কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Friday, June 5, 2026

June 05, 2026

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টায় বরিশাল সদর রোডস্থ আর্যলক্ষ্মী ভবনের তৃতীয় তলার সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি অসিত সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শিমুল সাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুরঞ্জিত দত্ত লিটু। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পলাশ নাথ।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ড. কালিদাস ভক্ত, অ্যাডভোকেট সঞ্জয় খাকসেল, রনজিত সেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন রায়, শুভদ্বীপ শিকদার শুভসহ বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গতিশীল করার লক্ষ্যে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি যুবসমাজকে সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, ঐক্য, সংগঠন ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী যুবসমাজ গড়ে তোলাই বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের তরুণদের সম্পৃক্ত করে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আলোচনা শেষে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে একটি মানবিক সমাজ বিনির্মাণের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধি সভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
June 05, 2026

চিতলমারীতে ব্যবসায়ী রিপন মন্ডলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা: হাসপাতালে খোঁজ নিলেন যুব ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বোয়ালিয়া ভ্যানস্ট্যান্ড এলাকায় হিন্দু ব্যবসায়ী রিপন মন্ডল (৩৫) ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে সংঘটিত এ হামলায় রিপন মন্ডল গুরুতর আহত হন। হামলার সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার মা চারুলতা মন্ডল, ভাই নিপুণ মন্ডল এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সৌমেন মজুমদারও সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার সকালবেলা ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে রিপন মন্ডলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ক্যাশবাক্সে থাকা নগদ অর্থ এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় রিপন মন্ডলকে প্রথমে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সাধারণ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শিমুল সাহা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আহত ব্যবসায়ীর খোঁজখবর নেওয়ার জন্য সংগঠনের খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নির্দেশনা দেন।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি উজ্জল ব্যানার্জী ও বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য সাহার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সাধারণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিপন মন্ডলকে দেখতে যান। এ সময় প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় হরিজন ঐক্য পরিষদের প্রচার সম্পাদক ও খুলনা মহানগর যুব ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস, খুলনা মহানগর যুব ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি সুশীল দাস, ছাত্র ঐক্য পরিষদ খুলনা মহানগর শাখার সদস্য দিব্য সাহাসহ স্থানীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে আহত রিপন মন্ডলের শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন, তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে চিতলমারী থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দিনের আলোতে একজন ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের ওপর সংঘটিত এ হামলার ঘটনায় পুরো চিতলমারী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী সমাজ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 
June 05, 2026

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ জৈন্তাপুর শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ জৈন্তাপুর উপজেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন নিজপাট ইউনিয়নের শ্রীশ্রী শিব মন্দির মহাদেব বাড়ি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি প্রণত কান্ত দেবের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক অর্জুন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় পলাশ দাসকে সভাপতি, অর্জুন বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক এবং বলাই দাসকে সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ষষ্ঠী প্রসাদ, টিটুল দেব, সুভাষ বিশ্বাস ও চপল দাসকে সহ-সভাপতি এবং রুবেল দাসকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে।
উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জৈন্তাপুর উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা যাদবময় বিশ্বাস। প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বিদ্যুৎ কান্তি সেন এবং প্রধান বক্তা ছিলেন সদস্য সচিব রজত কান্তি চক্রবর্তী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা ঐক্য পরিষদের সদস্য সুনীল দেবনাথ, জৈন্তাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিবারণ চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক দুলাল চন্দ্র দেব, সহ-সভাপতি নান্টু ধর ও কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দাস।
এছাড়া সিলেট জেলা যুব ঐক্য পরিষদের সদস্য সুমন দেব, জেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মিথিল পাল পান্ত ও সদস্য কেশব সিংহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে সিলেট জেলা শাখায় পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
June 05, 2026

বরগুনায় তিন নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত দাবিতে মানববন্ধন

বরগুনায় দুই শিশুকন্যাসহ তিন সনাতনী নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিচারের দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নিহত ইতি রানীর পরিবার, স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা জানান, ইতি রানী অল্প বেতনে সরকারি ডাকবাংলোতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার দিন তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে শহরের ভূতমারা এলাকায় বোনের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগে ডাকবাংলোর একটি কক্ষ পরিষ্কারের জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, পুরো দিনের ফুটেজ প্রকাশ না করে মাত্র দুই ঘণ্টার একটি অংশ দেখানো হয়েছে, ফলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসেনি।
স্বজনরা আরও দাবি করেন, ইতি রানীর কোনো ঋণ, পারিবারিক কলহ বা এমন কোনো সমস্যা ছিল না, যা তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও স্বাভাবিক ছিল। এ কারণে মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশ্ন রাখেন, "এটি যদি আত্মহত্যা হয়, তাহলে ডাকবাংলোতে গিয়ে ঘটানোর কারণ কী? আর দুর্ঘটনা হলে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ কেন আলাদা কক্ষ থেকে উদ্ধার হলো?" এসবের উত্তর পেতে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত দরকার বলে তারা জোর দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুক্তভোগীরা সংখ্যালঘু শ্রমজীবী পরিবারের সদস্য হওয়ায় তদন্তে তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সত্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত তদন্ত শেষে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, "গুজব নয়, নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে জরুরি।" 
June 05, 2026

