশীলতার মতো বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ধরনের ঘটনায় আবেগ নয়, বরং তথ্যপ্রমাণ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তারা মনে করেন, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে যেমন দ্রুত ব্যবস্থা জরুরি, তেমনি কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বর্তমানে অনেক সময় ব্যক্তিগত শত্রুতা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কাউকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তাই অভিযুক্তের মোবাইল, আইপি লগ, লগইন হিস্ট্রি এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেকে। তারা আশা করছেন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তদন্ত পরিচালনা করবে এবং প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরবে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষী ব্যক্তি শনাক্ত হোক এবং নির্দোষ কেউ যেন অযথা ভোগান্তির শিকার না হন। একই সঙ্গে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
May 14, 2026

শোক সংবাদ: মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতা নিখিল চন্দ্র শীল আর নেই

শোক সংবাদ: মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতা নিখিল চন্দ্র শীল আর নেই
বাংলাদেশের সনাতনী সমাজের পরিচিত মুখ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সহ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক শ্রী নিখিল চন্দ্র শীল আর নেই। তাঁর মৃত্যুতে সনাতনী সমাজ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি-২ নম্বরে অবস্থিত Popular Diagnostic Centre & Hospital–এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত জটিলতায় (Brain Hemorrhage) আক্রান্ত হয়ে তিনি সেখানে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
শ্রী নিখিল চন্দ্র শীল দীর্ঘদিন ধরে দেশের সনাতনী সমাজের বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সংগঠনের প্রকাশনা, গ্রন্থনা ও সাংগঠনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত হতো।
এছাড়াও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংখ্যালঘু অধিকার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। শান্ত, ভদ্র এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে বিশেষভাবে সম্মানিত ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়ে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখিল চন্দ্র শীল ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ একজন সংগঠক। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি সবসময় আন্তরিকতা ও সততার পরিচয় দিতেন। ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে শুরু করে সামাজিক বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ সবার কাছে অনুকরণীয় ছিল।
তাঁর মৃত্যু সনাতনী সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে তিনি যে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাঁর শেষকৃত্যের বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে। এদিকে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনার আয়োজন করা হচ্ছে।
শ্রী নিখিল চন্দ্র শীলের মৃত্যুতে ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর কর্ম, আদর্শ এবং সমাজের প্রতি অবদান দীর্ঘদিন মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।

 

May 14, 2026

জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে আইনি লড়াইয়ে নতুন অগ্রগতি

বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী মন্দির–এর বিপুল পরিমাণ দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে চলমান আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করেছেন আন্দোলন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ ও আইনজীবীরা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি ফেরত আনার দাবিতে পরিচালিত মামলায় সাম্প্রতিক আদালতীয় কার্যক্রম হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত-২ এ টানা পাঁচ দিন শুনানি শেষে আদালত মূল মামলাটি আপিল বিভাগের মাননীয় প্রধান বিচারপতির নিকট উপস্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছেন। আইনজীবীদের মতে, এই আদেশের ফলে বহুদিনের আলোচিত দেবোত্তর সম্পত্তি বিরোধ নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে জাতীয় মন্দিরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমির একটি বড় অংশ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তাদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)–এর দখলে থাকা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের ভূমিসহ আরও প্রায় হাজার কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি বিভিন্ন পক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ বলেন, এই ভূমিগুলো কেবল অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, বরং সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে এসব সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর ও সমন্বিত আইনি উদ্যোগের অভাবে তা বাস্তব রূপ পায়নি। তবে সাম্প্রতিক আদালতের অগ্রগতিকে তারা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলে সেখানে দরিদ্র হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আধুনিক ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি একটি সনাতনী হাসপাতাল, বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয়, সনাতনী নারী পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং হিন্দু তরুণ-তরুণীদের জন্য আধুনিক আইটি শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ভাবনাও রয়েছে।
এই আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতার জন্য ‘জাতীয় মন্দির রক্ষা ও পরিচালনা কমিটি’, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ–এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সচেতন হিন্দু সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী ও সমাজকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, আদালতের ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাতীয় মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি একদিন পুনরুদ্ধার হবে এবং তা সনাতন সমাজের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের পরবর্তী শুনানি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের ভবিষ্যৎ। তবে বহু বছর পর বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছানোয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন আশাবাদ ও প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে।

