কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, April 20, 2026

April 20, 2026

তেলবাহী জাহাজে সরবরাহ বাড়লেও কমছে না ভিড়, জ্বালানি বাজারে অস্বস্তি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পর দেশের জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ধারাবাহিকভাবে তেলবাহী জাহাজ আসায় সরবরাহে কিছুটা গতি ফিরেছে। এপ্রিল মাসের প্রথম ২০ দিনে ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে মোট ১২টি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। এতে জ্বালানির মজুত বাড়লেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোগান্তি কমেনি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, চলতি মাসে ৮টি জাহাজে করে দেশে এসেছে ২ লাখ ৭৪ হাজার টন ডিজেল। একই সময়ে ২টি জাহাজে ৫৩ হাজার টন অকটেন সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া একটি করে জাহাজে এসেছে প্রায় ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল এবং ২৫ হাজার টন ফার্নেস তেল। এর পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ১২ হাজার টন ডিজেল দেশে প্রবেশ করেছে।
এই সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে গত রোববার থেকে দেশের অনেক ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। বিপিসির কর্মকর্তারা আশা করছেন, কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে চাপ কিছুটা কমতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে নিয়মিত তেল আসছে এবং এপ্রিল মাসে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, অকটেনের মজুত ইতোমধ্যে মাসিক চাহিদার চেয়েও বেশি হয়েছে। এখন মে ও জুন মাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
ডিজেলেই সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা
দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। চলতি মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহযোগ্য মজুত ছিল ১ লাখ ২ হাজার ১৯১ টন, যা দিয়ে প্রায় ৯ দিন চলবে। তবে আরও প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার টন ডিজেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এই চালান যুক্ত হলে মজুত প্রায় দুই সপ্তাহের জন্য বাড়বে।
১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ডিজেল বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৯০৪ টন। দৈনিক গড় বিক্রি ১১ হাজার ১৬১ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। এতে বোঝা যাচ্ছে, সরবরাহের চাপ থাকলেও চাহিদা সামান্য কমতির দিকেই রয়েছে।
অকটেনে বাড়তি স্বস্তি
অকটেনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। মাসিক চাহিদা প্রায় ৪৭ হাজার টন হলেও ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মজুত দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ হাজার টনে, যা দিয়ে ২৪ দিন চলা সম্ভব। এর মধ্যে নতুন করে ২৭ হাজার টন অকটেনবাহী একটি জাহাজ এসে খালাস শুরু করেছে। ফলে এই জ্বালানিতে মজুত সক্ষমতার সীমা ছাড়ানোর মতো অবস্থাও তৈরি হয়েছে।
দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ১১৫ টন, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। এতে করে অকটেনের সরবরাহে আপাতত বড় কোনো চাপ নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পেট্রল ও ফার্নেস তেলের চিত্র
দেশে পেট্রলের মজুত রয়েছে ১৯ হাজার ১২৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ২৫৩ টন, যা গত বছরের তুলনায় কম।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফার্নেস তেলের মজুত রয়েছে ৬৭ হাজার ৩৭৮ টন, যা দিয়ে প্রায় ৩০ দিন চলবে। এ মাসে দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ৭২০ টন, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্যাস সংকট না বাড়লে এই খাতে চাপ তুলনামূলক কম থাকবে।
জেট ফুয়েলে চাহিদা বাড়ছে
অন্যদিকে জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে ২৩ হাজার ৮৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৫ দিন চলবে। দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ৭৭৫ টন, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। বিমান চলাচল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জ্বালানির ব্যবহারও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেরোসিন ও মেরিন ফুয়েলের মজুত যথাক্রমে প্রায় ৩৬ ও ৩২ দিনের। এই দুই জ্বালানির চাহিদা কম হওয়ায় সরবরাহেও তেমন চাপ নেই।
সরবরাহ বাড়লেও ভোগান্তি কমেনি
যদিও জাহাজে জ্বালানি আসায় মজুত দ্রুত বাড়ছে, তবুও মাঠপর্যায়ে এর সুফল পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এখনো দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্রাহকদের তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই আছে। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহন চালকদের দীর্ঘ সারি যেন এখন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের ঘাটতির কারণে তৈরি হওয়া চাপ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। নতুন সরবরাহ এলেও তা সব পর্যায়ে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগছে। ফলে ভোগান্তি কমতে দেরি হচ্ছে।
আরও জাহাজ আসছে সামনে
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, এ সপ্তাহে আরও অন্তত পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। এতে বিশেষ করে অকটেন ও ফার্নেস তেলের ক্ষেত্রে স্বস্তি আরও বাড়বে। ডিজেলের বড় চালান খালাস হলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে এবং নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে। সামনে আরও জাহাজ আসছে, ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সরবরাহ বাড়লেও আগের সংকটের প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবে ধারাবাহিক আমদানি ও মজুত বৃদ্ধির ফলে খুব শিগগিরই বাজারে স্বস্তি ফিরবে—এমনটাই আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।


