কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, June 2, 2026

June 02, 2026

ফরিদপুরে ১২ বছরের কিশোরী নিখোঁজ

ফরিদপুর সদর উপজেলার পূর্ব আলিয়াবাদ এলাকা থেকে নিরুপমা শিকদার (১২) নামে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
পুলিশ ও জিডি সূত্র জানায়, গত ১ জুন সকাল ৮টার দিকে নিরুপমা কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে আর ফিরে আসেনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিরুপমা ওই এলাকার নির্মল শিকদার ও স্মৃতি শিকদার দম্পতির একমাত্র কন্যা। পরিবারের দাবি, সে মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না, ফলে যোগাযোগেরও কোনো উপায় নেই।
ঘটনায় নিরুপমার পরিবার ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেছে, যার নম্বর ৭৪, তারিখ ১ জুন ২০২৬।
নিরুপমার কোনো সন্ধান পেলে তার মা স্মৃতি শিকদারের মোবাইল নম্বর ০১৮২৯-৭২২২৭৪-এ যোগাযোগের জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে।
June 02, 2026

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে ঐক্য পরিষদের শোক

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
সোমবার রাতে এক শোকবার্তায় সংগঠনের সভাপতি ঊষাতন তালুকদার, ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক ও নির্মল রোজারিও এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ শোক প্রকাশ করেন। তারা প্রয়াত তোফায়েল আহমেদের বিদেহী আত্মার সদগতি কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
June 02, 2026

পাবনার হিমায়েতপুরে অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত

পাবনার হিমায়েতপুরে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচির ঠিক আগের দিন এ সিদ্ধান্তের খবরে ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশ সূত্র জানায়, হিমায়েতপুরে মানসিক হাসপাতাল চত্বরে অনুকূলচন্দ্রের নির্মিত বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে ভগ্নদশায় পড়ে ছিল। সম্প্রতি এসব স্থাপনা অপসারণ বা ভূমিস্যাৎ করার সম্ভাব্য উদ্যোগের খবরে দেশ-বিদেশের ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবিতে আগামী ৩ জুন পাবনায় মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছিল সংগঠনটি।
গত ২৯ মে সম্পাদক শ্রী ধৃতব্রত আদিত্য স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব স্থাপনা কেবল ইট-পাথরের স্থাপত্য নয়, কোটি কোটি ভক্তের আবেগ, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক স্মৃতির অংশ। তাই সংরক্ষণের জন্য সরকারের প্রতি বিনীত আহ্বান জানানো হয়। সেই সঙ্গে স্পষ্ট করে বলা হয়, তারা কোনো সরকারবিরোধী আন্দোলন বা প্রতিবাদে যাচ্ছেন না, মানববন্ধন শুধুই শান্তিপূর্ণ আবেদন।
মানববন্ধনের আগেই সরকারের পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তে সৎসঙ্গী ও ভক্তরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "হিমায়েতপুরের স্থাপনাগুলো কেবল একটি সম্প্রদায়ের সম্পদ নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংরক্ষিত হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও দেশের এক গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচিত হবে।"
ভক্তরা আশা করছেন, সংরক্ষণের আওতায় ভগ্নপ্রায় স্থাপনাগুলোর যথাযথ সংস্কার, নথিভুক্তকরণ ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোটি ভক্তের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মানববন্ধন কর্মসূচির বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে সৎসঙ্গ সূত্র জানিয়েছে। তবে এই উদ্যোগকে তারা ইতোমধ্যেই ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।
June 02, 2026

সিলেটে শিশু শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগে ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা-লুট, গ্রেপ্তার ৫

সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় শিশু শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংঘবদ্ধ মব তৈরি করে এক হিন্দু ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, মারধর, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে রুবেল দাস বাদী হয়ে শাহপরান থানায় ২১ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
রুবেল দাস জানান, তার বাবার ‘রানী স্টোর’ দোকানে প্রথমে কয়েকজন এসে হট্টগোল সৃষ্টি করে। পরে আরও লোকজন নিয়ে তার বাবাকে বেধড়ক মারধর করে এবং দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাস জানান, একটি শিশুকে ফ্রিজের সামনে থেকে সরে দাঁড়াতে বলাকেই কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলা হয়। পরে শিশুটির মা ও আরও কয়েকজন এসে দোকানে হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে এবং তা যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব বলেন, "ঘটনার পর আমরা হাসপাতালে ভুক্তভোগীকে দেখতে যাই। প্রশাসন জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পূর্বে টাকা বা বাকি পণ্য না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে।" তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর ও মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "সিসিটিভি ফুটেজে যৌন হয়রানির কোনো প্রমাণ নেই। গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে হামলা চালানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বাকি সংক্রান্ত বিরোধের তথ্যও পাওয়া গেছে।"
তিনি জানান, ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছে, বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। মব সহিংসতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ার করেন।
এর আগে সিলেট জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী হাসপাতালে আহত ব্যবসায়ীকে দেখতে যান এবং ঘটনাকে পরিকল্পিত মব সহিংসতা উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
June 02, 2026

