কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, April 9, 2026

April 09, 2026

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্প নির্দেশক তরুণ ঘোষ আর নেই

প্রখ্যাত শিল্প নির্দেশক তরুণ ঘোষের মৃত্যু
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্প নির্দেশক ও প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৩ বছর।
অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণ
নির্মাতা এন রাশেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, অ্যাজমাজনিত জটিলতা থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। রাত পৌনে ১২টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক পুত্রসন্তান রেখে গেছেন।
🎨 শৈশব, শিক্ষা ও কর্মজীবন
জন্ম: নভেম্বর ১৯৫৩, রাজবাড়ী
স্নাতক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর চারুকলা ইনস্টিটিউট (১৯৭৭)
স্নাতকোত্তর: মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত (১৯৮৬)
তিনি ১৯৭৯ সালে রাজশাহী আর্ট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন, যা পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে রূপ নেয়।
১৯৮৫–৮৭ সালে তিনি ভারতের বরোদায় ফোক পেইন্টিং গবেষণা প্রকল্পে কাজ করেন। পরে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর–এ দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন শেষে ২০১২ সালে ‘কিপার’ পদ থেকে অবসর নেন।
🎬 চলচ্চিত্রে অবদান
চিত্রকলার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের শিল্প নির্দেশনায়ও তিনি রেখে গেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান।
তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে—
🎥 কিত্তনখোলা — (পরিচালনা: আবু সাইয়ীদ) → জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন
🎥 মাটির ময়না — (পরিচালনা: তারেক মাসুদ)
🎥 নরসুন্দর
🎥 চন্দ্রাবতী কথা — (পরিচালনা: এন রাশেদ চৌধুরী)
🕯️ শেষ কথা
তরুণ ঘোষ ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার এক উজ্জ্বল নাম। চিত্রকলা ও চলচ্চিত্র—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলো। তাঁর কাজ ও সৃষ্টিই তাঁকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখবে।


 

April 09, 2026

তিন মাসে ১৩৩টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ঐক্য পরিষদের

দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে গত তিন মাসে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা অব্যাহত থাকার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
তিন মাসে ১৩৩টি সহিংসতার ঘটনা
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মোট ১৩৩টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
🔴 হত্যা: ২৫টি
⚠️ ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন: ৪টি
🛕 মন্দিরে হামলা ও লুটপাট: ৩৫টি
⚡ অন্যান্য হামলা (জাতিসত্তা ও সংখ্যালঘুদের ওপর): ৬৯টি
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান
📅 জানুয়ারি (মোট ৪৬টি ঘটনা)
হত্যা: ১১টি
ধর্ষণ: ১টি
মন্দিরে হামলা: ৯টি
লুটপাট/ভাঙচুর/হামলা: ১৫টি
ভূমি দখল: ৩টি
অন্যান্য: ৫টি
📅 ফেব্রুয়ারি (মোট ৫০টি ঘটনা)
হত্যা: ৮টি
ধর্ষণ: ১টি
মন্দিরে হামলা: ১৫টি
লুটপাট/হামলা: ১৭টি
ভূমি দখল: ৬টি
অপহরণসহ অন্যান্য: ৩টি
📅 মার্চ (মোট ৩৭টি ঘটনা)
হত্যা: ৬টি
ধর্ষণ/যৌন হয়রানি: ২টি
মন্দিরে হামলা: ১১টি
লুটপাট/হামলা: ৭টি
ভূমি দখল: ৪টি
অন্যান্য: ৫টি
সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ
ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে, নতুন সরকার গঠনের পর এ ধরনের সহিংসতা কমবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে ঘটনাগুলো অব্যাহত থাকায় সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।
৮ দফা দাবি জানানো হয়েছে
পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংগঠনটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে—
জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান
আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা
সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন
সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন
জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন প্রতিষ্ঠা
শেষ কথা
এই পরিসংখ্যান দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।


 

April 09, 2026

রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়? কারণ জানলে অবাক হবেন

 

