কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Saturday, May 9, 2026

May 09, 2026

বৃষ্টির ঘ্রাণ ও শব্দ কেন আমাদের মন ভালো করে? জানাচ্ছে বিজ্ঞান

বৃষ্টি শুধু প্রকৃতিকে শীতল করে না, মানুষের মন ও শরীরের ওপরও ফেলে বিশেষ প্রভাব। অনেকেই লক্ষ্য করেছেন, বৃষ্টি নামলে মন হালকা হয়ে যায়, পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসে কিংবা এক ধরনের প্রশান্তি অনুভূত হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে বৃষ্টির ঘ্রাণ, শব্দ এবং বাতাসে তৈরি হওয়া বিশেষ ধরনের আয়নের প্রভাব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির সময় বাতাসে তৈরি হওয়া নেগেটিভ আয়ন মানুষের মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বৃষ্টির ফোঁটা যখন একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বা মাটিতে আঘাত করে ভেঙে যায়, তখন এই আয়ন তৈরি হয়। ধারণা করা হয়, এসব নেগেটিভ আয়ন মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও আলফা ওয়েভের কার্যক্রম বাড়াতে সাহায্য করে, যা মানুষকে স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করায়।
যুক্তরাষ্ট্রের Pennsylvania State University–এর গবেষক Pam Dalton বলেন, নেগেটিভ আয়ন মানুষের মেজাজ ও ক্লান্তির ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে পুরোনো কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মৌসুমি বিষণ্নতা বা সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা আয়োনাইজার ব্যবহারের মাধ্যমে মানসিক উন্নতি অনুভব করেছিলেন।
বৃষ্টির আরেকটি বড় উপকার হলো বাতাস পরিষ্কার করা। বৃষ্টির ফোঁটা বাতাসে থাকা ধূলিকণা, দূষিত উপাদান ও অ্যালার্জেন নিচে নামিয়ে আনে। ফলে বৃষ্টির পর বাতাস অনেক বেশি সতেজ অনুভূত হয় এবং শ্বাস নেওয়াও সহজ হয়ে যায়। Purdue University–এর অধ্যাপক Dan Csallany জানান, বৃষ্টির ফোঁটা অনেকটা ঝাড়ুর মতো কাজ করে এবং বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র কণাগুলোকে সরিয়ে দেয়।
বৃষ্টির পর মাটি থেকে যে পরিচিত সোঁদা গন্ধ বের হয়, সেটিকে বলা হয় Petrichor। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ঘ্রাণ মানুষের আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কারণ, ঘ্রাণ সরাসরি মস্তিষ্কের অ্যামিগডালাকে সক্রিয় করে, যা আবেগ ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণেই বৃষ্টির গন্ধ অনেক সময় শৈশব, গ্রাম বা পুরোনো কোনো মুহূর্তকে খুব স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয়।
শুধু ঘ্রাণ নয়, বৃষ্টির শব্দও মানুষের মানসিক প্রশান্তির বড় কারণ। পানির টুপটাপ শব্দ স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করতে সাহায্য করে। ক্লিনিক্যাল অডিওলজিস্ট Amy Sarow বলেন, পানির শব্দ আমাদের প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় করে, যা শরীরকে বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সংকেত দেয়।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ থেকে ৫০ ডেসিবেল মাত্রার বৃষ্টির শব্দ মানুষের মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। অনেকেই তাই ঘুমানোর সময় বা কাজের ফাঁকে বৃষ্টির শব্দ শুনে স্বস্তি অনুভব করেন।
সব মিলিয়ে বিজ্ঞান বলছে, বৃষ্টি কেবল আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, এটি মানুষের মন, স্মৃতি ও শরীরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি প্রাকৃতিক অভিজ্ঞতা। তাই বৃষ্টি নামলে মন ভালো হয়ে যাওয়ার অনুভূতির পেছনে সত্যিই রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

 

May 09, 2026

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষীরগ্রামের প্রাচীন শক্তিপীঠের রহস্য ও ঐতিহ্য

