কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Saturday, May 2, 2026

May 02, 2026

“সবার আগে মানুষ”—রামকৃষ্ণ মিশনের অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পরিচয়ই সবচেয়ে বড়—এমন বার্তা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী Ishraq Hossain। তিনি বলেন, “সবার আগে আমরা মানুষ, এরপর বাঙালি—এটাই আমাদের প্রধান পরিচয়।”
শুক্রবার ঢাকার Ramakrishna Mission–এর ১৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিনটি উপলক্ষে পূজা, প্রার্থনা এবং আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন Swami Purnatmananda, যিনি Ramakrishna Math ও মিশনের অধ্যক্ষ ও সম্পাদক। তিনি বলেন, এই মিশনের দর্শন হলো—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ঈশ্বরের রূপে দেখা এবং মানবসেবাকে সর্বোচ্চ ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করা।
প্রতিমন্ত্রী Ishraq Hossain তার বক্তব্যে আরও বলেন, বাংলাদেশে সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কোনো ধর্মের ওপর আঘাত এলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন Soumendra Sarkar। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন Anne Mary Georgeসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মীয় নেতারা।
সার্বিকভাবে, অনুষ্ঠানে সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং মানবতার মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরা হয় 🤝

 

May 02, 2026

৬০ সেকেন্ডের রহস্য: প্রাচীন ব্যাবিলন থেকে আধুনিক সময় গণনার গল্প

ঘড়ির কাঁটার এই পরিচিত হিসাব—৬০ সেকেন্ডে ১ মিনিট, ৬০ মিনিটে ১ ঘণ্টা—আসলে মানব সভ্যতার হাজার বছরের পুরোনো এক বৈজ্ঞানিক উত্তরাধিকার। এর সূচনা হয়েছিল প্রাচীন Babylon-এ, যা বর্তমান Iraq-এর টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর তীরে অবস্থিত ছিল।
প্রায় ২৫০০ থেকে ৪০০০ বছর আগে, ব্যাবিলনীয়রা শুধু সময় গণনাই করেনি, তারা গড়ে তুলেছিল বিজ্ঞানের প্রাথমিক কাঠামো। তখন কোনো ঘড়ি বা ক্যালেন্ডার ছিল না—বিশাল আকাশই ছিল তাদের সময় মাপার যন্ত্র। চাঁদের পরিবর্তন দেখে মাস, সূর্যের গতিপথ দেখে বছর নির্ধারণ করত তারা।
কিন্তু তাদের আগ্রহ এখানেই থেমে থাকেনি। আকাশের অদ্ভুত আচরণ—গ্রহের হঠাৎ গতি পরিবর্তন (যাকে আজ আমরা Retrograde Motion বলি), কিংবা সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ—এসব তাদের কৌতূহলী করে তোলে। তারা বিশ্বাস করত, এসব মহাজাগতিক ঘটনা পৃথিবীর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বহন করে।
এই পর্যবেক্ষণগুলো সংরক্ষণের জন্য তারা কিউনিফর্ম লিপিতে কাদা ফলকে তথ্য লিখে রাখত। তাদের বিখ্যাত গ্রন্থ Enuma Anu Enlil এবং Mul.Apin-এ আকাশ পর্যবেক্ষণের বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ ছিল।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, তারা টানা প্রায় ৭০০ বছর ধরে আকাশের গতিবিধি, আবহাওয়া, এমনকি শস্যের দাম পর্যন্ত নথিভুক্ত করেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি ডেটা সংগ্রহের মাধ্যমে তারা গাণিতিক হিসাব ব্যবহার করে ভবিষ্যতের গ্রহণ বা গ্রহের অবস্থান নির্ভুলভাবে অনুমান করতে পারত।
এখানেই আসে তাদের সবচেয়ে বড় অবদান—৬০-ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি। আমরা আজ যেভাবে সময় ভাগ করি, সেটি এই পদ্ধতিরই ফল। কেন ৬০? কারণ ৬০ একটি অত্যন্ত সুবিধাজনক সংখ্যা—এটি ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ইত্যাদি অনেক সংখ্যায় ভাগ করা যায়, যা জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণনায় সহজতা এনে দেয়।
পরবর্তীতে গ্রিক জ্যোতির্বিদরা এই জ্ঞান ব্যবহার করে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে তোলেন। এমনকি আজকের NASA-এর গ্রহণ সংক্রান্ত হিসাবেও সেই প্রাচীন ব্যাবিলনীয় জ্ঞানের ছাপ পাওয়া যায়।
সংক্ষেপে বললে, আমাদের প্রতিদিনের ঘড়ির সময় শুধু একটি অভ্যাস নয়—এটি হাজার বছরের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, গণিত এবং মানব মেধার এক অনন্য উত্তরাধিকার।
May 02, 2026

