কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Wednesday, April 22, 2026

April 22, 2026

হিট স্ট্রোকের আগে যে লক্ষণগুলো দেখবেন, কীভাবে বাঁচবেন তীব্র গরমে

প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলোর একটি হলো হিট স্ট্রোক। এটি হঠাৎ হয় না—এর আগে শরীর নানা সংকেত দেয়। সেই সংকেতগুলো বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা থাকলে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করা কঠিন কিছু নয়। 🌡️
🔎 হিট স্ট্রোক কীভাবে হয়?
গরমে শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতার কারণে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়—কখনো ১০৫°F বা তারও বেশি। এতে মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
⚠️ হিট স্ট্রোকের আগের সতর্ক সংকেত
হিট স্ট্রোকের আগে শরীর কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখায়, যেগুলো অনেকেই গুরুত্ব দেন না:
মাথাব্যথা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি
মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম ভাব
বমিভাব বা বমি
শরীর দুর্বল লাগা
অতিরিক্ত ঘাম বা হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া
ত্বক লালচে হয়ে যাওয়া
পেশিতে টান ধরা
হৃদস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস বেড়ে যাওয়া
তীব্র তৃষ্ণা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া
প্রস্রাব কমে যাওয়া বা গাঢ় রঙ হওয়া
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
🧊 কী করবেন এই লক্ষণ দেখা দিলে?
হিট স্ট্রোক একটি জরুরি অবস্থা। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:
কাজ বন্ধ করে ঠান্ডা স্থানে চলে যান
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
মুখ, মাথা ও ঘাড়ে পানি দিন
ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছুন
বগল, ঘাড় বা কুঁচকিতে বরফ বা ঠান্ডা কাপড় দিন
হাতপাখা বা ফ্যান দিয়ে বাতাস নিন
প্রয়োজনে পোশাক ঢিলা করে দিন
অতিরিক্ত ঘাম হলে লবণ মিশ্রিত পানি, ওরস্যালাইন বা ডাবের পানি পান করা উপকারী 🥥
👶 কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বয়স্ক ব্যক্তি
শিশু
বাইরে কাজ করেন এমন শ্রমজীবী মানুষ
যারা পানি কম পান করেন
☀️ হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়
নিয়মিত পানি পান করুন (তৃষ্ণা লাগার আগেই)
রোদে বের হলে ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করুন
হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন
দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলুন
চা-কফি কম পান করুন
রসালো ফল ও ঝোলযুক্ত খাবার খান
শরীরচর্চা করুন তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে
🌿 মানবিক দিকও ভুলবেন না
গরমে শুধু নিজের না, আশপাশের মানুষের দিকেও খেয়াল রাখুন। পথচলতি মানুষ, রিকশাচালক বা শ্রমজীবীদের জন্য পানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি পাখি ও প্রাণীদের জন্যও পানি রাখুন 🐦
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপ। শরীরের ছোট ছোট সংকেতকে গুরুত্ব দিন। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে বড় বিপদ সহজেই এড়ানো সম্ভব।


 

April 22, 2026

হরমুজ প্রণালী নিরাপদ ও খোলা রাখতে লন্ডনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী-তে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নিরাপদ করতে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন-এ শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বুধবার (২২ এপ্রিল) শুরু হওয়া এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে ৩০টিরও বেশি দেশ। 
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সামরিক পরিকল্পনাবিদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর কৌশল নির্ধারণ করা।
গত সপ্তাহে এক ডজনেরও বেশি দেশ ইঙ্গিত দেয়, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তারা যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক মিশনে যোগ দিতে প্রস্তুত। এমনকি ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৫০টি দেশ এই ধরনের উদ্যোগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ইরান-সংকটকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আর মিত্রের প্রয়োজন নেই। তার এই মন্তব্যের পরপরই যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স একটি ভার্চুয়াল সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে প্রায় ৫০টি দেশ অংশ নেয়। সেখান থেকেই লন্ডনে সরাসরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বৈঠকটি গত সপ্তাহের ভার্চুয়াল আলোচনার ধারাবাহিকতা। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, “এই বৈঠকের লক্ষ্য শুধু জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা নয়, বরং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন দিতে কূটনৈতিক ঐকমত্যকে বাস্তব পরিকল্পনায় রূপ দেওয়া।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যেই জ্বালানি সংকটের প্রভাব অনুভব করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে যদি কার্যকর কোনো সমাধান বের হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। তবে পরিস্থিতি এখনো বেশ সংবেদনশীল।