 

April 20, 2026

ডিজেলের দাম বাড়ায় বাস-ট্রাক ভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠকে বিআরটিএ

ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধির পর সড়ক পরিবহন খাতে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এবং পরিবহন মালিকরা। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহন খাতে নতুন করে ভাড়া নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাস এবং পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন খাতে ব্যয় বেড়ে গেছে, যার প্রভাব সামাল দিতে নতুন ভাড়া কাঠামো নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর। এছাড়া সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতারা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন। বৈঠকে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে ভাড়া বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। এরপর তা বিশ্লেষণ করে যাত্রীস্বার্থ, জ্বালানি খরচ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বাস ও ট্রাক পরিচালনার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। প্রতিদিনের অপারেশন খরচের বড় একটি অংশই জ্বালানির পেছনে ব্যয় হয়। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই ভাড়া সমন্বয়ের চাপ তৈরি হয়। তবে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে কীভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
পরিবহন মালিকদের একটি অংশের দাবি, বর্তমান ভাড়া কাঠামোতে নতুন জ্বালানি মূল্য অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, শুধু জ্বালানি নয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশের দাম এবং শ্রমিকদের মজুরি—সবকিছুর খরচই বেড়েছে। ফলে ভাড়া সমন্বয় না করলে পরিবহন খাত টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
অন্যদিকে যাত্রী অধিকার সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, ভাড়া বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য প্রতিদিনের যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়া একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। ইতোমধ্যেই নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মানুষ চাপে রয়েছে। এর মধ্যে আবার পরিবহন ভাড়া বাড়লে সেই চাপ আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং যৌক্তিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে অনেক সময় দেখা গেছে, জ্বালানির দাম কমলেও ভাড়া কমানো হয়নি, যা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তাই এবারের সিদ্ধান্ত এমন হতে হবে যাতে জ্বালানির দাম কমলে ভবিষ্যতে ভাড়াও সমন্বয় করা হয়—এমন একটি নীতিগত কাঠামো থাকা প্রয়োজন।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি খরচ, জ্বালানি ব্যয়, যানবাহনের ধরন এবং রুটভেদে পার্থক্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। ঢাকা মহানগরী এবং দূরপাল্লার রুটে ভাড়ার কাঠামো আলাদা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে পণ্য পরিবহন খাতেও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। ট্রাক মালিকরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বাড়ায় পণ্যের পরিবহন খরচও বাড়বে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাজারদরে পড়তে পারে। ফলে এই সিদ্ধান্ত শুধু যাত্রী পরিবহনেই নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি খাতের এই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি একটি চেইন রিঅ্যাকশনের মতো কাজ করে। পরিবহন খরচ বাড়লে তা পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ খরচ বাড়ায়, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই চাপ সৃষ্টি করে। তাই সরকারের উচিত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাতে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব কম হয়।
সরকারি সূত্র বলছে, জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা করায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে সময় অনুযায়ী সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প থাকে না।
বৈঠকের ফলাফল নিয়ে এখন সবার নজর। পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এমন একটি সিদ্ধান্ত আসবে যা মালিক ও যাত্রী উভয়ের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। তবে যাত্রীরা চান, হঠাৎ করে বড় ধরনের ভাড়া বৃদ্ধি না করে ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হোক এবং ভাড়া নির্ধারণে যথাযথ নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।
সব মিলিয়ে, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাস ও ট্রাকের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়, পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি। এখন দেখার বিষয়, বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্টরা কী ধরনের সমাধান নিয়ে আসে এবং তা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।

 

April 20, 2026

বগুড়ার নন্দীগ্রামে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্ত মুসলিম যুবক গ্রেফতার

 