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষীরগ্রাম বহু শতাব্দী ধরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ব্লকে অবস্থিত এই গ্রাম মূলত বিখ্যাত মা যোগাদ্যা মন্দির–এর জন্য। শাক্তধর্ম অনুসারীদের বিশ্বাস, এটি হিন্দু ধর্মের ৫১টি সতীপীঠের অন্যতম। তাই সারা বছর দেশের নানা প্রান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত, সাধক ও দর্শনার্থী এখানে এসে দেবীর পূজা ও দর্শন করেন।
পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, রাজা দক্ষের যজ্ঞসভায় অপমান সহ্য করতে না পেরে দেবী সতী আত্মাহুতি দেন। এরপর শোকে মুহ্যমান মহাদেব সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করলে গোটা সৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন ভগবান বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খণ্ডিত করেন। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ক্ষীরগ্রামের এই স্থানে সতীর ডান পায়ের বুড়ো আঙুল পতিত হয়েছিল। সেই থেকেই এটি সতীপীঠ হিসেবে পূজিত হয়ে আসছে। এখানে দেবী ‘যুগাদ্যা’ বা ‘যোগাদ্যা’ নামে পূজিতা হন এবং তাঁর ভৈরব হিসেবে পূজিত হন ‘ক্ষীরকণ্ঠ’ শিব।
মা যোগাদ্যাকে এখানে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গারূপে পূজা করা হয়। মন্দিরে থাকা দেবীমূর্তিটি কালো কষ্টিপাথরের তৈরি। ভাস্কর্যের গঠন ও অলংকরণে পাল-সেন যুগের শিল্পরীতির প্রভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, রামায়ণের মহীরাবণ বধের পর ভগবান হনুমান পাতাল থেকে এই দেবীমূর্তি উদ্ধার করে ক্ষীরগ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই কারণেই অনেক ভক্ত দেবীকে ‘পাতাল ভৈরবী’ নামেও ডাকেন।
এই মন্দিরের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বিষয় হলো, দেবী সারা বছর মন্দির সংলগ্ন ক্ষীরদীঘির জলের নিচে নিমজ্জিত অবস্থায় থাকেন। বছরের নির্দিষ্ট কয়েকটি তিথিতে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবীকে জল থেকে তুলে পূজা করা হয়। বিশেষ করে ৩১শে বৈশাখ ও ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ ভক্তদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ সময় হাজার হাজার মানুষের সমাগমে পুরো ক্ষীরগ্রাম উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা তখন দেবীর পূর্ণ দর্শন লাভ করেন।
অন্যান্য বিশেষ তিথিতে তান্ত্রিক বিধি অনুসারে গোপনীয় পরিবেশে দেবীর পূজা সম্পন্ন হয়। এই শক্তিপীঠে এখনো বহু প্রাচীন শাক্তাচার প্রচলিত রয়েছে। দেবীর নিত্যপূজায় আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয় এবং কিছু বিশেষ উৎসবে পশুবলির রীতিও পালন করা হয়। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, বহু আগে এখানে নরবলির প্রথাও ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সেই প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে।
মা যোগাদ্যাকে ঘিরে ক্ষীরগ্রামে নানা লোকবিশ্বাস ও সামাজিক ঐতিহ্য আজও টিকে আছে। জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় দেবী শাঁখারি বেশে উমাকে শাঁখা পরিয়েছিলেন। সেই স্মৃতিকে ঘিরে বৈশাখী উৎসবে দেবীকে বিশেষভাবে শাঁখা পরানো হয়। একই সঙ্গে গ্রামের বিবাহিত নারীরাও নতুন শাঁখা পরেন। ফলে এই উৎসব শুধু ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
বর্তমান সময়েও মা যোগাদ্যার এই পীঠস্থান শুধু একটি মন্দির নয়, বরং বাংলার প্রাচীন শাক্তভক্তি, লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতির জীবন্ত নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। পুরাণ, তন্ত্রসাধনা, লোককথা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন আজও এই পবিত্র স্থানকে ভক্তদের কাছে গভীর শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের কেন্দ্র হিসেবে ধরে রেখেছে।

 