 

April 22, 2026

বজ্রপাতে ছেলের মৃত্যু, মরদেহ চুরির শঙ্কায় রাতভর কবর পাহারায় বাবা

বৃদ্ধ বাবা জসিম খানের জীবনে নেমে এসেছে গভীর শোক আর অজানা আতঙ্ক। বজ্রপাতে ছেলের মৃত্যুর পর এখন নতুন এক ভয় তাকে তাড়া করছে—মরদেহ চুরির আশঙ্কা। সেই শঙ্কা থেকেই রাত জেগে সন্তানের কবর পাহারা দিচ্ছেন তিনি। 😔
গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বজ্রপাতে মারা যান তার ছেলে আরাফাত। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে ছেলের কবরের পাশে বসে আছেন জসিম খান। কবর যেন অক্ষত থাকে, কেউ যেন মরদেহ নিয়ে যেতে না পারে—এই ভেবেই রাতভর পাহারা দিচ্ছেন তিনি।
জসিম খান বলেন, তার ছেলে দর্জির কাজ করে সংসার চালাত। ঘটনার দিন গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। তিনি জানান, অনেকের মুখে শুনেছেন বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ চুরি হয়ে যায়। সেই ভয় থেকেই এই উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে সবসময় নিজে পাহারা দিতে পারেন না। তাই ঋণ করে লোক ভাড়া করে কবর পাহারা দিতে হচ্ছে। সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে প্রতিদিন অতিরিক্ত এই খরচ তার জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কবর পাহারার ব্যবস্থা করা হলে কিছুটা স্বস্তি মিলত বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় এর আগে মরদেহ চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে গুজব রয়েছে, বিশেষ করে বজ্রপাতে মৃতদের ক্ষেত্রে। সেই কারণেই পরিবারটি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহামিনা আক্তার জানান, নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কবর পাহারার জন্য প্রহরীর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
শোকের মধ্যেও এক বাবার এই অসহায়তা আর সন্তানের প্রতি শেষ দায়িত্ববোধ—ঘটনাটি সবার মন ছুঁয়ে যাচ্ছে।

 