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে নুর নবী সরকার (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের কামুল্যা সরকারপাড়া চাকরান আধখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর স্বামী অভিযোগ করে জানান, তিনি প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে দেখেন, তার স্ত্রীকে বাড়ির সিঁড়ির সামনে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করছে অভিযুক্ত।
তিনি আরও জানান, তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে এবং পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত নুর নবী সরকার দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীর স্ত্রীকে উত্যক্ত করে আসছিলেন। ঘটনার দিন এলাকায় সরস্বতী পূজার আয়োজন থাকায় অধিকাংশ মানুষ ব্যস্ত ছিলেন, সেই সুযোগে অভিযুক্ত বাড়িতে ঢুকে এ ঘটনা ঘটায়।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

April 20, 2026

রঙিন চাঁদ পৃষ্ঠ দেখে বিস্মিত নভোচারীরা

নাসার ৯ দিনের Artemis II মিশন সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এই মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী চন্দ্র ফ্লাইবাই, যেখানে Orion spacecraft-এ থাকা চার নভোচারী কাছ থেকে চাঁদ পর্যবেক্ষণের সুযোগ পান। সেই পর্যবেক্ষণেই উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য—চাঁদ আসলে একরঙা ধূসর নয়, বরং এতে রয়েছে নানা রঙের ছোঁয়া।
মিশন চলাকালীন সিবিএস নিউজকে নাসার ডেপুটি অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ফর এক্সপ্লোরেশন Joel Kearns জানান, নভোচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠে বিভিন্ন রঙের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন। তার ভাষায়, “তারা আমাদের জানিয়েছে, চাঁদে তারা অনেক রঙ দেখতে পাচ্ছে—যা সত্যিই বিস্ময়কর।”
বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাকাশযানের ক্যামেরার তুলনায় মানুষের চোখ সূক্ষ্ম রঙের পার্থক্য সহজে ধরতে পারে। তাই কাছ থেকে দেখার সময় চাঁদের প্রকৃত রূপ আরও পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ে। এই পর্যবেক্ষণে নভোচারীরা বিশেষ করে বাদামি ও সবুজাভ কিছু অঞ্চল শনাক্ত করেছেন, যা বিভিন্ন খনিজ উপাদান বা ভূতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের ইঙ্গিত দিতে পারে।
যেহেতু এই মিশনে চাঁদে অবতরণ করা হয়নি, তাই দূর থেকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। মিশনের আগে থেকেই নভোচারীদের এমন বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তারা তাদের পর্যবেক্ষণ বিস্তারিতভাবে নোট ও লগ আকারে সংরক্ষণ করেছেন, যা এখন বিশ্লেষণের অপেক্ষায়।
এছাড়া, নভোচারীরা বিপুলসংখ্যক ছবি সংগ্রহ করে এনেছেন। এর কিছু অংশ মিশন চলাকালীন পৃথিবীতে পাঠানো হলেও অধিকাংশ তথ্য এখনো বিশ্লেষণাধীন। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এসব তথ্য থেকে চাঁদের গঠন, খনিজ উপাদান এবং পৃষ্ঠতলের বৈচিত্র্য সম্পর্কে আরও নতুন ধারণা পাওয়া যাবে।
সব মিলিয়ে, Artemis II মিশনের এই আবিষ্কার ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা দেবে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে, আমরা যে চাঁদকে এতদিন একরঙা ভেবেছি, তার ভেতরেও লুকিয়ে আছে বিস্ময়কর বৈচিত্র্য।

 

Sunday, April 19, 2026

April 19, 2026

খুলনায় দায়িত্ব পালনকালে গুলিতে রেলওয়ে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু


খুলনায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক রেলওয়ে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা-এর খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিজের অস্ত্র থেকেই গুলি ছুটে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে; বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিহত কনস্টেবলের নাম সম্রাট বিশ্বাস (২৭)। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বাসিন্দা। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে অস্ত্রাগার এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন সম্রাট বিশ্বাস। এ সময় তার ব্যবহৃত রাইফেল থেকে গুলি ছুটে মাথায় আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ সুপার জানান, সম্রাট বিশ্বাস দায়িত্বশীল ও কর্মঠ সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো কারণে তিনি মানসিক চাপে থাকতে পারেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের স্ত্রীও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত আছেন। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সহকর্মীদের মধ্যে। একই সঙ্গে ঘটনাটির সঠিক কারণ উদঘাটনে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।


 

