কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Wednesday, April 8, 2026

April 08, 2026

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি, আদালতের সিদ্ধান্ত অপেক্ষমাণ

চট্টগ্রামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে নতুন মামলার শুনানি
চট্টগ্রামে সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে একটি নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুতাসিম বিল্লাহর আদালতে এ শুনানি হয়। তবে শুনানি শেষে আদালত তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি। বিষয়টি বর্তমানে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।
মামলার পটভূমি
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দায়ের করা একটি মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়।
এই মামলার বাদী হচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের বাবা এবং সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।
পিবিআই প্রতিবেদন ও গ্রেপ্তার আবেদনের প্রেক্ষাপট
বাদীপক্ষের আইনজীবী নাজমুল হাসান সিদ্দিকী জানান, নালিশি মামলায় পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়ার পর কারাগারে থাকা চিন্ময় দাসকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করা হয়।
এর আগে আসামিপক্ষের আইনজীবী কেপি শর্মা গ্রেপ্তার সংক্রান্ত আবেদন করলে আদালত শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেন।
পূর্বের মামলার সঙ্গে সংযোগ
এর আগে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এই সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কর্তব্যে বাধা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বর্তমান অবস্থা
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। আদালতের আদেশের জন্য বিষয়টি অপেক্ষমাণ রয়েছে।


 

April 08, 2026

মানুষ কেন পরকীয়ায় জড়ায়? কোন পেশায় ঝুঁকি বেশি—জানুন জরিপের চমকপ্রদ তথ্য

মানুষ কেন পরকীয়ায় জড়ায়?
মানুষ কেন পরকীয়ায় জড়ায়—এই প্রশ্নের উত্তর সবার ক্ষেত্রে এক নয়। কারও কাছে এটি সাময়িক আকর্ষণ, আবার কারও জন্য মানসিক শূন্যতা পূরণের একটি চেষ্টা।
অনেক সময় সম্পর্কের একঘেয়েমি মানুষকে নতুন কিছু খুঁজতে বাধ্য করে। এমনকি কিছু গবেষণায় দেখা যায়, বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাও একঘেয়েমি এড়াতে সম্পর্কের বাইরে আগ্রহ দেখাতে পারেন।
পরকীয়ার ধরন: মাইক্রোচিটিং থেকে পূর্ণ সম্পর্ক
পরকীয়া সবসময় বড় সম্পর্ক দিয়ে শুরু হয় না। অনেক সময় এটি ‘মাইক্রোচিটিং’ দিয়ে শুরু হয়—যেমন গোপনে যোগাযোগ রাখা, আবেগ শেয়ার করা বা লুকিয়ে কথা বলা। ধীরে ধীরে তা গভীর সম্পর্কে রূপ নিতে পারে।
জরিপ কী বলছে?
সম্প্রতি বিবাহিতদের জন্য তৈরি একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম অ্যাশলি ম্যাডিসনের এক জরিপে উঠে এসেছে—কোন পেশার মানুষ তুলনামূলক বেশি পরকীয়ায় জড়ান।
১,০৭৪ জন সদস্যের ওপর পরিচালিত এই জরিপে তাদের পেশা ও ব্যক্তিগত আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়।
একটি মজার তথ্য হলো—যারা সম্পর্কে অবিশ্বস্ত, তাদের অনেকেই কর্মজীবনে স্থিতিশীল। প্রায় ৪৪% উত্তরদাতা কখনো চাকরি পরিবর্তন করেননি, আর যারা করেছেন, তারা গড়ে ১০ বছরে একবার পরিবর্তন করেছেন।
👨 পুরুষদের ক্ষেত্রে শীর্ষ পেশা
নিচে পুরুষদের মধ্যে পরকীয়ার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে এমন কিছু পেশা দেওয়া হলো—
সামাজিক সেবা – ২%
কৃষি – ৩%
শিল্প ও বিনোদন – ৩%
শিক্ষা – ৪%
আইন – ৪%
চিকিৎসা – ৫%
মার্কেটিং ও কমিউনিকেশন – ৬%
ফাইন্যান্স – ৮%
রিটেইল ও হসপিটালিটি – ৮%
উদ্যোক্তা
নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতার কারণে ব্যক্তিগত জীবনেও তারা স্বাধীনভাবে চলতে আগ্রহী।
আইটি – ১২%
ট্রেডস – ২৯%
অনিয়মিত সময়সূচি ও শিফট ডিউটির কারণে এই পেশায় গোপন সম্পর্ক বজায় রাখা তুলনামূলক সহজ।
👩 নারীদের ক্ষেত্রে শীর্ষ পেশা
নারীদের ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট পেশায় এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে—
রাজনীতি – ১%
শিল্প ও বিনোদন – ৪%
আইন – ৪%
ট্রেডস – ৪%
মার্কেটিং ও কমিউনিকেশন – ৪%
আইটি – ৮%
রিটেইল ও হসপিটালিটি – ৯%
সামাজিক সেবা – ৯%
ফাইন্যান্স – ৯%
উদ্যোক্তা
স্বাধীনতা ও নিজস্ব সিদ্ধান্তের কারণে এই পেশার নারীরাও তালিকায় এগিয়ে।
শিক্ষা – ১২%
চিকিৎসা – ২৩%
দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মানসিক চাপ এবং সেই চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার চাহিদা এখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
কেন কিছু পেশায় ঝুঁকি বেশি?
জরিপ অনুযায়ী, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরকীয়ার প্রবণতা বাড়াতে পারে—
অনিয়মিত সময়সূচি
দীর্ঘ কর্মঘণ্টা
মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ
উচ্চ মানসিক চাপ
এই কারণগুলো ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলে এবং অনেক সময় মানুষ বিকল্প সম্পর্কের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ একটি সত্য
তবে মনে রাখা জরুরি—পেশা কখনোই একজন মানুষের চরিত্র নির্ধারণ করে না। একই পেশায় থেকেও মানুষের মূল্যবোধ, পারিবারিক বন্ধন এবং নৈতিকতা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।
এই জরিপ শুধু একটি সাধারণ প্রবণতা তুলে ধরে। বাস্তব জীবন সবসময়ই আরও জটিল এবং ব্যক্তি ভেদে আলাদা।