April 22, 2026

বিবাহবার্ষিকীতে চমক দিলেন ঐশ্বরিয়া-অভিষেক

তারকাখ্যাতি, গুঞ্জন আর ব্যস্ততার ভিড়েও টিকে আছে এক নিঃশব্দ কিন্তু গভীর ভালোবাসা। বলিউডের আলোচিত জুটি অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন উদযাপন করলেন তাদের দাম্পত্য জীবনের ১৯ বছর। এই বিশেষ মুহূর্তে পাশে ছিল তাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ, মেয়ে আরাধ্যা বচ্চন।
২০ এপ্রিল ছিল তাদের বিবাহবার্ষিকী। দেখতে দেখতে কেটে গেছে প্রায় দুই দশক। বিশেষ এই দিনটি তারা উদযাপন করেছেন একেবারেই ঘরোয়া আয়োজনে, পরিবারের উষ্ণতা আর ভালোবাসায় ভরা পরিবেশে। সামাজিক মাধ্যমে ছবি শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে সেই আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন এই তারকা দম্পতি।
শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, হাসিমুখে একসঙ্গে পোজ দিয়েছেন অভিষেক, ঐশ্বরিয়া ও আরাধ্যা। হাতে ফুলের তোড়া, চোখে-মুখে স্বস্তি আর আন্তরিকতার ছাপ—সব মিলিয়ে ছবিগুলো যেন এক নিখুঁত পারিবারিক মুহূর্তের প্রতিচ্ছবি। ছবি প্রকাশের পরপরই ভক্তদের শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর।
এই জুটির প্রেমের গল্পও বেশ আলোচিত। গুরু এবং উমরাও জান সিনেমার কাজ করতে গিয়েই তাদের সম্পর্কের শুরু। এক সাক্ষাৎকারে অভিষেক বচ্চন জানিয়েছিলেন, নিউইয়র্কে শুটিংয়ের সময় হোটেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে তিনি ভাবতেন, ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে সারাজীবন কাটালে কেমন হবে। সেই ভাবনা থেকেই একসময় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। এরপর ২০১১ সালে জন্ম নেয় তাদের একমাত্র মেয়ে আরাধ্যা। সময়ের সঙ্গে নানা গুঞ্জন এলেও তাদের সম্পর্কের বন্ধন আজও অটুট রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও ব্যক্তিগত জীবনের সরলতা আর ভালোবাসা ধরে রাখার এক সুন্দর উদাহরণ হয়ে আছেন এই তারকা দম্পতি।

 

April 22, 2026

মহাখালীতে শিশুর মরদেহ কোলে যুবক, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ছবি ঘিরে প্রশ্ন

রাজধানীর মহাখালী এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ পার হয়ে রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছেন এক যুবক, যার কোলে রয়েছে প্রায় ৩ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ। জানা গেছে, শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঘটনাটির কয়েকটি ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, কাপড়ে মোড়ানো শিশুটিকে কোলে নিয়ে এক যুবক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে একটি হাসপাতালের সামনে তিনজন নারীকে কান্নারত অবস্থায় দেখা গেছে। ছবির ক্যাপশনে শিশুটির নাম সাদমান এবং বয়স ৩ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
তবে এ ঘটনায় ছবিতে থাকা যুবক কিংবা শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের করণীয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

Tuesday, April 21, 2026

April 21, 2026

৩০০ বছরের জোড়া শিবমন্দির ধ্বংসের মুখে, দ্রুত সংরক্ষণের দাবি

 

সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার দোহাজারী গ্রামের প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো জোড়া শিবমন্দির এখন ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শন দ্রুত সংরক্ষণ না করা হলে একসময় সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
মন্দিরের গায়ে থাকা নামফলক অনুযায়ী, ১১০৫ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই জোড়া শিবমন্দির দীর্ঘদিন ধরে সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে এখানে শিব পূজা ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। তবে অবহেলা ও সময়ের ক্ষয়ে মন্দিরটির অবকাঠামো এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, মন্দিরের দেয়ালে নোনা ধরায় পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রাচীন নকশার দরজাগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম। গম্বুজে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, আর ছাদের ফাঁকে জন্মানো বটগাছ ও তার শেকড় পুরো কাঠামোকে দুর্বল করে তুলছে। মন্দিরের ভেতরে থাকা দুটি শিবলিঙ্গও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার বাইরে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সমীর চক্রবর্তী ও অরবিন্দু দাসসহ অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো বড় ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় মন্দিরটির এই করুণ অবস্থা তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় ভক্তরা নিজেদের উদ্যোগে মাঝে মধ্যে রং করার কাজ করলেও বড় ধরনের সংস্কার তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
মন্দিরের পুরোহিত বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী বলেন, “এখানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা হয় এবং প্রতিদিন ভক্তরা আসেন। কিন্তু মন্দিরের অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে। এখনই সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে এটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ফকিরহাটসহ আশপাশের এলাকায় থাকা প্রাচীন স্থাপনাগুলোকে দ্রুত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করা জরুরি। তারা মনে করেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব।
এ বিষয়ে বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ জানান, “মন্দিরটির বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
সবমিলিয়ে, সময়মতো উদ্যোগ না নিলে শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী শিবমন্দির হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
April 21, 2026