May 09, 2026

১০ মে জানা যাবে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী–এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা মামলাসহ পাঁচটি মামলায় জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) শুনানি শেষে রায়ের জন্য আগামী ১০ মে দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।
এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত বছরের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করার পরপরই হত্যা মামলাসহ আরও পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় একই বছরের ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পর আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চিন্ময় দাসের অনুসারীরা বিক্ষোভ করেন এবং তাকে কারাগারে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির একপর্যায়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন।
পরে নিহত আইনজীবীর বাবা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও পাঁচটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতারা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন। এক ফেসবুক পোস্টে অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় আগামী ১০ মে “৮ দফা দাবি আদায়ে কারাবরণকারী সকলের মুক্তির জন্য” প্রার্থনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ কারাবন্দীদের মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা তৈরির অনুরোধ জানান।
আগামী ১০ মে হাইকোর্টের রায়কে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারী ও বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন।

 

May 09, 2026

শ্রীমঙ্গলের বুকে নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রতীক শ্রী শ্রী শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালী মন্দির

 

বাংলাদেশের পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল শুধু চা-বাগান, সবুজ পাহাড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যও বিশেষভাবে সমাদৃত। এই শহরের অন্যতম আকর্ষণ এখন শ্রী শ্রী শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালী মন্দির। শৈল্পিক নকশা, দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য এবং আধ্যাত্মিক আবহের কারণে মন্দিরটি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ও আধুনিক মন্দির হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
শ্রীমঙ্গল শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনা থেকে কলেজ রোডে যাওয়ার পথে বাম পাশে অবস্থিত এই মন্দির দূর থেকেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। লাল, সাদা, সোনালি ও ব্রোঞ্জ রঙের অপূর্ব সমন্বয়ে নির্মিত মন্দিরটির সৌন্দর্য দিনে যেমন মোহিত করে, তেমনি রাতের আলোকসজ্জায় এটি যেন এক স্বপ্নময় স্থাপনায় পরিণত হয়।
প্রায় এক শতকের ইতিহাস
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্যোগে প্রায় একশ বছর আগে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো কাঠামো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় নতুনভাবে মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুরোনো স্থাপনাটি ভেঙে আধুনিক নকশায় নতুন মন্দির নির্মাণ শুরু হয় ২০১২ সালে।
দীর্ঘ নয় বছরের শ্রম, পরিকল্পনা ও সূক্ষ্ম কারুকাজের মাধ্যমে ২০২১ সালে বর্তমান মন্দিরটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। স্থানীয় ভক্তদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে থাকা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আর্থিক সহযোগিতায় এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানা যায়।
স্থাপত্যে নান্দনিকতার অনন্য ছাপ
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে এই মন্দির সত্যিই ব্যতিক্রম। প্রায় ১৩০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত পাঁচ স্তরবিশিষ্ট এই মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ৪৮ ফুট। মন্দিরটির রয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচটি চূড়া ও পাঁচটি প্রবেশদ্বার, যা এর সৌন্দর্যকে আরও গৌরবান্বিত করেছে।
মন্দিরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর বাহ্যিক নকশা। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে জবা ফুল, বেলপাতা ও স্বস্তিকা চিহ্নের সূক্ষ্ম অলংকরণ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি কারুকাজে রয়েছে ঐতিহ্য ও আধুনিক শিল্পরীতির মিশেল।
ভেতরের অংশও সমানভাবে দৃষ্টিনন্দন। মার্বেল পাথরে নির্মিত পরিষ্কার ও প্রশস্ত মেঝে, সুন্দর বারান্দা এবং দেবীকে প্রদক্ষিণের সুব্যবস্থা ভক্তদের জন্য একটি শান্ত ও পবিত্র পরিবেশ তৈরি করেছে।
ধর্মীয় গুরুত্ব ও ভক্তদের সমাগম
এই মন্দিরের প্রধান দেবতা হলেন শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালী মাতা ও মহাদেব। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে পূজা-অর্চনা করতে আসেন। বিশেষ করে কালীপূজা, দীপাবলি, শিবরাত্রি ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের সময় মন্দির প্রাঙ্গণ হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে।
উৎসবের দিনগুলোতে পুরো এলাকা আলোকসজ্জা, ধর্মীয় সংগীত ও পূজার্চনায় এক ভিন্ন আধ্যাত্মিক আবহ ধারণ করে। তখন শুধু স্থানীয় মানুষই নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও দর্শনার্থীরা এখানে আসেন।
পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয় গন্তব্য
শ্রীমঙ্গল দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। চা-বাগান, লাউয়াছড়া বন, পাহাড়ি প্রকৃতি ও শান্ত পরিবেশ দেখতে আসা পর্যটকদের অনেকেই এখন এই মন্দির ঘুরে দেখতে আসেন।
আধুনিক স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে নির্মিত এই মন্দির পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই মন্দিরটির সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করতে ভিড় করেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় মন্দিরটি আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে।
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উজ্জ্বল প্রতীক
স্থানীয়দের মতে, এই মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং এটি এলাকার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির প্রতীক। মন্দিরটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও ধর্মীয় নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে।
বর্তমানে শ্রী শ্রী শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালী মন্দির বাংলাদেশের সনাতন ধর্মীয় স্থাপত্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আধুনিক নির্মাণশৈলী ও অপূর্ব সৌন্দর্যের কারণে এটি দিন দিন দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

