কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, November 3, 2026

November 03, 2026

চাঁদপুরে ইসকন নিষিদ্ধ ও নীলাচল মন্দির বন্ধের দাবিতে হেফাজতে ইসলামের মানববন্ধন


চাঁদপুর, ৩ নভেম্বর ২০২৬: দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ইসকনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং চাঁদপুর শহরের মুনসেফপাড়ায় অবস্থিত শ্রী শ্রী মহাপ্রভু নীলাচল মন্দির বন্ধের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, চাঁদপুর জেলা শাখা।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। পরে সংগঠনের নেতারা জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেন। মানববন্ধনে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থান ও সম্প্রীতির দেশ। তবে সম্প্রতি ইসকনের (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস) বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, উসকানিমূলক কার্যক্রম এবং দেশ ও স্বাধীনতাবিরোধী অপতৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড দেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে দাবি করেন সংগঠনের নেতারা।

হেফাজত ইসলাম চাঁদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা লিয়াকত হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতি নূরে আলমের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাহবুবুর রহমান, সহ-সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা মনিরুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আবুল হাসানাত, জেলা প্রচার সম্পাদক হাফেজ কারী রশিদ আহমদ, শহর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল ইসলাম ও সদর উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা ওবায়দুল্লাহ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। চাঁদপুরে আমরা সব ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করছি। এখানকার সনাতনী ভাই-বোনদের সঙ্গে আমাদের ভাতৃত্ব ও সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু উগ্রবাদী সংগঠন ইসকনের বিতর্কিত ও দেশবিরোধী কার্যক্রম নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।’ তাই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইসকনের কার্যক্রমের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নীলাচল মন্দিরের কার্যক্রম, অবস্থান, অনুমোদন ও আইনগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ২০২৪ সালের একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ধর্মীয় সংগঠনের আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দেশের আইন, সংবিধান ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্মারকলিপিতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ সময় হেফাজতে ইসলাম চাঁদপুর জেলা শাখা ও বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


 

November 03, 2026

একটি গণহ*ত্যায় কতো নারী বিধবা হতে পারেন? ৫০ জন, ১০০ জন, ১৫০ জন?