ইরানের প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট Donald Trump, সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ও Iran–এর মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। আলোচনায় অগ্রগতি না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম The Guardian–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প জানিয়েছেন বর্তমানে আলোচনা চললেও তা সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তার ভাষায়, সামনে দুটি পথ খোলা—একটি হলো সামরিক শক্তি প্রয়োগ, অন্যটি একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।
তবে ইরানের নতুন প্রস্তাবের কোন কোন দিক নিয়ে আপত্তি রয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি তিনি। শুধু বলেন, “তারা এমন কিছু দাবি করছে, যা আমার পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।” পাশাপাশি ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন প্রস্তাবটি Pakistan–এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছে। যদিও প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ইসলামাবাদ এটিকে তাদের ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতির অংশ হিসেবে দেখলেও সাম্প্রতিক অচলাবস্থার কারণে তাদের ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে Strait of Hormuz–কে ঘিরে উত্তেজনা। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থান কঠোর। ট্রাম্প মনে করেন, অবরোধ সামরিক হামলার চেয়েও কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন কৌশলের ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো, যেমন Pakistan, ইতোমধ্যেই জ্বালানি ব্যয়ের চাপ অনুভব করছে।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে গিয়ে যদি কোনো কোম্পানি ইরানকে অর্থ প্রদান করে, তবে তারা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এমনকি মানবিক সংস্থায় অনুদান দিলেও ঝুঁকি থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে সমঝোতার পথ জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না হলে এই উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে 🌍⚠️

 

May 02, 2026

অসহায় পরিবারের পাশে মানবিক উদ্যোগ, ফটিকছড়িতে নতুন গৃহ হস্তান্তর

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে অনন্য মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সনাতনী মুচকি হাসি পরিবার’। উপজেলার বারমাসিয়া দক্ষিণ হিন্দুপাড়ায় সংগঠনটির অর্থায়নে নির্মিত একটি নতুন গৃহের উদ্বোধন ও গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় স্বর্গীয় পরিতোষ দে’র পরিবারের জন্য নির্মিত নিরাপদ এই আবাসন আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে থাকা পরিবারটির জন্য এই গৃহ নির্মাণ যেন নতুন জীবনের সূচনা হয়ে এসেছে।
নবনির্মিত গৃহের উদ্বোধন করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্ট, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক রোটানিয়ান জুয়েল চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে প্রধান আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত থেকে মাঙ্গলিক প্রার্থনা ও আশীর্বাদ প্রদান করেন ফটিকছড়ি কেন্দ্রীয় লোকনাথ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রী শ্রীমৎ উজ্জ্বলানন্দ ব্রহ্মচারী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সনাতন সেবা সংঘের সভাপতি ডা. মিল্টন দে ছোটন, সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক বাবলা কুমার দে এবং সংগঠনের সদস্য মিথুন ধর ও সুব্রত দে শুভ। শ্রী অন্তু দাশগুপ্তের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন সদস্য ও সংগঠকরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানোই সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য। একটি গৃহহীন পরিবারকে স্থায়ী আবাসন উপহার দিতে পেরে তারা আনন্দিত ও গর্বিত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথিবৃন্দ উপকারভোগী পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন। নতুন এই গৃহ পেয়ে পরিবারটির সদস্যরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং স্বপ্ন পূরণের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
এই উদ্যোগ স্থানীয় সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে অন্যদেরও এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
May 02, 2026

জয়পুরহাটে রাতের আঁধারে সড়ক কেটে বিচ্ছিন্ন গ্রাম, মন্দিরগামী পথ বন্ধ—চরম ভোগান্তিতে স্থানীয়রা