😴 রাত ৩টায় ঘুম ভাঙা—এটা কি স্বাভাবিক?
গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন ৩টা বাজে—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। ভাবছেন, শুধু আপনারই এমন হয়? মোটেও না।
রাতের মাঝামাঝি ঘুম ভেঙে যাওয়া খুবই সাধারণ একটি বিষয়। তবে যদি এটি নিয়মিত হয়, তাহলে এর পেছনের কারণ জানা জরুরি।
🧠 বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা রাত ১০টার দিকে ঘুমাতে যান, তাদের ক্ষেত্রে রাত ৩টার সময়টি সাধারণত REM (Rapid Eye Movement) ঘুমের পর্যায়।
👉 এই সময় ঘুম তুলনামূলক হালকা থাকে
👉 তাই খুব সহজেই ঘুম ভেঙে যেতে পারে
🚨 কেন রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে যায়?
🚽 ১. বারবার বাথরুমে যাওয়া
ঘুমের মধ্যেও শরীর কাজ করে। তবে এটি নিয়মিত হলে “নকচুরিয়া” হতে পারে।
সমাধান:
ঘুমানোর আগে কম পানি পান করুন।
💡 ২. আলো
হালকা আলোও মস্তিষ্ককে “দিন” মনে করায়।
সমাধান:
ব্ল্যাকআউট পর্দা বা স্লিপ মাস্ক ব্যবহার করুন।
🔊 ৩. শব্দ
রাতের নীরবতায় ছোট শব্দও বড় মনে হয়।
সমাধান:
হোয়াইট নয়েজ বা ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করুন।
😟 ৪. মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা
স্ট্রেস
অ্যাংজাইটি
ডিপ্রেশন
এসব কারণে ঘুমের চক্র ভেঙে যায়।
সমাধান:
দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
💤 ৫. দিনের বেলা ঘুমানো
দুপুরের ঘুম রাতে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সমাধান:
ন্যাপ ২০ মিনিটের বেশি নয়।
🤕 ৬. শরীরের ব্যথা
পিঠ ব্যথা, মাথাব্যথা বা মাংসপেশির টান ঘুম ভাঙাতে পারে।
সমাধান:
সঠিক ঘুমের ভঙ্গি বজায় রাখুন।
👵 ৭. বয়স বাড়া
বয়স বাড়ার সঙ্গে ঘুমের ধরন বদলে যায়।
সমাধান:
নিয়মিত রুটিন মেনে চলুন।
🍷 ৮. অ্যালকোহল
অনেকে ভাবেন এটি ঘুম আনে, কিন্তু আসলে ঘুম ভেঙে দেয়।
সমাধান:
ঘুমানোর ৩ ঘণ্টা আগে এড়িয়ে চলুন।
🏥 ৯. ঘুমের রোগ
ইনসমনিয়া
স্লিপ অ্যাপনিয়া
রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম
সমাধান:
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
🧩 ‘রাত ৩টার রহস্য’—আসল সত্য কী?
অনেকে মনে করেন, এর পেছনে আধ্যাত্মিক কারণ আছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে—
👉 এটি মূলত শরীরের ঘুমের চক্র ও অভ্যাসের ফল
👉 একবার এই সময়ে ঘুম ভাঙলে শরীর সেটিতে অভ্যস্ত হয়ে যায়
🌙 ঘুম ভেঙে গেলে কী করবেন?
যদি ঘুম ভেঙে যায়—
১৫–২০ মিনিট চেষ্টা করুন আবার ঘুমানোর
না পারলে বিছানা ছেড়ে উঠুন
তারপর করতে পারেন—
মেডিটেশন
হালকা বই পড়া
ক্যাফেইনবিহীন চা
শান্ত গান শোনা
গভীর শ্বাস নেওয়া
❌ মোবাইল ব্যবহার করবেন না (ব্লু লাইট ঘুম নষ্ট করে)
✅ শেষ কথা
রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে যদি এটি নিয়মিত হয় বা আপনার দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে এটিকে অবহেলা করবেন না।
শরীরের সংকেত বুঝুন, জীবনযাত্রা ঠিক করুন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন—তাহলেই পাবেন শান্ত ও গভীর ঘুম 😴