 

April 08, 2026

খুলনায় তারকেশ্বর বাবার আবির্ভাব উপলক্ষে ২৭তম ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন ​নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা |

​খুলনার ঐতিহ্যবাহী জোড়া শিব মন্দির (৫নং ঘাট) প্রাঙ্গণে আগামী ১৩ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার উদযাপিত হতে যাচ্ছে তারকেশ্বর বাবার আবির্ভাব উপলক্ষে ২৭তম বার্ষিক ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও উৎসব। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শেষ সোমবার এই বিশেষ উৎসবটি অত্যন্ত ভক্তি ও উৎসাহের সাথে পালিত হয়ে আসছে।
​উৎসবের সময়সূচী ও রুট
​আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানসূচীর মধ্যে রয়েছে:
​সকাল ৭:৩০ মিনিট: পাবলা বণিকপাড়া পঞ্চবটি মায়ের গাছতলা মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের উপস্থিতি।
​সকাল ৮:০০ মিনিট: সরকারি বি.এল কলেজ (দৌলতপুর) সংলগ্ন দধি বামনদেব মন্দির ঘাটে পুণ্য স্নান।
​সকাল ৯:০০ মিনিট: বি.এল কলেজ সংলগ্ন মন্দির থেকে ধর্মীয় শোভাযাত্রা শুরু। ভক্তরা পায়ে হেঁটে কাঁধে বাঁকে জল বহন করে জোড়া শিব মন্দিরে দেব্যাদিদেবের বিগ্রহে জল অর্পণ করবেন।
​দুপুর ২:০০ মিনিট: পাবলা বণিকপাড়া পঞ্চবটি মায়ের গাছতলা মন্দির প্রাঙ্গণে মহাপ্রসাদ বিতরণ।
​আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা
​এবারের ২৭তম বর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের মূল আয়োজনে রয়েছে জোড়া শিব মন্দির (৫নং ঘাট), খুলনা। সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, দৌলতপুর থানা শাখা এবং খুলনা মহানগর শাখা।
​আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি বছরের মতো এবারও হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে শোভাযাত্রা সম্পন্ন করতে এবং ভক্তদের নিরাপত্তায় বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত থাকবে।
​বিশেষ আকর্ষণ
​এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হলো ভক্তদের দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে জল বহন করে শিবের মাথায় অর্পণ করা, যা এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধর্মীয় আচার। রঙিন ব্যানার, বাদ্যযন্ত্র এবং হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করবে।
​উৎসব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সকল ধর্মপ্রাণ ভক্তকে যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানকে সফল ও সার্থক করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।


 