.
না! একমাত্র গণহ*ত্যাতেই স্বামীহারা হয়েছিলেন ৮০০ জনেরও বেশী নারী। গণহ*ত্যাটি ছিল ঠাকুরগাঁওয়ের জাঠিভাঙা গণহ*ত্যা। 
.
এই ছবিটি ২০১৩ সালে তোলা। এই ছবিতে যারা রয়েছেন তারা সবাই সেই গণহ*ত্যায় বিধবা হয়েছে।  আর সেই গণহ*ত্যার মূল টার্গেটই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। 
.
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উত্তরাঞ্চলে দেশের সর্ববৃহৎ গণহ*ত্যা বলা হয় জাঠিভাঙা গণহ*ত্যাকে।  জাঠিভাঙা গণহ*ত্যায় কেবল কয়েক ঘণ্টায় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারেরা ২৫০০ এর ও বেশী নিরীহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষকে হ*ত্যা করেছিল।  তবে অনেক গবেষকের মতে সেখানে শহীদের সংখ্যা ৪ হাজারের কাছাকাছি।
.
এই গণহ*ত্যা এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে, এই গণহ*ত্যার পরবর্তীতে আটকে গিয়েছিল জাঠিভাঙার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাথরাজ নদীর স্রোত।
..
 যুদ্ধের মধ্যে স্বামী, ছেলেদের হারিয়ে জাটিভাঙ্গা গণহ*ত্যায় স্বামীহারা সেই বিধবাদের মধ্যেই অসংখ্য নারী পেটের দায়ে ভিক্ষুক হয়ে গিয়েছিলেন।  অনেক নারীই দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। অথচ যু*দ্ধের আগে সেই নারীদের মধ্যে পড়ায় সবাই স্বচ্ছল জীবনযাপন করতেন। অভাবের লেশমাত্রও ছিলোনা তাঁদের জীবনে। একটি গণহ*ত্যাই কেড়ে নিল তাঁদের স্বাভাবিক জীবন!
.
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার  শান্ত সুনিবিড় একটি ইউনিয়ন শুখানপুকুরী। ইউনিয়নটির মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে সীমান্তবর্তী খরস্রোতা নদী পাথরাজ। নদীর এক পাড়ের তীর ঘেঁষে অবস্থান জাঠিভাঙার।
.
 শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জাঠিভাঙ্গা ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে বসবাসকারী হিন্দু জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারাই ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ। ধর্মীয় সহাবস্থানের কারণে গ্রামবাসীদের মধ্যে ছিলোনা কোন বিরোধ।
.
মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে পাকিস্তানি বাহিনীর নারকীয় গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে শরণার্থী হয়ে ভারতে পাড়ি জমাতে শুরু করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষেরা। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিলো শুখানপুকুরী ইউনিয়নের গ্রামগুলো।
.
 প্রত্যন্ত জনপদ হওয়ায় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারেরা তখনও এই ইউনিয়নে প্রবেশ করতে পারেনি। পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের উপদ্রব না থাকায় এই রুটটি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা ও দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়ন থেকে আগত ভারতগামী শরণার্থীদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। ফলে এই রুট ধরে দিনে দিনে বাড়তে থাকে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শরণার্থীদের সংখ্যা।
.
একপর্যায়ে পাকিস্তানি বাহিনী রাজাকারদের মাধ্যমে শরণার্থীদের এই রুটের সম্পর্কে জেনে যায়। পাকিস্তানি বাহিনীর আসন্ন হামলার আশঙ্কায় ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে গণহত্যার খবর শুনে ঠাকুরগাঁও সদরের শুখানপুকুরি ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর, চকহলদি, সিংগিয়া, চণ্ডীপুর, বালিয়া, বাসুদেবপুর, মিলনপুর, গৌরীপুর, খামার ভোপলা গ্রামের বাসিন্দারাও শেষমেশ প্রাণের ভয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় নেয়ার  সিদ্ধান্ত নেন।
.
২২ এপ্রিল তারা ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। সেদিন বিকেলে শরণার্থীদের অনেকেই পাখরাজ নদী তীরবর্তী জাঠিভাঙায় গিয়ে পৌঁছান। পূর্ব থেকেই জাঠিভাঙ্গায় অন্য অঞ্চল থেকে আগত শরণার্থীদের রাত্রিযাপনের জন্য অবস্থান করছিলেন।  
.
ফলে সেখানে শরণার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায়। এসময় স্থানীয় রাজাকারেরা তাদের রাত্রিযাপনের করতে বলে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে পরদিন সকালে সীমান্তের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার অনুরোধ করেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের কথা ভেবে এবং রাজাকারদের আশ্বাসে বিশ্বাস করে শরণার্থীরা জাঠিভাঙ্গায় রাত্রিযাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
.
শরণার্থীদের আশ্বস্ত হওয়ার খবর পেয়ে এদিন রাতে স্থানীয় কয়েকজন রাজাকার ঠাকুরগাঁও ইপিআর সেক্টর হেড কোয়ার্টারে বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর উপস্থিতির খবর জানিয়ে দেয়।