জয়পুরহাট সদর উপজেলার মোহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের বেলআমলা এলাকায় এক অভাবনীয় ঘটনায় পুরো একটি গ্রাম রাতারাতি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কেটে ফেলায় আদিবাসী গুচ্ছগ্রামের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শুধু দৈনন্দিন জীবনই ব্যাহত হয়নি, বন্ধ হয়ে গেছে প্রাচীন শিব মন্দিরে যাতায়াতের পথও। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু বছর ধরে এই সড়কটি ব্যবহার করে আসছিলেন বেলআমলা এলাকার আদিবাসী গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা। এটি ছিল তাদের বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা কেন্দ্রসহ বাইরের জগতের সঙ্গে একমাত্র সংযোগ। একই সঙ্গে কাছাকাছি অবস্থিত একটি প্রাচীন শিবালয় মন্দিরে পূজা-অর্চনার জন্যও এই পথটিই ছিল একমাত্র ভরসা।
অভিযোগ উঠেছে, পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আশরাফুল ইসলাম সাগর রাতের অন্ধকারে সড়কের একটি অংশ কেটে নিজের জমির সঙ্গে একীভূত করে ফেলেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে গ্রামবাসীরা দেখেন, তাদের চেনা পথটি আর নেই—একটি কাটা অংশ পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা থামিয়ে দিয়েছে।
শিব মন্দিরের সেবায়েত ললিত মোর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত। মন্দিরে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
অন্যদিকে আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা দিলিপ কর্মকার, শ্যামল কর্মকারসহ আরও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “এই রাস্তা আমাদের জীবনরেখা। হঠাৎ করে এটি কেটে দেওয়ায় আমরা যেন বন্দি হয়ে পড়েছি। জরুরি প্রয়োজনে কোথাও যেতে পারছি না।”
ঘটনার পরপরই সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়কটি পুনরুদ্ধারের কথাও বলা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম সাগরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। এখন সবার দৃষ্টি প্রশাসনের দিকে—কবে এই অবরুদ্ধ গ্রাম আবার স্বাভাবিক যোগাযোগ ফিরে পাবে এবং মন্দিরমুখী পথ পুনরায় উন্মুক্ত হবে।


 

May 02, 2026

মুন্সিগঞ্জে দেড় কোটি টাকার প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তিসহ দুই পাচারকারী গ্রেপ্তার

মুন্সিগঞ্জ, ১ মে ২০২৬: মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের প্রাচীন ও দুর্লভ কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তিসহ দুইজন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০। শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় দেড়টার দিকে সদর উপজেলার আটপাড়া ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
র‍্যাব-১০ সিপিসি-২ শ্রীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ইয়াসির তাজবী পান্থ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে একটি আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সক্রিয় দুই সদস্যকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুর ফকিরা গ্রামের মৃত আজাহার চোকদারের ছেলে মো. ইদ্রিস চোকদার (৫৪) এবং মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামের মৃত জামাল হোসেনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৫২)।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১৪১ কেজি ওজনের একটি কালো রঙের প্রাচীন কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করা হয়। মূর্তিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ২৪ ইঞ্চি। উদ্ধার হওয়া এই বিরল প্রত্নসম্পদের আনুমানিক বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া অভিযানে তাদের ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা একটি আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাচীন ও মূল্যবান প্রত্নসম্পদ সংগ্রহ করে বিদেশে পাচার করে আসছিলেন তারা। উদ্ধার হওয়া বিষ্ণু মূর্তিটিও বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে তারা জানিয়েছেন।
র‍্যাব জানায়, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এই পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এমন অভিযান দেশের প্রত্নসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং পাচারচক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই তৎপরতা আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।

 

May 02, 2026

ছেলের স্বপ্ন পূরণে এক বাবার নীরব সংগ্রামের গল্প

ছেলের স্বপ্ন পূরণে এক বাবার নীরব সংগ্রামের গল্প যেন আমাদের সময়ের এক মর্মস্পর্শী বাস্তবতা। কুমিল্লার বুলেট বৈরাগীর জীবনের আড়ালে লুকিয়ে ছিল তার বাবার অবিশ্বাস্য ত্যাগ আর অবিরাম পরিশ্রমের ইতিহাস।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার দৃঢ় সংকল্প নিয়েই প্রতিদিন ভোরে ঘর থেকে বের হতেন তিনি। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ভাটিয়াপাড়া হাটে দাঁড়িয়ে থাকতেন দিনের পর দিন—একজন সাধারণ কৃষিশ্রমিক হিসেবে। কাজ মিলুক বা না মিলুক, অপেক্ষা ছিল অবিরাম। কখনো ১০০, কখনো ১৫০ টাকার বিনিময়ে নিজের শ্রম বিক্রি করেই চলত তার সংসার এবং ছেলের পড়াশোনার খরচ।
প্রখর রোদ, ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার মাঝেও তিনি থেমে যাননি। ঘামে ভেজা শরীর আর ক্লান্ত চোখে লুকিয়ে থাকত এক অদম্য ইচ্ছাশক্তি—তার ছেলে যেন একদিন মানুষের মতো মানুষ হয়। নিজের প্রয়োজন, স্বপ্ন কিংবা আরাম-আয়েশ সবকিছু বিসর্জন দিয়ে তিনি জমিয়ে রাখতেন প্রতিটি কষ্টার্জিত টাকা, শুধুই সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য।
এই সংগ্রাম ছিল নিঃশব্দ, কিন্তু গভীর। ছিল না কোনো প্রচার, ছিল না কোনো স্বীকৃতির প্রত্যাশা। তবুও তার প্রতিটি দিনের লড়াই একেকটি ভালোবাসার সাক্ষ্য বহন করে। একজন বাবার এই ত্যাগ কেবল অর্থনৈতিক কষ্টের গল্প নয়, এটি সন্তানের প্রতি সীমাহীন মমতা আর দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
সমাজের অগোচরে এমন হাজারো বাবা প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছেন, যাদের স্বপ্ন বেঁচে থাকে তাদের সন্তানের সাফল্যের মধ্যেই। বুলেট বৈরাগীর গল্প সেইসব অজানা সংগ্রামী বাবাদের প্রতিচ্ছবি হয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে—নীরব অথচ শক্তিশালী এক অনুপ্রেরণা হিসেবে।