রাজধানীসহ দেশে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত, আতঙ্ক নয় সতর্কতার পরামর্শ

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার সকালে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, সকাল ৬টা ২৯ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫, যা মাঝারি মাত্রার হিসেবে বিবেচিত।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের মণিপুর রাজ্যে, যা ঢাকা থেকে প্রায় ৪৩৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দূরত্ব বেশি হওয়ায় কম্পনের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রুবাঈয়াৎ কবীর বলেন, এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও শঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। কারণ, এটি তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ভেতরে এবং আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্পের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় ৩০টিরও বেশি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প হয়েছে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে, যা ডাউকি চ্যুতির নিকটবর্তী হওয়ায় ভূতাত্ত্বিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা না থাকলেও প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোই হতে পারে ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সার্বিকভাবে, আজকের ভূমিকম্প বড় কোনো বিপদের কারণ না হলেও এটি আমাদের সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

April 21, 2026

মার্কিন অবরোধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল ইরানের কার্গো জাহাজ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ। ‘শুজা-২’ নামের জাহাজটি ইরানের বন্দর থেকে যাত্রা করে ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানায়, জাহাজটি ইরানের বন্দর আব্বাসের নিকটবর্তী শহীদ রাজাই বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে ভারতের কান্ডলা বন্দরের দিকে যাচ্ছে।
সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান MarineTraffic–এর তথ্য অনুযায়ী, ‘শুজা-২’ বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে এবং এর গন্তব্য ভারত।
এর আগে ১৩ এপ্রিল থেকে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর করে। এই অবরোধের মধ্যেও ইরানের জাহাজ চলাচল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
এদিকে এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের ঘোষণার পর তেলের দামে নতুন করে উত্থান দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাই মূলত দামের ঊর্ধ্বগতির কারণ।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামে প্রভাব ফেলে।

 

April 21, 2026

বীরগঞ্জে শ্মশানের জমি দখলকে কেন্দ্র করে আদিবাসী পল্লীতে হামলা, মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বীরগঞ্জ উপজেলার নাজপুর এলাকায় শ্মশানের জমি ও গাছ দখলকে কেন্দ্র করে একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পল্লীতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দ গ্রামের সনকা পল্লীতে এ হামলা চালানো হয়। এতে একটি কালী মন্দির ভাঙচুর, একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং একজনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াবান্দ এলাকার রেজাউল ও আজাদের নেতৃত্বে দেড় থেকে দুই’শ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শ্মশানের জমি ও গাছ দখলের উদ্দেশ্যে সনকা পল্লীতে যায়। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পল্লীর একটি কালী মন্দিরে ভাঙচুর চালায় এবং প্রতিমা পাশের একটি ভুট্টাখেতে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া হামলাকারীরা মঙ্গল মুরমুর ছেলে পিউস মুরমুর (৪৫)-এর বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় পিউস মুরমুকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ এর একটি দল বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