.
২৩ এপ্রিল, ১৯৭১। দিনটি ছিল শুক্রবার।
.
ভোর থেকেই আগের রাত্রে আগত শরণার্থীদের অনেকেই সীমান্তের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে শরণার্থীরা এসময় জাঠিভাঙ্গা ও  শুখানপুকুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে জমায়েত হতে শুরু করেছেন। 
.
সেদিন  সকাল থেকেই স্থানীয় দালালেরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুরুষদের পাথরাজ নদীর উপরেভাঙা পুল মেরামতের কথা বলে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করে। নিরীহ শরণার্থীরা তখনও ঘুণাক্ষরে টের পাননি তাদের উপর পৈশাচিক এক গণহত্যা সমাগত। 
.
বেলা বাড়তেই রাজাকারদের সহযোগিতায় দুই ট্রাক ভর্তি পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের একটি দল জাঠিভাঙ্গায় এসে পৌঁছায়। প্রথমে তারা জাঠিভাঙ্গা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা ঘেরাও করে। এসময় রাজাকারেরা বিভিন্ন গ্রাম থেকে নিরীহ সাধারণ গ্রামবাসী ও শরণার্থীদের জোরপূর্বকভাবে তুলে আনে। 
.
একপর্যায়ে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা উপস্থিত, তুলে আনা গ্রামবাসী ও শরণার্থীদের জাঠিভাঙ্গার পাথরাজ নদীর পাড়ে এনে জড়ো করে।একপর্যায়ে পাকিস্তানি বাহিনী নির্বিচারে ব্রাশফায়ার শুরু করে। 
.
এসময় প্রাণ বাঁচাতে দিগ্বিদিক হয়ে ছুটতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের অবিশ্রান্ত গুলিবর্ষণে এসময় অসংখ্য সাধারণ মানুষ শহীদ হন। উপস্থিত মানুষের সংখ্যা বেশী হওয়ায় গণহত্যার একপর্যায়ে হানাদার গুলির মজুত কমে আসে। 
.
এসময় দেশীয় ধারালো অস্ত্র,  দা, বল্লম ও রামদা হাতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী বহু মানুষকে নির্বিচারে কুপিয়ে হত্যা করেছিল রাজাকারেরা।
.
জাঠিভাঙ্গা গণহত্যার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন জাঠিভাঙ্গা এসসি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রাম কিশোর বর্মণ। তিনি আমাকে বলেছিলেন এমনটাই। ‘সে দৃশ্য স্বচক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না। ওরা একপাশ থেকে গুলি করছে আর পুরুষেরা পালাচ্ছে। দৌঁড়াতে যেতে আবার হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। গুলি এসে বুকে লেগেছে, এরপর আর সামনে এগোতে না পেরে ঢলে পড়লো।  মানুষ মানুষকে মারতে পারে। যুদ্ধের পর গাঙয়ে অনেক মানুষের খুলি পাওয়া গিয়েছিল। অন্য জেলার থেকে মানুষ আসায় বহু মানুষের নাম পরিচয় আমরা আর কখনও জানতে পারিনি।’
.
তিনি বললেন, ‘গণহত্যার পূর্বে পাকিস্তানি সেনা ও দালালেরা বাড়ি বাড়ি ঢুকে প্রথমে এক দফা লুটপাট চালিয়েছিল। গণহত্যা শেষে পাকিস্তানি সেনারা চলে গেলে রাজাকারেরা আরেক দফা গণহারে লুটপাট চালিয়ে বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এতে গ্রামগুলোর স্বামী ও স্বজনহারা বিধবারা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন।’
.
জাঠিভাঙা গণহত্যায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চকহলদি, চণ্ডীপুর, শুখানপুকুরী গ্রামের শত শত নারী স্বামীহারা হয়েছিলেন। কেবল চকহলদি গ্রামের বিধবা নারীর সংখ্যাই ছিল ২০০ জনের বেশী। সব গ্রাম নিয়ে যে সংখ্যা ৮০০ জনেরও বেশী। ফলে এই গ্রামগুলো বিধবাপল্লী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। 
.
জাঠিভাঙা গণহত্যা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি গণহত্যা। এই গণহত্যার মূল উদ্দেশ্যই ছিল এই অঞ্চলকে হিন্দু পুরুষ শূন্য করতে হবে। এজন্য তারা শরণার্থীদের টার্গেট করে এই গণহত্যা চালিয়েছিল।’
.
যুদ্ধের পর জাটিভাঙ্গা গণহত্যায় স্বামীহারা বিধবাদের অনেককেই জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নিতে হয়েছিল। কেউবা দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। 
.
জাঠিভাঙ্গা গণহত্যায় এতো অধিক সংখ্যক মানুষ শহীদ হয়েছিলেন যে, তাদের সৎকার করা সম্ভবপর ছিলোনা। ফলে গুটিকয়েক লাশ ছাড়া বেশীরভাগ লাশ পাথরাজ নদীতে ফেলে দিয়েছিলেন স্থানীয়রা।   
.
জাঠিভাঙা গণহত্যার পরবর্তীতে কয়েক বছর আগে গণহত্যার স্থান পাথরাজ নদীর তীরে স্থাপন করা হয়েছিল একটি স্মৃতিস্তম্ভ। তবে বর্তমানে স্মৃতিস্তম্ভটি পড়ে রয়েছে একপ্রকার অবহেলার সাক্ষী হয়ে। 
.
উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গণহত্যাটি এই স্থানে সংঘটিত হলেও পুরো কমপ্লেক্সেই নেই কোন নৃশংসতা ও গণহত্যার বিবরণ সম্বলিত কোন বিবরণ। সীমানা প্রাচীরের মূল ফটকে নেই কোন তালাও। সন্ধ্যা পেরোলেই স্মৃতিস্তম্ভের ভিতরে বসে মাদকসেবীদের অবাধ আড্ডা। স্মৃতিস্তম্ভ ও কমপ্লেক্সের দেখভালের দায়িত্বে নেই কোন তত্ত্বাবধায়ক ও নিরাপত্তারক্ষী। 
.
এ যেন এক ইতিহাসের নির্মম পরিহাস।