Friday, May 8, 2026

May 08, 2026

খাগড়াছড়িতে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় পরিবহন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একটি পুকুর থেকে কৃষ্ণ দে (৫২) নামে এক পরিবহন শ্রমিকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতের দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে তারা দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানালে খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত কৃষ্ণ দে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে চলাচলকারী একটি বাসের শ্রমিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন। সহকর্মী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণ ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো জীবিকার তাগিদে পরিবহন খাতে কাজ করেই পরিবারের দায়িত্ব পালন করতেন। হঠাৎ তার এমন মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে পুকুরের পাশে কয়েকজন পথচারী অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পান। কাছে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন পানিতে একটি মরদেহ ভাসছে। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
খাগড়াছড়ি সদর থানার এক কর্মকর্তা বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”
নিহতের সহকর্মীরা জানান, কৃষ্ণ দে নিয়মিত পরিবহন শ্রমিকের কাজ করতেন এবং বেশিরভাগ সময় বাসস্ট্যান্ড ও সড়ক এলাকাতেই কাটাতেন। তার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কৃষ্ণ দের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে যান। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাই এমন ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা বলেন, একজন সাধারণ শ্রমিকের মৃত্যু হলেও এর পেছনের কারণ উদঘাটন করা প্রয়োজন, যাতে কোনো অপরাধ ঘটে থাকলে দায়ীরা আইনের আওতায় আসে।
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি অঞ্চলে পরিবহন শ্রমিকদের জীবনযাপনও বেশ কষ্টসাধ্য। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় সড়কে কাজ করতে হয় তাদের। অল্প আয়ে পরিবার চালাতে গিয়ে নানা চাপের মধ্যেও থাকতে হয়। কৃষ্ণ দের মৃত্যু তাই শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং শ্রমজীবী মানুষের অনিরাপদ জীবনের বাস্তবতাকেও সামনে এনে দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আশপাশের এলাকা ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হবে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

 

May 08, 2026

রাউজানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় পরিবারের সর্বনাশ, খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা–এর পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসুদেব বিশ্বাস বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বুধবার (৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। এতে একে একে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বসতঘর, আসবাবপত্র এবং বহু বছরের কষ্টার্জিত সম্পদ।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে নগদ টাকা, ফ্রিজ, টেলিভিশন, স্টিলের আলমিরা, গুরুত্বপূর্ণ জমির দলিল, মজুত রাখা চালসহ ঘরের প্রায় সব মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। রক্ষা পায়নি শিক্ষার্থীদের বইপত্র ও শিশুদের ব্যবহৃত বাইসাইকেলও।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে পরিবারের সদস্যরা জীবন বাঁচাতে শুধু গায়ের কাপড় নিয়ে ঘর থেকে বের হতে পেরেছেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন পুরো বাড়িকে গ্রাস করে নেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সবকিছু ভস্মীভূত হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্বপন বিশ্বাস, পরিমল বিশ্বাস, রূপন বিশ্বাস, প্রদীপ বিশ্বাস, বিজয় বিশ্বাস ও আরেক স্বপন বিশ্বাসের পরিবার। বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা হলেও খাদ্য, পোশাক ও প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, বহু বছরের সঞ্চয় এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে ঘর তৈরি কিংবা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার মতো সামর্থ্য তাদের নেই। বিশেষ করে শিশুদের পড়াশোনার বইপত্র পুড়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো আরও দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলো সরকার, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তারা আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন।