Monday, April 20, 2026

April 20, 2026

তেলবাহী জাহাজে সরবরাহ বাড়লেও কমছে না ভিড়, জ্বালানি বাজারে অস্বস্তি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পর দেশের জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ধারাবাহিকভাবে তেলবাহী জাহাজ আসায় সরবরাহে কিছুটা গতি ফিরেছে। এপ্রিল মাসের প্রথম ২০ দিনে ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে মোট ১২টি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। এতে জ্বালানির মজুত বাড়লেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোগান্তি কমেনি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, চলতি মাসে ৮টি জাহাজে করে দেশে এসেছে ২ লাখ ৭৪ হাজার টন ডিজেল। একই সময়ে ২টি জাহাজে ৫৩ হাজার টন অকটেন সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া একটি করে জাহাজে এসেছে প্রায় ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল এবং ২৫ হাজার টন ফার্নেস তেল। এর পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ১২ হাজার টন ডিজেল দেশে প্রবেশ করেছে।
এই সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে গত রোববার থেকে দেশের অনেক ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। বিপিসির কর্মকর্তারা আশা করছেন, কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে চাপ কিছুটা কমতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে নিয়মিত তেল আসছে এবং এপ্রিল মাসে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, অকটেনের মজুত ইতোমধ্যে মাসিক চাহিদার চেয়েও বেশি হয়েছে। এখন মে ও জুন মাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
ডিজেলেই সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা
দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। চলতি মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহযোগ্য মজুত ছিল ১ লাখ ২ হাজার ১৯১ টন, যা দিয়ে প্রায় ৯ দিন চলবে। তবে আরও প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার টন ডিজেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এই চালান যুক্ত হলে মজুত প্রায় দুই সপ্তাহের জন্য বাড়বে।
১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ডিজেল বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৯০৪ টন। দৈনিক গড় বিক্রি ১১ হাজার ১৬১ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। এতে বোঝা যাচ্ছে, সরবরাহের চাপ থাকলেও চাহিদা সামান্য কমতির দিকেই রয়েছে।
অকটেনে বাড়তি স্বস্তি
অকটেনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। মাসিক চাহিদা প্রায় ৪৭ হাজার টন হলেও ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মজুত দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ হাজার টনে, যা দিয়ে ২৪ দিন চলা সম্ভব। এর মধ্যে নতুন করে ২৭ হাজার টন অকটেনবাহী একটি জাহাজ এসে খালাস শুরু করেছে। ফলে এই জ্বালানিতে মজুত সক্ষমতার সীমা ছাড়ানোর মতো অবস্থাও তৈরি হয়েছে।
দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ১১৫ টন, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। এতে করে অকটেনের সরবরাহে আপাতত বড় কোনো চাপ নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পেট্রল ও ফার্নেস তেলের চিত্র
দেশে পেট্রলের মজুত রয়েছে ১৯ হাজার ১২৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ২৫৩ টন, যা গত বছরের তুলনায় কম।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফার্নেস তেলের মজুত রয়েছে ৬৭ হাজার ৩৭৮ টন, যা দিয়ে প্রায় ৩০ দিন চলবে। এ মাসে দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ৭২০ টন, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্যাস সংকট না বাড়লে এই খাতে চাপ তুলনামূলক কম থাকবে।
জেট ফুয়েলে চাহিদা বাড়ছে
অন্যদিকে জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে ২৩ হাজার ৮৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৫ দিন চলবে। দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ৭৭৫ টন, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। বিমান চলাচল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জ্বালানির ব্যবহারও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেরোসিন ও মেরিন ফুয়েলের মজুত যথাক্রমে প্রায় ৩৬ ও ৩২ দিনের। এই দুই জ্বালানির চাহিদা কম হওয়ায় সরবরাহেও তেমন চাপ নেই।
সরবরাহ বাড়লেও ভোগান্তি কমেনি
যদিও জাহাজে জ্বালানি আসায় মজুত দ্রুত বাড়ছে, তবুও মাঠপর্যায়ে এর সুফল পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এখনো দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্রাহকদের তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই আছে। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহন চালকদের দীর্ঘ সারি যেন এখন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের ঘাটতির কারণে তৈরি হওয়া চাপ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। নতুন সরবরাহ এলেও তা সব পর্যায়ে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগছে। ফলে ভোগান্তি কমতে দেরি হচ্ছে।
আরও জাহাজ আসছে সামনে
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, এ সপ্তাহে আরও অন্তত পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। এতে বিশেষ করে অকটেন ও ফার্নেস তেলের ক্ষেত্রে স্বস্তি আরও বাড়বে। ডিজেলের বড় চালান খালাস হলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে এবং নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে। সামনে আরও জাহাজ আসছে, ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সরবরাহ বাড়লেও আগের সংকটের প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবে ধারাবাহিক আমদানি ও মজুত বৃদ্ধির ফলে খুব শিগগিরই বাজারে স্বস্তি ফিরবে—এমনটাই আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।


 

"
"