 

November 03, 2026

সারাক্ষণ শরীরজুড়ে ক্লান্তি? কারণ ও করণীয়

রাতে পর্যাপ্ত ঘুমিয়েছেন, সকালে উঠেছেন ঠিক সময়েই—অথচ শরীরজুড়ে ক্লান্তি, কাজে মন বসছে না, সামান্য হাঁটাহাঁটি করতেও হাঁপিয়ে উঠছেন। অনেকেই এমন সমস্যাকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক লক্ষণ বলে মনে করেন। তবে এর পেছনে থাকতে পারে আর্থ্রাইটিস বা বাতের সমস্যা।

সাধারণত আর্থ্রাইটিসের কথা উঠলে প্রথমে গাঁটে গাঁটে ব্যথা, ফোলাভাব ও শক্ত হয়ে যাওয়ার কথা মনে আসে। কিন্তু এসবের বাইরেও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি রোগীদের ভোগাতে পারে। আশ্চর্যের বিষয়, এক রাত ভালো ঘুমানোর পরও এই ক্লান্তি দূর নাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, জয়েন্টের ব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ার কারণে এমনটা হতে পারে। ভারতের আইএসআইসি মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের রিউমাটোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক চিকিৎসক ডা. শ্রী রাম গর্গের মতে, আর্থ্রাইটিসজনিত ক্লান্তি দূর করতে শুধু বেশি ঘুমালেই হবে না; রোগের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনাও জরুরি।

আর্থ্রাইটিসে কেন সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে

প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিসে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়—এটি সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভবের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে জয়েন্টের ব্যথায় রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে, ফলে পর্যাপ্ত সময় বিছানায় থাকলেও শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায় না। ব্যথার ভয়ে অনেকে হাঁটাচলা বা ব্যায়াম কমিয়ে দেন, এতে পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। এভাবে ব্যথা, কম চলাফেরা ও পেশির দুর্বলতা একে অন্যকে বাড়িয়ে ক্লান্তির একটি চক্র তৈরি করে।

ক্লান্তি কমাতে ৫ অভ্যাস

১. চলাফেরা বন্ধ করবেন না: শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী অল্প সময় হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং, পানিতে ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপিস্টের নির্দেশনায় ব্যায়াম করুন। দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে শরীরচর্চা করলেও উপকার পাওয়া সম্ভব।

২. ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠার অভ্যাস করুন। রাতে চা-কফি কমিয়ে দিন, ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দায় তাকিয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।

৩. পুষ্টিকর খাবার রাখুন তালিকায়: শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য, বাদাম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

৪. কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিন: ঘরের সব কাজ একসঙ্গে না করে কয়েকটি ছোট ভাগে ভাগ করুন। প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের নাগালে রাখুন, যাতে বারবার হাঁটতে না হয়।