দিনাজপুরে সাঁওতাল তরুণকে 'মেরে ফেলার' হুমকি ও সংঘবদ্ধ হামলা, নারী সদস্যরা লাঞ্ছিত

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের শিক্ষিত তরুণ ও সংগঠক ফিলিমন হেমব্রম (২৭)-এর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার পরিবারের নারী সদস্যদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে সকালে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে বুল্লির মোড় এলাকায় সাইদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ফিলিমনের পথরোধ করেন এবং মোটরসাইকেলের নিচে হাঁস মারা পড়ার অভিযোগ তোলেন। ফিলিমন তা অস্বীকার করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি এ সময় তিনি "একটা সাঁওতালকে মেরে ফেললে কী হবে?" বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এ কথার পরই স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পরে পরিবারের সদস্যরা এসে চাবি ফেরত চাইলে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কিন্তু ওই দিন রাতেই আপোষ-মীমাংসার কথা বলে বুল্লির মোড় বাজারে ডেকে নিয়ে ফিলিমনের ওপর বাঁশের লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
এজাহারে বলা হয়েছে, ফিলিমনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার মা, বোন ও ফুপুসহ পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে তিনি ৩০ মে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান।
পরে ফিলিমন হেমব্রম ১০ জনের নাম উল্লেখ করে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন— সাইদুল ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম, আজাদুল ইসলাম, রেজোয়ান ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম (অপর), মনিরুল ইসলাম, কামাল ইসলাম, দিলদার হোসেন ও রাবেয়া খাতুন। তবে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় আদিবাসী নেতারা বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে একজন সচেতন আদিবাসী তরুণকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। "একটা সাঁওতালকে মেরে ফেললে কী হবে?"— এমন বক্তব্য প্রমাণ করে এটি সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আদিবাসী সম্প্রদায় প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন তারা। স্থানীয় সচেতন মহলও বলছেন, এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসনের জন্য পরীক্ষা, তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। 
June 05, 2026

গলাচিপার ৩০০ বছরের দয়াময়ী মন্দির বিলুপ্তির পথে, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় প্রায় তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী দেবী মন্দির চরম অবহেলা ও নদীভাঙনের মুখে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে একসময়ের প্রাণচঞ্চল এই ধর্মীয় কেন্দ্রটি আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পথে।
স্থানীয় সূত্র ও জনশ্রুতি জানায়, আনুমানিক ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরটি ছিল এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান উপাসনালয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু। দুর্গাপূজা, বারুণী স্নানসহ নানা ধর্মীয় উৎসবে এখানে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটত, মন্দির ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতো।
কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই ঐতিহ্য আজ ম্লান। মন্দিরের কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দেয়ালজুড়ে বিশাল বটগাছের শিকড় ছড়িয়ে পড়েছে, শিকড়ের চাপে দেয়াল ও গম্বুজ ফেটে গেছে। ইট ক্ষয়ে গেছে, প্লাস্টার খসে পড়েছে, পুরো চত্বর এখন আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ঢাকা। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার বা পরিচর্যা না হওয়ায় স্থাপনাটির ঐতিহাসিক সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে এসেছে নদীভাঙন। নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও ভাঙনের কারণে মন্দিরের আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই প্রাচীন স্থাপনা একদিন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।এলাকাবাসী বলছেন, "দয়াময়ী মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাক্ষী। এটি হারিয়ে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি থেকে বঞ্চিত হবে।"
স্থানীয় সচেতন মহল ও ঐতিহ্যপ্রেমীরা মন্দিরটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে নদীভাঙন রোধে জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তিনশ বছরের এই নিদর্শনকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। 

June 05, 2026

ফরিদপুরের নগরকান্দায় দুই হিন্দু যুবকের ওপর হামলা, নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ

 

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার মধ্যযগদিয়া গ্রামে দুই হিন্দু যুবকের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরকান্দা থানা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন অনুপম পাল ও তার বন্ধু মলয়কান্তি বিশ্বাস।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একদল দুর্বৃত্ত তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয়দের দাবি, হামলায় জড়িত কয়েকজনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে ভুক্তভোগী পরিবার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা প্রায়ই ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব দেখা যায়। ফলে অপরাধীরা বারবার সুযোগ পায় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