April 19, 2026

বাউল সাধক কানাই দাস বাউল আর নেই, সংগীতজগতে শোকের ছায়া

ভারতীয় বাউল সংগীতের অন্যতম সাধক-শিল্পী কানাই দাস বাউল আর নেই। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে পশ্চিমবঙ্গের তারাপীঠ-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা রঞ্জন পালিত। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বাউল সাধক। বিশেষ করে গত দুই মাস ধরে যক্ষ্মায় আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসজনিত সমস্যাও ছিল তার।
কানাই দাস বাউল ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধনা ও সংগীতের এক অনন্য প্রতীক। গ্রামবাংলার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টিহীন ছিলেন। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই তাকে থামাতে পারেনি। বাহ্যিক দৃষ্টি না থাকলেও অন্তর্দৃষ্টিতে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন জীবন, মানবতা ও আধ্যাত্মিকতার গভীর সত্য।
শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল তার। পরবর্তীতে বাউল গুরুদের সংস্পর্শে এসে বেছে নেন সাধনার পথ। একতারা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে, মেলা ও আখড়ায় ঘুরে ঘুরে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন মানবতার বার্তা। তার কণ্ঠে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বহু গান, যেখানে উঠে এসেছে জীবনদর্শন, প্রেম ও আত্মিক উপলব্ধির কথা।
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে বাউল গান পরিবেশন করে তিনি অর্জন করেন বিশেষ খ্যাতি। ২০১৯ সালে তিনি ‘সহজিয়া সম্মান’ লাভ করেন। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল তার আলোচিত বই Nine Lives-এ ‘দ্য সংস অব দ্য ব্লাইন্ড মিনস্ট্রেল’ শিরোনামে একটি অধ্যায় উৎসর্গ করেন এই শিল্পীকে।
কানাই দাস বাউলের কণ্ঠে যেমন ছিল গভীর বেদনা, তেমনি ছিল ভালোবাসা ও মানবতার আহ্বান। তিনি শুধু একজন শিল্পীই নন, ছিলেন একজন সাধক ও পথপ্রদর্শক। তার প্রয়াণে বাউল সংগীত ও সংস্কৃতির জগতে নেমে এসেছে গভীর শোক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তার মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তার গান, দর্শন ও সাধনার আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকবে, অনুপ্রেরণা জোগাবে আগামীর শিল্পী ও শ্রোতাদের।

 

April 19, 2026

মিরসরাইয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় পণ্ড গীতা পাঠ ও মহোৎসব, আহত বেশ কয়েকজন

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা-এর ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা গ্রামের গলাচিপা এলাকায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের আয়োজিত শ্রী শ্রী গীতা পাঠ ও মহোৎসব অনুষ্ঠান কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় পণ্ড হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খামারপাড়া এলাকায় আয়োজিত ধর্মীয় এ অনুষ্ঠানে দুপুর পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। প্রায় ১২০০ মানুষের জন্য খাবারের আয়োজনও করা হয়েছিল। তবে বিকেলের দিকে একই সম্প্রদায়ের মধ্যটিলা এলাকার কয়েকজন কিশোর অনুষ্ঠানে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই পক্ষের সমাজপতিরা বিকেলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলে ঘটনাটি সাময়িকভাবে থেমে যায়। কিন্তু পরে খামারপাড়া সমাজের সরদার সেকান্ত ত্রিপুরা ও তার সহযোগীরা মধ্যটিলা সমাজের সরদার নিকেন্দ্র ত্রিপুরার সঙ্গে কথা বলতে গেলে ফের সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষে খামারপাড়া এলাকার রুপ কুমার ত্রিপুরা (২৬), পঞ্চ কুমার ত্রিপুরা (৩২), রিফন ত্রিপুরা (২৫), সহেল ত্রিপুরা (২২), আলোমতি ত্রিপুরা (৩৫) এবং মধ্যটিলা এলাকার পুকতি ত্রিপুরা (৪৮)সহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
খামারপাড়া সমাজের সরদার সেকান্ত ত্রিপুরা অভিযোগ করেন, মধ্যটিলা এলাকার কিছু কিশোর মদ্যপ অবস্থায় অনুষ্ঠানে এসে উশৃঙ্খল আচরণ করে এবং নারী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে অসদাচরণের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে, যারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তাদের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না।
অন্যদিকে, মধ্যটিলা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বৈশ্য কুমার ত্রিপুরা বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক। অভিযুক্ত কিশোররা আগেও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে তিনি জানান। বিষয়টি প্রথমে সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে, প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

 

April 19, 2026

বাগেরহাটে ‘চন্দ্র মহল’ ইকো পার্কে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