 

May 14, 2026

বগুড়ায় ৩০ কেজির প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার, আটক দুই


Bogura জেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন বলে ধারণা করা একটি বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি কালো পাথরের তৈরি এবং এতে প্রাচীন শৈল্পিক কারুকাজের ছাপ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি বহু পুরোনো কোনো প্রত্ননিদর্শন হতে পারে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূর্তিটি অবৈধভাবে বিক্রি বা পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি কোনো প্রাচীন মন্দির বা ঐতিহাসিক স্থাপনার অংশ হতে পারে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। 
এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূর্তিটির প্রকৃত বয়স, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং উৎস নির্ধারণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এটি সরকারি সংরক্ষণে নেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায়ই এ ধরনের প্রাচীন প্রত্নসম্পদ উদ্ধার হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। ইতিহাসবিদদের মতে, এসব নিদর্শন বাংলার প্রাচীন সভ্যতা, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং শিল্পসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে।


May 14, 2026

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করছেন? হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে বদলান প্রতিদিনের ৮ অভ্যাস ❤️

আধুনিক করপোরেট জীবনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ল্যাপটপের সামনে বসে থাকা যেন এখন স্বাভাবিক বিষয়। কাজের চাপ, ডেডলাইন আর অনলাইন মিটিংয়ের ভিড়ে অনেকেই খেয়ালই করেন না, এই দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা শরীরের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের শরীর এত দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে বসে থাকার জন্য তৈরি হয়নি। 
ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ Sanjay Bhojraj সতর্ক করে বলেছেন, আধুনিক অফিস সংস্কৃতি ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান, গভীর রাত পর্যন্ত ইমেইল দেখা এবং অনিয়মিত জীবনযাপন মিলিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।
তবে সুসংবাদ হলো, দৈনন্দিন কিছু ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য কার্যকর ৮টি অভ্যাস তুলে ধরা হলো।
১. দিনের শুরু করুন প্রাকৃতিক আলো দিয়ে 
ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাস বাদ দিন। সকালে কিছু সময় প্রাকৃতিক আলোতে থাকুন। সূর্যের আলো শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে সাহায্য করে, যা রক্তচাপ ও হরমোনের ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
২. প্রোটিনসমৃদ্ধ সকালের নাস্তা খান 
শুধু চা-বিস্কুট দিয়ে সকাল শুরু না করে ডিম, দই, বাদাম বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে দীর্ঘ সময় শক্তি পাওয়া যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে।
৩. খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটুন 
দুপুরের খাবারের পর সামান্য হাঁটা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ক্ষতি কমায়।
৪. সন্ধ্যায় হালকা শরীরচর্চা করুন 
জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানোর প্রয়োজন নেই। হালকা যোগব্যায়াম, স্ট্রেচিং, হাঁটা বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেলাধুলাও হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী হতে পারে।
৫. রাতে ডিজিটাল ডিটক্স জরুরি 
ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার মস্তিষ্ককে উত্তেজিত রাখে। তাই রাতের খাবারের পর স্ক্রিন টাইম কমানোর চেষ্টা করুন। এতে ঘুম ভালো হবে এবং হৃদযন্ত্রও কম চাপ অনুভব করবে।
৬. পর্যাপ্ত ঘুমকে গুরুত্ব দিন 
গভীর ও নিয়মিত ঘুম হৃদযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করে এবং স্নায়ুতন্ত্র স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কম ঘুম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৭. ঘুম ও জাগরণের সময় নির্দিষ্ট রাখুন 
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস শরীরের ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এতে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং শরীরে প্রদাহ কমে।
৮. মানসিক চাপ কমান, মানুষের সঙ্গে সময় কাটান 
স্ট্রেস হৃদযন্ত্রের অন্যতম বড় শত্রু। তাই মেডিটেশন, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ ও মানসিক স্বস্তি হৃদস্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য সবসময় বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। বরং ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় সামান্য সচেতনতা আপনার হৃদযন্ত্রকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে পারে।
"
"