৫. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি অবহেলা করবেন না: কখনো প্রদাহ ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না থাকলে, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা বা সংক্রমণের কারণেও ক্লান্তি বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন ক্লান্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করুন।


 

November 03, 2026

চাঁদপুরে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের খরচই কাল হলো জুয়েলারি ব্যবসায়ী বলাই সূত্রধরের


চাঁদপুরে টানা দ্বিতীয়বার জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের খরচই কাল হলো জুয়েলারি ব্যবসায়ী বলাই সূত্রধরের (৩৫)। ধারদেনা ও ঋণে জর্জরিত হয়ে মানসিক চাপে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ। বলাই সূত্রধর চাঁদপুর সদরের ১০ নং লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বহরিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি এই বাজারের সিআইপি বেরিবাঁধের সঙ্গে ‘মায়া শিল্পালয়’ নামে স্বর্ণের দোকানে নিজের জুয়েলারি ব্যবসা পরিচালনা করতেন। গত ১ নভেম্বর রোববার বিকেলে বলাই নিজের দোকানে থাকা এসিড পানি হতাশায় খেয়ে ফেলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বহরিয়া বাজারের ফল ব্যবসায়ী আল আমিন জানান, বলাই হতাশা থেকে নিজ দোকানের এসিড পানি খেয়ে নেন। পরে তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করলে বাজারের ব্যবসায়ীরা টের পেয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসক অবস্থার বেগতিক দেখে ঢাকা পাঠানোর সময় কুমিল্লা অতিক্রমকালে পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়। বলাই তাদের তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট।

স্থানীয়রা জানান, বলাইয়ের আর্থিক অবস্থা আগে থেকেই ভালো ছিল না। তখন তিনি মানুষের কাজ করাতে রাখা স্বর্ণালংকার ভেঙে ভেঙে বিক্রি করাসহ নানা উপায়ে ধারদেনা করে জাঁকজমকপূর্ণভাবে প্রথমবার বিয়ে করেন। এতে বিশাল প্যান্ডেল, শত শত লোকের খাওয়াদাওয়াসহ অনুষ্ঠান বাবদ ব্যাপক খরচ হয়। ওই স্ত্রী গর্ভাবস্থায় স্ট্রোকে মারা যান। এরপর প্রথম বিয়ের ধারদেনা শোধ না করেই ৬ মাসের মধ্যে তিনি পুনরায় আরও ধারদেনা করে পূর্বের চেয়েও জাঁকজমকপূর্ণভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর জমি কিনে চৌচালা বাড়ি তৈরি করায় তিনি আরও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে সাড়ে ৩ বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে এবং ওই স্ত্রী বর্তমানে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

বলাইয়ের স্ত্রী বৃষ্টি রানী সূত্রধর বলেন, ‘এই চৌচালা বাড়িটুকু ছাড়া বলাই আর কিছুই আমাদের জন্য রেখে যায়নি। এখন আমার ও আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবনও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’ তিনি পাওনাদারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, ময়নাতদন্ত শেষে বলাইয়ের মরদেহ সৎকারের জন্য তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি ঋণের চাপে হতাশা থেকে এসিড পানি খেয়েই এভাবে মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন।


 

Wednesday, October 28, 2026

October 28, 2026

নীলফামারীর ডোমারে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ


নীলফামারীর ডোমারে শ্যামল শর্মা (৩৮) নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের নীলাহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের ছোট ভাইয়ের করা মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিহত শ্যামল শর্মা হরিণচড়া ইউনিয়নের শালমারা মধ্যপাড়া গ্রামের শুসেন শীলের ছেলে। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই কৃষ্ণ শর্মা বাদী হয়ে ডোমার থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শালমারা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে আব্দুর রশিদ (৪০) এবং রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম (২৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী থেকে শাহনাজ বেগম নামে ওই নারীকে নীলাহাটি গ্রামে নিয়ে আসেন শ্যামল শর্মাসহ কয়েকজন। পরে সোমবার রাতে তারা ওই নারীকে নীলাহাটি বাঁশবাগানের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যান।

সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে শ্যামল শর্মাকে গাছের ডাল দিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

শ্যামলের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তারা আব্দুর রশিদ ও শাহনাজ বেগমকে আটক করেন। পরে আহত শ্যামল শর্মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক শ্যামল শর্মাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম সরকার বলেন, ‘অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য নারীকে এনে যুবকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে একজনকে মারধর করা হয়। পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান।’

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয়রা ওই নারীসহ দুজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


 

October 28, 2026

রংপুরের পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা: পৃথক দুটি মামলা, গ্রেপ্তার ২

রংপুরের পীরগঞ্জে সামাজিক মাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সৌরভ চন্দ্র মোহন্ত এবং বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় শফিকুল ইসলাম আরিফ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চক করিম (তেলিপাড়া) এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনটি হিন্দু পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী দীনেশ চন্দ্র মহন্ত জানান, একদল লোক সন্ধ্যায় এসে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আসবাব ভাঙচুর ও তিনটি ছাগল লুট করে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই আকস্মিক ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর হামলার অভিযোগে সৌরভ চন্দ্র মোহন্তর বাবা বিশু চন্দ্র মহন্ত বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে গুজিপাড়া এলাকার শফিকুল ইসলাম আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অন্যদিকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আমিনুল দফাদার বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সৌরভ চন্দ্র মোহন্তকে একমাত্র অভিযুক্ত করা হয় এবং ঘটনার রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননা ও ভাঙচুরের অভিযোগে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হওয়ায় পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী।

পীরগঞ্জ থানার ওসি নজমুল হক জানান, পৃথক দুটি মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।


 

October 28, 2026

ময়মনসিংহের ভালুকায় সেলুনে ঢুকে নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা


ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় সেলুনে ঢুকে এক নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম।

নিহত রবেন্দ্র ঋষি (৪৩) ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া এলাকার রঞ্জিত ঋষির ছেলে। তিনি ভালুকার জামিরদিয়া তরিফ মুন্সী মোড় এলাকার কাশেমের বাসায় ভাড়া থেকে সেলুনের ব্যবসা করতেন।

রবেন্দ্র ঋষির স্ত্রী সূচিত্রা বলেন, স্থানীয় এক যুবক প্রায়ই রবেন্দ্রর কাছ থেকে টাকা নিতেন। এছাড়া চুল কাটিয়ে টাকা দিতেন না। কিছুদিন ধরে টাকা দেওয়া বন্ধ করা এবং চুল কাটতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর আগেও ওই যুবক রবেন্দ্রকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন সূচিত্রা। তার অভিযোগ, ওই বিরোধের জেরেই স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেলুনে ঢুকে রবেন্দ্রকে ছুরিকাঘাত করেন ওই যুবক। প্রাণ বাঁচাতে রবেন্দ্র সেখান থেকে দৌড়ে এক দোকানে আশ্রয় নেন। সেখানেও তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তিনি পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে উঠানে তাকে ফেলে আবারও ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়।

ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


 

Tuesday, October 27, 2026

October 27, 2026

রংপুরের পীরগঞ্জে ফেসবুকে ধর্মব্যঙ্গের অভিযোগে তিন বাড়িতে ভাঙচুর, শতাধিক পুলিশ মোতায়েন

রংপুরের পীরগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম ধর্মকে ব্যঙ্গ করে ভিডিও তৈরির অভিযোগে তিনটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সদর ইউনিয়নে এক যুবকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ইসলাম ধর্মকে ব্যঙ্গ করে ভিডিও তৈরির অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ লোকজন তিনটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘মাগরিবের নামাজের পর একদল লোক আমাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। ওই সময় বিদ্যুৎ না থাকায় হামলাকারীদের চিনতে পারিনি।’ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘সন্ধ্যায় একদল লোক আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় তিনটি ছাগল ও ঘরের আসবাব লুট করে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা। তারা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


 