 

May 08, 2026

মাছ চুরির অভিযোগে আটক যুবকের মৃত্যু, পরিবার বলছে ‘হত্যা’

বাড়িতে কৃষ্ণের স্ত্রী যমুনা রানী রাজবংশী গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেন। এ ছাড়া একই অভিযোগ করেন কয়েকজন প্রতিবেশীও।
এর আগে গতকাল বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার তরা বাজারের ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে কৃষ্ণ রাজবংশীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
যমুনা রানী বলেন, মাছ চুরির সন্দেহে তাঁর স্বামীকে তরা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয়ে আটকে রেখে গতকাল মারধর করা হয়। গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে এসে কৃষ্ণকে ছাড়িয়ে নিতে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যেতে বলেন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ওই টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।
যমুনা রানীর দাবি, পরে তিনি নিজেই বাজার কমিটির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে স্বামীকে মারধর করতে দেখেন। কথার এই পর্যায়ে যমুনা রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। এত ট্যাকা পামু কনে? ওই অফিসে গিয়্যা কান্নাকাটি করছি, তাগো (কমিটির লোকজন) পায়ে ধরে কানছি। তারপরও আমার স্বামীরে মারধর করছে। কত কইল্যাম, আপনারা তাঁরে পুলিশে দেন, তাও দিল না! ওরা আমার স্বামীরে মাইরা ফ্যানের লগে ঝুলাইয়া রাখছে, আমারে বিধবা করছে, আমার দুই পোলা–ম্যায়ারে এতিম করছে। আমি তাগো শাস্তি চাই।’
কৃষ্ণ রাজবংশী মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বান্দুটিয়া মাঝিপাড়া মহল্লার ক্ষুদিরাম রাজবংশীর ছেলে। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির জলাশয়ে জাল টানা ও মাছ ধরার কাজ করতেন। মাঝেমধ্যে তরা বাজারে ট্রাক থেকে মাছ নামানোর কাজও করতেন। তাঁর এক ছেলে ও মেয়ে আছে।
কৃষ্ণের মাসতুতো ভাই লালচান রাজবংশী বলেন, কৃষ্ণকে ছেড়ে দিতে দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার ভোরে বাড়ি থেকে বের হন কৃষ্ণ। সকালে মাছ চুরির অভিযোগে তাঁকে ও আরও একজনকে আটক করে বাজার কমিটির লোকজন। পরে অন্যজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কৃষ্ণকে কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। দুপুরে কার্যালয়ের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন।


Thursday, May 7, 2026

May 07, 2026

এক ক্লিকেই খালি হতে পারে মোবাইল ব্যালেন্স! নতুন ‘এসএমএস পাম্পিং’ প্রতারণা নিয়ে সতর্কবার্তা