ফরিদপুরে এসএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ, থানায় জিডি

ফরিদপুরে পানি আনতে গিয়ে শ্রীবাস চন্দ্র বিশ্বাস (১৮) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জিডি সূত্র জানায়, গত ৩০ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার বটতলা এলাকার মৃত প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে শ্রীবাস হাতে বোতল নিয়ে পাশের বাড়ির টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে যান। কিন্তু এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর প্রতিবেশীরা জানান, তিনি তাদের কাছে পানির বোতল রেখে বটতলা এলাকায় যাওয়ার কথা বলে চলে যান। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান নেই।
পরিবারের দাবি, শ্রীবাস মোবাইল ফোন সঙ্গে নেননি। আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার হদিস না পেয়ে গত ১ জুন কোতোয়ালী থানায় জিডি করা হয়, যার নম্বর ৫৭।
নিখোঁজের সময় শ্রীবাসের পরনে ছিল কালো শার্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, চোখে কালো চশমা। তার উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি, গায়ের রং ফর্সা, মুখমণ্ডল গোলাকার এবং মুখে হালকা দাড়ি-গোঁফ রয়েছে।
নিখোঁজের কাকা বিকাশ কুমার বিশ্বাস আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। কেউ তার সন্ধান পেলে ০১৭৭৭-৩৫৫২৩৮ নম্বরে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
June 02, 2026

সিরাজগঞ্জে কলেজছাত্রীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিখোঁজ এক হিন্দু কলেজছাত্রীকে প্রায় ২৫ দিন পর গাইবান্ধা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর কলেজের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানায়, রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা গ্রামের বেলি রানী ভৌমিকের মেয়ে এবং রায়গঞ্জ উপজেলা সদর মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী পলি কুমারী ভৌমিক (১৭) গত ৫ মে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন ৬ মে তার মা রায়গঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দেহের আঙুল ওঠে একই কলেজের শিক্ষক মো. রবিউল আলমের দিকে। তিনি ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের কয়ড়া গ্রামের বাসিন্দা। জিডি দায়েরের পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায় এবং জানতে পারে পলি কুমারী গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী এলাকায় রয়েছেন।
পরে গত ৩১ মে গোবিন্দগঞ্জ থানার সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে শিক্ষক রবিউল আলমকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, "জিডি পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।

 

Monday, June 1, 2026

June 01, 2026

পিরোজপুরের শ্মশানে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর ও আগুন

পিরোজপুর পৌর শ্মশান প্রাঙ্গণে দুঃসাহসিক চুরির পাশাপাশি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোর ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পৌর শ্মশান কমিটির সভাপতি সুনীল চক্রবর্তী জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে সকালে খবর পেয়ে ছুটে যান তিনি। গিয়ে দেখতে পান, শ্মশান চত্বরের কালী মন্দিরে থাকা শিবঠাকুরের মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভাঙা প্রতিমা বাইরে এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শ্মশানের প্রধান ফটকটিও ভাঙা হয়েছে।
সুনীল চক্রবর্তী আরও অভিযোগ করেন, মন্দিরের প্রণামী বাক্স ভেঙে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা চুরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সৎকার কাজে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জামও চুরি করে নিয়ে গেছে তারা।
খবর পাওয়ার পর জেলা পরিষদের প্রশাসক আলমগীর হোসেন, পৌর প্রশাসক মাহমুদুর রহমান মামুন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকী দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ধর্মীয় উপাসনালয়ে এমন নৃশংস হামলা ও চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে। স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায় এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদারের জোর দাবি জানিয়েছে।
June 01, 2026

নারায়ণগঞ্জে মা ও তিন সন্তানের ‘নিখোঁজ’ কাণ্ডে উঠল ধর্মান্তরের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া এক মা ও তার তিন সন্তানের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এটি পরিকল্পিত গৃহত্যাগ এবং ধর্মান্তরের ঘটনা বলে অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। শুধু একটি পরিবার ভাঙেনি, তিন নাবালক সন্তানের ভবিষ্যৎ ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার ভূঁইয়ার বাগের বাসিন্দা কিরণ সরকারের স্ত্রী লিজা সরকার গত ২২ মে বিকেলে তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। স্বামী কিরণ নিজেই তাদের রিকশায় তুলে দেন। কিন্তু নির্ধারিত গন্তব্যে তারা কখনোই পৌঁছাননি। নিখোঁজদের মধ্যে ছিলেন লিজা সরকার, তার মেয়ে শাবনী সরকার, ছেলে গণেশ সরকার এবং ছোট মেয়ে তারা সরকার।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে এবং সামাজিক মাধ্যমে নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করে। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই ঘটনার ভিন্ন চিত্র বেরিয়ে আসে।
পরিবারের অভিযোগ, লিজা সরকার তার দেবরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিকল্পিতভাবে বাড়ি ছেড়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় ১০ বছর আগে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের। বর্তমানে লিজা তিন সন্তানসহ তার কাছেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্বজনদের বক্তব্য, বিষয়টি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, কারণ এর সঙ্গে তিনটি নাবালক শিশু জড়িত। তাদের ধর্মীয় পরিচয়, মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশুদের সম্মতি ও ভবিষ্যৎ বিবেচনা না করে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কতটা নৈতিক, সেই প্রশ্নও উঠছে বিভিন্ন মহলে। ধর্মান্তর প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকলে তাদের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের মতে, নাবালকদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা জরুরি।
June 01, 2026

