দেশ
October 14, 2026
মন্দিরের পাশে গরুর মাংস রান্নার প্রতিবাদ করায় জাবির হিন্দু শিক্ষার্থী বহিষ্কার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্না করে পিকনিক আয়োজন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর নাম সৈকত হালদার। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে সাময়িক বহিষ্কার ও তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিক্ষার্থী সৈকত হালদারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২৯৫(ক) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অপর আদেশে অভিযোগ তদন্তের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আইবিএ-জেইউ অধ্যাপক কে এম জাহিদুল ইসলাম ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের ওয়ার্ডেন মো. আলমগীর কবির। ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মাহতাব-উজ-জাহিদকে কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে।
জবির মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্নার অভিযোগ
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের সামনে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে পিকনিক আয়োজনের অভিযোগ ওঠে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১৭তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মন্দিরের সামনে রান্নার আয়োজন করা হয়। এ নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানান। পরে প্রক্টরের হস্তক্ষেপে রান্না শেষ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা অন্যত্র গিয়ে খাবার গ্রহণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে আয়োজনটির উদ্দেশ্য, স্থান নির্বাচন এবং মন্দিরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কয়েকটি পোস্টে অভিযোগ করা হয়, রান্নার চুলা তৈরিতে মন্দিরের ইট ব্যবহার করা হয়েছিল।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ফেসবুক পেজ ‘জবিয়ান্স’-এ এ নিয়ে পোস্ট প্রকাশের পর মন্তব্যের ঘরে ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা যায়। ওই বিতর্কের একপর্যায়ে সৈকত হালদারের বিরুদ্ধে মহানবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি বহুধর্মীয় ও বহুমতের শিক্ষাঙ্গন। সেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ধর্মীয় স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে যথাযথ তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।






.jpg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)