হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ
May 15, 2026
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে রাজনৈতিক কার্যক্রম ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগে ভক্তদের ক্ষোভ
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উপাসনালয় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক কার্যক্রম, নির্বাচনী প্রচারণা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগ উঠায় সাধারণ ভক্ত ও সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ঢাকেশ্বরী মন্দির শুধু একটি পূজার স্থান নয়, বরং এটি ধর্মীয় ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ মর্যাদা বহন করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মন্দিরের পবিত্র পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ভক্তদের অভিযোগ, মন্দির প্রাঙ্গণ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক সভা, দলীয় কর্মসূচি ও নির্বাচনী প্রচারণার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে গীতার বাণী সংবলিত স্থানে নির্বাচনী স্টিকার লাগানোর দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অনেক ভক্তের ভাষ্য, একটি জাতীয় মন্দিরের পরিবেশ সব ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য সমানভাবে শান্ত, পবিত্র ও নিরপেক্ষ থাকা উচিত। সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় প্রচারণা চললে সাধারণ দর্শনার্থী ও উপাসকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে ধর্মীয় শ্লোক বা পবিত্র স্থাপনার ওপর স্টিকার লাগানোর মতো ঘটনাকে তাঁরা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে দেখছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মন্দিরের কিছু অংশ অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা রাজনৈতিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, ধর্মীয় স্থানের আধ্যাত্মিক মর্যাদার চেয়ে আর্থিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হলে ভবিষ্যতে এর পবিত্রতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি–র ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অনেক সচেতন নাগরিক ও ভক্তদের দাবি, হিন্দু সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে ধর্মীয় স্থানের মর্যাদা রক্ষা করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর অবস্থান খুব একটা দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সাধারণ ভক্তরা মনে করছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিভাজনের ক্ষেত্র বানানো উচিত নয়। বরং এসব স্থান হওয়া উচিত প্রার্থনা, ধ্যান, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র। তাঁদের দাবি, জাতীয় মন্দিরে রাজনৈতিক সভা, দলীয় প্রচারণা ও বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
একই সঙ্গে মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসন, মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় সংগঠনগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন ভক্তরা। তাঁদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ঐক্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক চর্চাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার।
সনাতনী সমাজের একাধিক সদস্য বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঢাকেশ্বরী মন্দির দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে আছে। তাই এই স্থানের মর্যাদা রক্ষায় সব পক্ষকে সংবেদনশীল ও সতর্ক থাকা জরুরি।
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)

.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)