 

Friday, May 1, 2026

May 01, 2026

হঠাৎ বৃষ্টি ও ঢলে ডুবছে বোরো ধান, দিশেহারা দেশের কৃষকরা

হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকাগুলোতে পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। এক রাতের ব্যবধানে সোনালি ফসল পানির নিচে চলে যাওয়ায় অনেক কৃষক তাদের বছরের একমাত্র ভরসা হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলার হাওরাঞ্চলে এখন একই চিত্র—চারদিকে শুধু পানি আর ডুবে থাকা ধানক্ষেত। অনেক কৃষক বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকানো যাচ্ছে না, ফলে পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এতে উৎপাদিত ধানের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টির প্রবণতা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ পানি না নামা পর্যন্ত ধান কাটা ও সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হবে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে চলতি মৌসুমে ধানের উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক বৃষ্টিপাত ও ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক জায়গায় তা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যান্ত্রিক সহায়তা বাড়ানো হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে ড্রায়ার মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভেজা ধান দ্রুত শুকানো যায়।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে শ্রমিক সংকট, যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অনুপযোগী পরিবেশ এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে। অনেক জায়গায় হারভেস্টার মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ধান কাটার কাজ ধীরগতিতে চলছে।
অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুমিল্লা, দিনাজপুর, বরিশাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধান, ভুট্টা, সবজি ও ফলসহ বিভিন্ন ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় কেটে রাখা ধান পানিতে ভেসে গেছে এবং পাকা ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে।
কৃষকরা বলছেন, সার ও জ্বালানির বাড়তি খরচের কারণে এমনিতেই উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তার ওপর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের পুরোপুরি পথে বসানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অনেকেই সরকারের কাছে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করে প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বোরো ধান দেশের মোট চাল উৎপাদনের বড় একটি অংশ যোগান দেয়। তাই এই ক্ষয়ক্ষতি শুধু কৃষকদের নয়, সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সার্বিকভাবে বলা যায়, আকস্মিক বৃষ্টি ও বন্যায় দেশের কৃষি খাত এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সময়োপযোগী উদ্যোগই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
May 01, 2026