Tuesday, April 7, 2026

April 07, 2026

বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিলো ক্রীড়া পরিষদ, ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান। এর আগে তিনি এনএসসির গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
এদিকে, ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রাখা হয়েছে তামিম ইকবাল–কে। এই কমিটি আগামী তিন মাস দায়িত্ব পালন করবে।
আমিনুল এহসান আরও জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)–এর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে International Cricket Council–কে ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন এডহক কমিটির তালিকাও পাঠানো হয়েছে।
তামিম ইকবাল ছাড়া এডহক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— আতহার আলী খান, মিনহাজুল আবেদীন, রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম এবং ফাহিম সিনহা।
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আমিনুল ইসলাম বুলবুল–এর নেতৃত্বে গঠিত পরিচালনা পর্ষদ মাত্র ছয় মাসের মাথায় বিলুপ্ত করা হলো। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগে এই বোর্ডটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। অনেক ক্লাব কাউন্সিলর নির্বাচন বয়কট করেন এবং প্রথম বিভাগ লিগেও অংশ নেয়নি ৮টি দল। একই কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এছাড়া বিদ্রোহী কাউন্সিলরদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে তদন্ত করে এনএসসি। সেই তদন্তের ফলেই শেষ পর্যন্ত বোর্ডটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বুলবুলের নেতৃত্বাধীন কমিটি গঠনের পর থেকেই পদত্যাগের ধারা শুরু হয়। মোট ১০ জন পরিচালক পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বোর্ড সভার দিনই চারজন পদত্যাগ করেন। সভা শেষে ফাইয়াজুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে রাত ১০টার দিকে পদত্যাগ করেন শানিয়ান তানিম ও মেহরাব আলম চৌধুরি। গভীর রাতে পদত্যাগ করেন মঞ্জুর আলম। এর আগে পদত্যাগ করেন ইশতিয়াক সাদেক, ইয়াসিন ফয়সাল ও আমজাদ হোসেন।


 

April 07, 2026

সুন্দরবনে বাঘের চেয়েও বড় আতঙ্ক বনদস্যু

সুন্দরবনে চলতি মৌসুমে মধু আহরণ শুরু হলেও বনদস্যুদের ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মৌয়ালরা। তাদের মতে, এখন বাঘের চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বনদস্যু। পাস নিয়ে বনে প্রবেশ করলেও নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অথচ জীবিকার প্রধান উৎস হওয়ায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে বনে যেতে হচ্ছে তাদের। 🌿
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে সুন্দরবন–এর বিভিন্ন পয়েন্টে মৌয়ালরা মধু সংগ্রহ শুরু করেছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও শত শত মৌয়াল গভীর বনে প্রবেশ করছেন, তবে এবারের বড় উদ্বেগ বনদস্যুদের তৎপরতা।
মৌয়াল মতিউর রহমান বলেন, “বাঘ, সাপ, কুমির—সবকিছুর ভয় নিয়েই আমরা কাজ করি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভয় মানুষকে, বনদস্যুকে। বাঘের হাতে পড়লে বাঁচার আশা থাকে, কিন্তু দস্যুরা ধরলে মারধর করে, মুক্তিপণ দাবি করে।”
আরেক মৌয়াল হাফিজুল ইসলাম জানান, আগে ২-১টি দস্যু বাহিনীকে টাকা দিলেই চলত, এখন ৪-৫টি বাহিনী টাকা দাবি করে। এতে অনেকেই বনে যেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, কারণ খরচ তুলতে না পারার আশঙ্কা রয়েছে।
নীলডুমুর এলাকার মৌয়াল শাহাবুদ্দিন গাইন বলেন, “মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বনে যাই। কিন্তু মধু কম পেলে ঋণ শোধ করা যায় না, উল্টো নৌকাও হারাতে হয়। তার ওপর আবার দস্যুদের টাকা দিতে হয়।”
বন বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর ১,১০০ কুইন্টাল মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মধু আহরণ ধারাবাহিকভাবে কমছে।
২০২১ সালে ৪,৪৬৩ কুইন্টাল মধু সংগ্রহ হলেও ২০২২ সালে তা কমে ৩,০০৮ কুইন্টাল হয়। ২০২৩ সালে ২,৮২৫ কুইন্টাল, ২০২৪ সালে ৩,১৮৩ কুইন্টাল এবং ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ২,০৭৬ কুইন্টালে—যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫% কম। এই পতনের প্রভাব পড়েছে মৌয়ালদের সংখ্যাতেও। ২০২৪ সালে প্রায় ৮ হাজার মৌয়াল কাজ করলেও ২০২৫ সালে তা কমে প্রায় ৫ হাজারে দাঁড়ায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, বনদস্যু সমস্যা সমাধান না হলে মৌয়ালদের অংশগ্রহণ আরও কমে যাবে, যা উপকূলীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এদিকে জানা গেছে, গত ছয় মাসে প্রায় শতাধিক জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। অনেক ক্ষেত্রে মুক্তিপণ দিয়েই মুক্তি মিলছে, আবার কখনো দস্যুদের সঙ্গে সমঝোতা করেই বনে প্রবেশ করতে হচ্ছে। বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদারে বনরক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। দস্যুদের তথ্য পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মধু আহরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অভিযান শুরু হয়েছে। কিছু দস্যু আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, সরকার কখনো দস্যুদের পৃষ্ঠপোষকতা করবে না এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
 

"
"