April 09, 2026

অন্যের ফোনে উঁকি দেয় ৫৬% মানুষ! স্মার্টফোন গোপনীয়তায় বড় ঝুঁকি

📱 স্মার্টফোন: সুবিধার সঙ্গে বাড়ছে গোপনীয়তার ঝুঁকি
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকিও।
সম্প্রতি Samsung–এর এক জরিপে উঠে এসেছে, অর্ধেকেরও বেশি মানুষ অন্যের ফোনের স্ক্রিনে উঁকি দেন—যা গোপনীয়তার জন্য বড় হুমকি।
📊 জরিপে কী জানা গেছে?
জরিপ অনুযায়ী—
৫৬% মানুষ বলেছেন, জনসমক্ষে অন্যের ফোনের স্ক্রিনে অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের নজর পড়ে
২৪% মানুষ স্বীকার করেছেন, কৌতূহলবশত ইচ্ছা করে উঁকি দেন
৫৭% ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটে গণপরিবহনে
৩৩% মানুষ অন্যের ফোনে সংবেদনশীল তথ্য দেখে ফেলেছেন
এটি প্রমাণ করে, ব্যক্তিগত তথ্য কত সহজেই অন্যের চোখে পড়ে যেতে পারে।
👀 মানুষ কী ধরনের তথ্য দেখে ফেলে?
অন্যের ফোনে উঁকি দিলে সাধারণত যে তথ্যগুলো চোখে পড়ে—
৩৮% ব্যক্তিগত ছবি
৩২% ভিডিও কল
২৯% মেসেজ
২৭% সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
১৭% অনলাইন কেনাকাটা
১২% ডেটিং অ্যাপ নোটিফিকেশন
১১% ব্যাংকিং তথ্য
এগুলো থেকে বোঝা যায়, শুধু বিনোদন নয়—গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্যও ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
😐 মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়?
জরিপে আরও জানা গেছে—
৪২% মানুষ বুঝতে পারলে ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দেন
মাত্র ১০% মানুষ সরাসরি প্রতিবাদ করেন
২৮% মানুষ দেখেও উপেক্ষা করেন
২৭% মানুষ সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে নেন
৭% মানুষ কৌশলে অন্যের ফোনে তাকিয়ে থাকেন
⚠️ কেন এটি চিন্তার বিষয়?
এই প্রবণতা শুধু অস্বস্তিকর নয়, বরং—
ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়
ব্যাংকিং ও আর্থিক নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলে
ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও গোপন তথ্য প্রকাশ পেতে পারে
🔐 সমাধান কী?
এই সমস্যার সমাধানে Samsung একটি বিশেষ ফিচার নিয়ে এসেছে—Privacy Display।
এই ফিচারের মাধ্যমে—
নির্দিষ্ট কোণ ছাড়া স্ক্রিন দেখা যায় না
পাশ থেকে তাকালে স্ক্রিন অন্ধকার দেখায়
প্রয়োজন অনুযায়ী চালু বা বন্ধ করা যায়
এটি জনসমক্ষে ফোন ব্যবহারের সময় গোপনীয়তা রক্ষা করতে কার্যকর একটি উপায়।
🧠 আপনার জন্য কিছু টিপস
নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করতে—
পাবলিক জায়গায় সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
স্ক্রিন ব্রাইটনেস ও অ্যাঙ্গেল সচেতনভাবে ব্যবহার করুন
প্রয়োজনে প্রাইভেসি স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করুন
অচেনা পরিবেশে ব্যাংকিং বা পাসওয়ার্ড টাইপ করা থেকে বিরত থাকুন
✅ শেষ কথা
স্মার্টফোন আমাদের জীবন সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে নতুন ঝুঁকিও তৈরি করেছে।
অন্যের এক ঝলক দৃষ্টিই কখনো আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দিতে পারে। তাই সচেতন থাকাই এখন সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা 🔒


 

April 09, 2026

চাঁদপুরে জ্বরের শিশুকে ভুল করে দেওয়া হলো কুকুরে কামড়ের ভ্যাকসিন, হাসপাতালে উত্তেজনা

চাঁদপুরে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বরের চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুকে ভুল করে কুকুরে কামড়ের ভ্যাকসিন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?
জানা গেছে, কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর গ্রামের বাসিন্দা এমরান হোসেন তার ৫ বছরের সন্তান আলিফাকে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।
একই সময় আরেক রোগী—শাহরাস্তি উপজেলার আহম্মদ নগর গ্রামের রুবেলের ১৪ বছরের সন্তান নাজমুল—কুকুরের কামড়ের চিকিৎসা নিতে সেখানে আসেন।
কোথায় হলো ভুল?
দুই রোগীকেই জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম আলাদা আলাদা চিকিৎসাপত্র দেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে—
দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) আবু ইউসুফ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র না দেখেই ভুলবশত জ্বরের রোগী আলিফাকে কুকুরে কামড়ের ভ্যাকসিন দিয়ে দেন।
অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর শিশুটির অভিভাবকদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এ ঘটনায় পরিবারে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মী আবু ইউসুফ বলেন—
👉 “ভ্যাকসিনে কোনো ক্ষতি হবে না”
👉 “ভুল করে অন্য রোগীর ভ্যাকসিন শিশুটিকে দেওয়া হয়েছে”
কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকলিমা জাহান জানিয়েছেন—
বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে
শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে
দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল অফিসারকে শোকজ করা হবে
শেষ কথা
এই ঘটনা আবারও হাসপাতালের সেবার মান ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।


 

"
"