বিশ্ব ঐতিহ্যের গর্ব প্রাম্বানান: হিন্দু স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ-এর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাম্বানান মন্দির নবম শতাব্দীর এক অনন্য ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপত্য, যা সনাতন ধর্মের ভাবগাম্ভীর্য, শিল্পসৌন্দর্য এবং প্রাচীন জাভানিজ সভ্যতার সমৃদ্ধির এক জীবন্ত সাক্ষ্য বহন করে। আনুমানিক ৮৫০ খ্রিস্টাব্দে রাকাই পিকাতান-এর শাসনামলে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধিত হয় বলে ঐতিহাসিক শিলালিপিতে উল্লেখ পাওয়া যায়। এই মন্দির কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং হিন্দু রাজশক্তি, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।
প্রাম্বানান মূলত ত্রিমূর্তি-এর উদ্দেশ্যে নির্মিত, যেখানে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা, পালনকর্তা বিষ্ণু এবং সংহারকর্তা শিবের প্রতি ভক্তি নিবেদন করা হয়। তবে এখানে প্রধান আরাধ্য দেবতা হিসেবে শিবের গুরুত্ব সর্বাধিক, যার কারণে মন্দিরটিকে অনেক সময় ‘শিবগৃহ’ নামেও অভিহিত করা হয়। মূল প্রাঙ্গণের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শিব মন্দিরটি প্রায় ৪৭ মিটার উচ্চতায় নির্মিত, যা পুরো কমপ্লেক্সের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু এবং দৃষ্টিনন্দন। এর দুই পাশে ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মন্দির সমান গুরুত্বে অবস্থান করছে, যা ত্রিমূর্তির সামঞ্জস্য ও ঐক্যের প্রতীক।
মন্দিরটির স্থাপত্যশৈলী হিন্দু শাস্ত্রনির্ভর বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে পরিকল্পিত, যেখানে প্রতিটি অংশ একটি নির্দিষ্ট আধ্যাত্মিক ও জ্যামিতিক নীতির ভিত্তিতে নির্মিত। পুরো স্থাপনাটি মহাবিশ্বের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত মেরু বা কৈলাস পর্বতের প্রতীকী রূপ ধারণ করে। মন্দিরের দেয়ালে খোদাই করা সূক্ষ্ম কারুকার্যগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যেখানে রামায়ণ এবং কৃষ্ণলীলার বিভিন্ন অধ্যায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এসব রিলিফ শুধু ধর্মীয় কাহিনীই নয়, বরং সে সময়ের শিল্পকলা ও গল্প বলার দক্ষতারও উৎকৃষ্ট নিদর্শন।
প্রধান শিব মন্দিরের ভেতরে শিব মহাদেবের পাশাপাশি মহিষাসুরমর্দিনী রূপে মা দুর্গা, ভগবান গণেশ এবং ঋষি অগস্ত্যের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে, যা হিন্দু পুরাণের বহুমাত্রিকতা ও দেবদেবীর পারস্পরিক সম্পর্ককে তুলে ধরে। প্রতিটি বিগ্রহ সূক্ষ্ম কারুকার্যে নির্মিত এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গভীর তাৎপর্য বহন করে।
তবে এই মহিমান্বিত স্থাপত্য দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে ছিল। দশম শতাব্দীর দিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে মন্দিরটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে এটি জঙ্গলে ঢাকা পড়ে এবং ইতিহাসের অন্তরালে হারিয়ে যেতে বসে। অবশেষে ১৭১৩ সালে এটি পুনরায় আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯১৮ সাল থেকে শুরু হয় এর বৈজ্ঞানিক পুনর্গঠন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম। দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ১৯৯১ সালে ইউনেস্কো প্রাম্বানানকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা এর আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করে।
বর্তমানে প্রাম্বানান মন্দির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্স হিসেবে সুপরিচিত। এটি শুধু ধর্মীয় ভক্তদের জন্য নয়, বরং ইতিহাসপ্রেমী, গবেষক এবং পর্যটকদের কাছেও এক অনন্য আকর্ষণ। যুগের পর যুগ ধরে ধ্বংস ও পুনর্জাগরণের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মন্দির আজও সনাতন ঐতিহ্যের গৌরবময় প্রতীক হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে রয়েছে।
May 01, 2026

চাঁদে নতুন খনিজের সন্ধান: এলইডি প্রযুক্তিতে আসতে পারে বড় পরিবর্তন 🌕💡

চাঁদে বর্ণহীন, স্বচ্ছ ও ভঙ্গুর প্রকৃতির এক নতুন খনিজ আবিষ্কার করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। ‘সেরিয়াম–ম্যাগনেশিয়াম চেঞ্জসাইট’ নামের এই বিরল খনিজটি ভবিষ্যতে এলইডি প্রযুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
চীনের চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, চীন থেকে সংগৃহীত একটি চন্দ্র উল্কাপিণ্ড বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই খনিজটির অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। বহির্জাগতিক ভূতত্ত্বে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন খনিজটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশেষ ফ্লুরোসেন্স বা প্রতিপ্রভা প্রভাব। এর কণাগুলোর আকার অত্যন্ত ক্ষুদ্র—১০ মাইক্রোমিটারেরও কম। বিজ্ঞানীদের ধারণা, চাঁদের চরম তাপমাত্রা ও চাপের পরিবেশেই এই খনিজটির সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খনিজটির ব্যবহারিক সম্ভাবনা বেশ বিস্তৃত। বিশেষ করে, কম খরচে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এলইডি উৎপাদনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া এর গঠন বিশ্লেষণের মাধ্যমে আধুনিক ইলেকট্রনিকস শিল্পে ব্যবহৃত সিনথেটিক উপাদানের কার্যকারিতা আরও উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কমিশন অন নিউ মিনারেলস অ্যান্ড মিনারেল নেমস-এর মতে, এর ফ্লুরোসেন্ট বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতের এলইডি প্রযুক্তির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে।
এখন বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন, চাঁদের পরিবেশে সেরিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। এর মাধ্যমে চাঁদের গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি এই আবিষ্কার পৃথিবী ও চাঁদের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের মধ্যে সম্পর্ক বোঝার নতুন দিকও উন্মোচন করতে পারে।

 

"
"