একসময় পারিবারিক বিনোদনের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত চন্দ্র মহল ইকো পার্ক এখন যেন ভিন্ন এক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিনোদনের আড়ালে এখানে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি নীরব কেন্দ্র, যা দিন দিন উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে।

গোপন অনুসন্ধান ও সরেজমিন পরিদর্শনে জানা গেছে, পার্কটির ভেতরের কিছু নির্জন স্থান দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দিনের বেলাতেও সন্দেহজনক চলাফেরা লক্ষ্য করা যায়, আর সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, বিষয়টি সবার জানা থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। ফলে পরিবার নিয়ে পার্কে যাওয়া অনেকের কাছেই ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, এই পরিস্থিতি আশপাশের তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি বড় ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ে রূপ নিতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ সুরাইয়া খাতুন বলেন, “এটা শুধু একটি পার্কের বিষয় নয়, এটি আমাদের সমাজের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”

এদিকে পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরাও হতাশা প্রকাশ করেছেন। দর্শনার্থী মো. আকাশ জানান, পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার ভাষায়, “কিছু দৃশ্য এতটাই অস্বস্তিকর ছিল, যা প্রকাশ করাও কঠিন।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বিষয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা ও নজরদারির ঘাটতিই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন তারা। এ বিষয়ে পার্কের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার বাচ্চু মাতুব্বর বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের মতে, বিনোদনের নামে যদি অনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তার লাভ করে, তবে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়—বরং পুরো সমাজের জন্য একটি অশনিসংকেত।

এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানা-এর ওসি (তদন্ত) মো. শহিদুল বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না, তবে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে অবগত হয়ে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সব মিলিয়ে, ‘চন্দ্র মহল’ ইকো পার্ককে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি এখন শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার এক উদ্বেগজনক প্রতিফলন হয়ে উঠছে।

April 19, 2026

একদিনে দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ, শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবারগুলো

স্বপ্ন ছিল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো, ভাগ্য বদলের আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন দূর প্রবাসে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তব হলো না। নিথর দেহে, কফিনবন্দী হয়ে ফিরে এলেন তারা। যে কাঁধে ভর করে দাঁড়িয়ে ছিল পরিবার, আজ সেই কাঁধই চিরতরে নিস্তব্ধ। একদিনে ৩৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরায় অসংখ্য পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কুয়েত এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে ৩০ জন প্রবাসীর মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম। একই দিনে পৃথক ফ্লাইটে আরও চারজন প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনা হয়। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে দুইজন এবং লিবিয়া থেকে দুইজনের মরদেহ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মরদেহগুলো দেশে আনা সম্ভব হয়নি। কুয়েতগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এসব মরদেহ আটকে ছিল। পরবর্তীতে বিশেষ উদ্যোগে চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। কেউ হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে, কেউ বা প্রিয় সন্তান কিংবা স্বামীকে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনের মরদেহ ফিরে পেলেও তা কোনো সান্ত্বনা নয়—বরং শোকের গভীরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে, একদিনে এত সংখ্যক প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরার ঘটনা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়—এটি অসংখ্য পরিবারের ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন, অপূর্ণ আশা আর গভীর বেদনার প্রতিচ্ছবি।

 

Saturday, April 18, 2026

April 18, 2026

পাবনায় দেব-দেবী নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও: কলেজছাত্র আটক, এলাকায় ক্ষোভ

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় হিন্দু ধর্মালম্বীদের দেব-দেবী নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আওলাদ হোসেন (১৯) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কাটাখালি মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক যুবক ওই এলাকার মোহর চাঁদের ছেলে এবং চাটমোহর সরকারি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শেষ হওয়া চড়ক পূজাকে কেন্দ্র করে আওলাদ একটি ভিডিও তৈরি করেন। এতে তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দেব-দেবী সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। গত বুধবার (১৬ এপ্রিল) ‘কেসিপি মিন্টু ব্লগস’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হলে তা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নজরে এলে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর শুক্রবার সমীর বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে চাটমোহর থানায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে আওলাদ হোসেনকে আটক করে।
চাটমোহর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অশোক চক্রবর্তী বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। চাটমোহর সবসময়ই সম্প্রীতির এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে ধর্ম নিয়ে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা আগে ঘটেনি। আমরা আইনের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা হয়েছে। আটক যুবককে গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার সকালে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

 

"
"