Thursday, June 4, 2026

June 04, 2026

বরিশালে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া এলাকায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার (৪ জুন) দুপুরে গুঠিয়া ইউনিয়নের বালাবাড়ি কীর্ত্তন আঙ্গিনায় সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবার এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অসীম কুমার দাস, সুব্রত কুমার দাস ও সুশান্ত কুমার দাস। তারা জানান, গুঠিয়া মৌজার এসএ ৪০৮ নম্বর দাগের ১১ শতাংশ জমির বৈধ মালিক তারা। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ওই জমি দীর্ঘদিন তারা ভোগ করে আসলেও চরমোনাই আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উজিরপুর শাখার মুজাহিদ কমিটির সভাপতি মাসুদ হাসান ফিরোজ জোরপূর্বক জমিটি দখল করে বহুতল ভবন তুলছেন বলে অভিযোগ তাদের।
তারা আরও জানান, জমি দখলের প্রতিবাদে একাধিকবার সালিশি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি কৌশলে তা এড়িয়ে যান এবং উল্টো তাদের পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়, সে সময় তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা বলেন, "আমরা সংখ্যালঘু মানুষ, দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক ভিটেমাটি রক্ষায় লড়ছি। জমি দখল আর হুমকির কারণে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।"
পরে উজিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন হাওলাদার এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু হোসেনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয় বলে জানান তারা। কিন্তু এখনো পুরোপুরি আতঙ্ক কাটেনি।
সংবাদ সম্মেলনে দখলকৃত জমি উদ্ধার, ভবন নির্মাণ বন্ধ ও অভিযুক্তের বিচার দাবির পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্থানীয় এমপি সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও অভিযুক্ত মাসুদ হাসান ফিরোজের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনের পর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের আশা করছে।
June 04, 2026

চিতলমারীতে ব্যবসায়ী রিপন মন্ডলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা: খুলনা হাসপাতালে দেখতে গেলেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বজিৎ দে মিঠুসহ নেতৃবৃন্দ

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বোয়ালিয়া ভ্যানস্ট্যান্ড এলাকায় এক হিন্দু ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে সংঘটিত এই হামলায় ব্যবসায়ী রিপন মন্ডল (৩৫) গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। 
হামলার সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের মারধরের শিকার হয়েছেন তার মা চারুলতা মন্ডল, ভাই নিপুণ মন্ডল এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সৌমেন মজুমদার।
​গুরুতর আহত অবস্থায় রিপন মন্ডলকে প্রথমে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সাধারণ হাসপাতালে (খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
​ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালবেলা ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সুসংগঠিত সন্ত্রাসী দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে রিপন মন্ডলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা রিপন মন্ডলকে লক্ষ্য করে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ অর্থ ও বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
​ব্যবসায়ীর ওপর এমন নৃশংস হামলার খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্রনাথ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাপস পাল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 
তারা তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বজিৎ দে মিঠু'কে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ব্যবসায়ীকে দেখতে যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।
​কেন্দ্রীয় নির্দেশনার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ঐক্য পরিষদের  সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বজিৎ দে মিঠু-র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিপন মন্ডলকে দেখতে যান। 
এ সময় প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন— কেন্দ্রীয় হরিজন ঐক্য পরিষদের প্রচার সম্পাদক  ও খুলনা মহানগর যুব ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল দাস, খুলনা মহানগর যুব ঐক্য পরিষদসহ-সভাপতি সুশীল দাসসহ স্থানীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। 
নেতৃবৃন্দ আহত রিপন মন্ডলের শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন, তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে পূর্ণ আশ্বাস প্রদান করেন।
​এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে চিতলমারী থানা পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।
​এ বিষয়ে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনা শোনার পর পুলিশ তৎপর রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
​দিনের আলোতে ব্যবসায়ী পরিবারের ওপর এমন সুসংগঠিত হামলার ঘটনায় সমগ্র চিতলমারী এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী সমাজ এই কাপুরুষোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
June 04, 2026

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত স্বামী জগন্নাথানন্দ সরস্বতী ও শিষ্য

শ্রী গুরু সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রমের সভাপতি ও একমাত্র সন্ন্যাসী স্বামী জগন্নাথানন্দ সরস্বতী মহারাজ এবং তার শিষ্য প্রান্ত সাহা (প্রশান্ত দাস) ঝালকাঠিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। বরিশাল থেকে কাউখালী আশ্রমে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে সংঘ সূত্র জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, গুরুতর আহত সেবাইত প্রান্ত সাহাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল থেকে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্বামী জগন্নাথানন্দ সরস্বতী মহারাজের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও আশ্রম কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশ-বিদেশে থাকা ভক্ত, অনুসারী ও গুরু-ভাই-বোনদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় আশ্রমের পক্ষ থেকে সকলের কাছে মহারাজ ও আহত সেবাইতের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংঘের নেতৃবৃন্দ বলেন, পরম করুণাময় শ্রীশ্রী গুরুদেবের কৃপায় তারা দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে সুস্থ হয়ে আবার ধর্মীয় ও মানবকল্যাণমূলক কাজে ফিরতে পারবেন বলে তারা আশাবাদী। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আশ্রম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মহারাজ ও প্রান্ত সাহার আরোগ্য কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হচ্ছে।
শ্রী গুরু সংঘ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সকল ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রার্থনা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
"
"