Monday, October 26, 2026

October 26, 2026

পিরোজপুরের নেছারাবাদে মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে


পিরোজপুরের নেছারাবাদে কয়েক দশকের পুরোনো একটি মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দখল হয়ে যায়।

মন্দির সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি শফিকুল ইসলাম হাওলাদার জমিটি দখল করে চাষাবাদ শুরু করেছেন। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মন্দিরটির অবস্থান উপজেলার দক্ষিণপাড়ায়। এটি সর্বজনীন শীতলা মন্দির নামে পরিচিত। স্থানীয়রা জানান, মন্দিরের নামে প্রায় ৪২ শতক জমি রয়েছে। কয়েক দশক ধরে এখানে পূজা ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে আসছিল। জমির আট মালিকের একজন সমীর রঞ্জন আইচ। তার কাছ থেকে অনিবন্ধিত বায়নাচুক্তির ভিত্তিতে কিছু জমি কেনেন শফিকুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পরপরই জমিটি দখলে নেন তিনি। সমীর রঞ্জন এখন ভারতে অবস্থান করছেন।

জমির আরেক মালিক ননী লাল বিশ্বাসের ছেলে মনোজ বিশ্বাস বলেন, সর্বশেষ হালনাগাদ বিএস রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি আটজন শরিকের নামে রেকর্ড করা হয়। শফিকুল একটি বায়নাচুক্তি দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলা চলা অবস্থায় তিনি জমিটি দখলে নিয়ে ধান চাষ করছেন। মনোজ বিশ্বাস বলেন, তাদের পূর্বপুরুষরাও ওই স্থানে শীতলা পূজা করেছেন। জমিটি উদ্ধার করে আগের মতো পূজা-অর্চনা চালুর দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন আইচ বলেন, ছোটবেলা থেকে তিনি ওই জমিতে শীতলা পূজা হতে দেখে আসছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমিটি দখলের অভিযোগ ওঠে। কাগজপত্র নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা এড়িয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

সমুদয়কাঠি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আবু হানিফ বলেন, শফিকুল ইসলাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে জমি-সংক্রান্ত বিষয়টি তার ব্যক্তিগত। ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ জমি দখল করলে তার দায় দল নেবে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব প্রলয় মণ্ডল এক বিবৃতিতে জানান, সমুদয়কাঠিতে জমি দখল, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পেয়ে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম হাওলাদার তাতে সাড়া দেননি। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানান প্রলয় মণ্ডল।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ওই জমি নিয়ে কিছুটা বিরোধ রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একবার থানায় বসা হয়েছিল। উভয় পক্ষকে আইনি প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


 

Saturday, October 24, 2026

October 24, 2026

চার দিন নিখোঁজের পর পুকুরে মিলল গৃহবধূর মরদেহ, হাত-পা বাঁধা ছিল


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে চার দিন নিখোঁজ থাকার পর রত্না দাস (৩০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের হাত-পা দড়ি দিয়ে একটি ভারী বস্তুর সঙ্গে বাঁধা ছিল।

নিহত রত্না দাস খাগালিয়া গ্রামের সুশীল দাসের স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের মধ্যপাড়ায়। তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। স্বামী সুশীল দাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের একটি হোটেলে কাজ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর রাতে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রত্না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। পরদিন তাঁর স্বামী নাসিরনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

বুধবার বিকেলে বাড়ির পাশের পুকুরে কিছু একটা ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। কাছে গিয়ে তাঁরা এক নারীর মরদেহ দেখতে পান। পরে স্বজনেরা এসে মরদেহটি রত্না দাসের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর গলায় শাড়ি প্যাঁচানো ছিল এবং দুই হাত ও পা দড়ি দিয়ে সিমেন্টের স্লাবের মতো একটি ভারী বস্তুর সঙ্গে বাঁধা ছিল।

ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

এদিকে, নিহতের স্বজনদের দাবি, বাড়িতে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও খোয়া গেছে। তাঁদের ধারণা, রত্নাকে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে তদন্তের ফল পাওয়া যায়নি।

রত্নার মামা বিনোদ দাস এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছেন।


 

"
"