যশোরের এগারো শিব মন্দির: এক রাজকন্যার বেদনায় গড়া সনাতনী সৌধ

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ভৈরব নদের শান্ত তীর ঘেঁষে প্রায় চারশ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক এগারো শিব মন্দির। এটি কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা নয়, এক করুণ রাজকন্যার জীবনকথা আর শিবভক্তির গভীর প্রকাশ বহন করে চলেছে।
ইতিহাস ও জনশ্রুতি বলে, সতেরো শতকের মাঝামাঝি সময়ে রাজা নীলকণ্ঠ রায় তার একমাত্র কন্যা অভয়ার জন্য এই এগারোটি শিব মন্দির নির্মাণ করেন। নড়াইলের জমিদারপুত্র নীলাম্বর রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় অভয়ার, কিন্তু বিয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিধবা হন। তৎকালীন সমাজে বিধবার পুনর্বিবাহের পথ বন্ধ থাকায় অভয়া মহাদেব শিবের আরাধনায় আত্মনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। কন্যার এই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে রাজা প্রাসাদের কাছেই গড়ে তোলেন এগারোটি মন্দির। কথিত আছে, কন্যার নামানুসারেই এলাকাটি 'অভয়ানগর' এবং পরে 'অভয়নগর' নাম পায়।
প্রায় ৬০ একর জমির ওপর বিস্তৃত মন্দির চত্বরের বিন্যাসে অপূর্ব স্থাপত্যশৈলী লক্ষ করা যায়। উত্তর ও পশ্চিমে চারটি করে, পূর্বে দুটি এবং দক্ষিণের প্রবেশপথের পাশে একটি মন্দির অবস্থিত। চুনা-পাথর, সুরকি আর পোড়ামাটির ইটে নির্মিত এসব মন্দিরের দেয়ালে পোড়ামাটির কারুকাজ ও নকশা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এগারোটির মধ্যে মাঝখানের মন্দিরটি আকারে বড়, এটিই প্রধান মন্দির হিসেবে বিবেচিত।
সময়ের সঙ্গে কিছু অংশ জীর্ণ হয়ে পড়লেও মন্দিরগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কখনো ম্লান হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এটি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। সাম্প্রতিক সংস্কার কাজের মাধ্যমে স্থাপনাটির সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত, পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীরা এখানে আসেন। মহাদেবের আরাধনার পাশাপাশি তারা প্রত্যক্ষ করেন বাংলার প্রাচীন স্থাপত্যকলার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। ভক্তি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে এগারো শিব মন্দির সনাতন ঐতিহ্যের এক গর্বিত প্রতীক হয়ে কালের সাক্ষী হয়ে আছে।

 

June 01, 2026

বাগেরহাটে ধর্মান্তরিত শিক্ষার্থী আবার সনাতন ধর্মে ফিরলেন

বাগেরহাটের সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র (পি.সি.) কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্মান্তরিত হওয়ার পর আবার সনাতন ধর্মে ফিরে এসেছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার ও স্থানীয় সূত্র। গত ২৮ মে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুদ্ধি যজ্ঞ সম্পন্নের মাধ্যমে তার প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ওই শিক্ষার্থী এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে চট্টগ্রামে গিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তার পরিবার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চায়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফিরে আসার পর দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীর সঙ্গে পারিবারিক আলোচনা, কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তার প্রক্রিয়া চলে। এ সময় তাকে পারিবারিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও নিজ পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। পাশাপাশি ধর্মান্তর, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের নানা দিক নিয়েও আলোচনা করা হয়।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তিনি নিজ ইচ্ছায় পুনরায় সনাতন ধর্মে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে পরিবার জানিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৮ মে শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী শুদ্ধি যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীর পরিবার তার নতুন শুরুর জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ ও শুভকামনা চেয়েছে। স্থানীয় সনাতনী নেতৃবৃন্দও আশা প্রকাশ করেছেন, তিনি ভবিষ্যতে নিজের শিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবনে সফল হবেন।
"
"