সাইবার অপরাধীরা এখন এমন এক নতুন কৌশল ব্যবহার করছে, যেখানে আপনার ফোনে ম্যালওয়্যার ইনস্টল করারও প্রয়োজন হয় না, পাসওয়ার্ড চুরি করতে হয় না, এমনকি অ্যাকাউন্ট হ্যাকও করতে হয় না। মাত্র একটি ভুল ক্লিকের মাধ্যমেই আপনার মোবাইল থেকে আন্তর্জাতিক নম্বরে একের পর এক এসএমএস পাঠানো হচ্ছে, আর সেই বিল গুনতে হচ্ছে ব্যবহারকারীকেই। এই প্রতারণার নাম ‘এসএমএস পাম্পিং অ্যাটাক’।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে এই ধরনের সাইবার প্রতারণা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ ব্যবহারকারীদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়েই অপরাধীরা অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক কারণ অনেকেই বুঝতেই পারেন না কখন তাদের ফোন ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক এসএমএস পাঠানো হয়েছে।
কী এই ‘এসএমএস পাম্পিং অ্যাটাক’?
ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময় “আপনি কি রোবট?” ধরনের যাচাইকরণ পেজ বা ক্যাপচার মুখোমুখি হয়েছেন। আগে যেখানে বিকৃত লেখা টাইপ করতে হতো, এখন সেখানে ছবি নির্বাচন বা ছোটখাটো যাচাই প্রক্রিয়া দেখা যায়। সাইবার অপরাধীরা এখন এই পরিচিত ব্যবস্থাকেই ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ক্লিকফিক্স’ নামে পরিচিত একটি নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে ভুয়া ক্যাপচা পেজ তৈরি করা হচ্ছে। এসব পেজ দেখতে অনেকটাই আসল ওয়েবসাইটের মতো হওয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। ব্যবহারকারীদের সেখানে একটি বাটনে ক্লিক করতে বলা হয়, যা মূলত তাদের ফোনের এসএমএস অ্যাপ খুলে দেয়।
সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, এসএমএস পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর ও বার্তা আগে থেকেই সেট করা থাকে। ফলে ব্যবহারকারী বুঝে ওঠার আগেই আন্তর্জাতিক নম্বরে মেসেজ চলে যায়।
কীভাবে কাজ করে এই প্রতারণা?
সাইবার অপরাধীরা সাধারণত ভুয়া বিজ্ঞাপন, নকল ওয়েবসাইট অথবা পরিচিত টেলিকম প্রতিষ্ঠানের নামের কাছাকাছি ডোমেইন ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। অনেক সময় ওয়েবসাইটের ঠিকানায় খুব সামান্য বানান পরিবর্তন থাকে, যা সহজে চোখে পড়ে না।
একবার ব্যবহারকারী সেখানে প্রবেশ করলে তাকে “ভেরিফিকেশন” বা “সিকিউরিটি চেক” সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। এরপর একটি বাটনে ক্লিক করতে বলা হয়, যা সরাসরি মোবাইলের মেসেজ অ্যাপ খুলে দেয়।
এই আক্রমণের কৌশল আরও জটিল কারণ এটি একটিমাত্র নম্বরে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং একাধিক ধাপে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক নম্বরে এসএমএস পাঠানো হয়। এসব দেশের মধ্যে আজারবাইজান, মিয়ানমার, মিশরসহ এমন কিছু অঞ্চল রয়েছে যেখানে এসএমএস চার্জ তুলনামূলক বেশি।
কেন এই প্রতারণা লাভজনক?
এই কৌশলকে বলা হয় “ইন্টারন্যাশনাল রেভিনিউ শেয়ার ফ্রড”। সহজভাবে বলতে গেলে, নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নম্বরে বেশি পরিমাণ এসএমএস পাঠিয়ে সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করা হয়। ওই আয়ের একটি অংশ অপরাধীদের কাছে ফিরে যায়।
ফলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার মোবাইল ব্যালেন্স বা বিল থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ ডলার বা তারও বেশি অর্থ কেটে যেতে পারে।
কেন বিষয়টি ভয়ংকর?
এই প্রতারণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এখানে প্রচলিত অর্থে “হ্যাকিং” হয় না। ফোনে ভাইরাস ঢোকে না, অ্যাকাউন্টও হ্যাক হয় না। তাই অনেক অ্যান্টিভাইরাস বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা এটিকে শনাক্ত করতে পারে না।
ব্যবহারকারী নিজেই অজান্তে এসএমএস পাঠানোর অনুমতি দিয়ে ফেলেন। আর সেই সুযোগেই পুরো প্রতারণা সম্পন্ন হয়।
যেভাবে নিরাপদ থাকবেন 
বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:
নিজেকে মানুষ প্রমাণ করতে কখনও এসএমএস পাঠাবেন না
আসল ক্যাপচা কখনও মেসেজ অ্যাপ খুলতে বলে না
অচেনা বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে ক্লিক করা এড়িয়ে চলুন
ওয়েবসাইটের ডোমেইন ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করুন
হঠাৎ করে এসএমএস অ্যাপ খুলে গেলে সতর্ক হোন
মোবাইল বিল বা ব্যালেন্স নিয়মিত পরীক্ষা করুন
অপ্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক এসএমএস সুবিধা বন্ধ রাখতে পারেন
অসতর্কতার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা
বাস্তবে মানুষ ব্যস্ততা বা তাড়াহুড়োর কারণে অনেক সময় না ভেবেই “ভেরিফাই”, “কন্টিনিউ” বা “আই অ্যাম নট এ রোবট” বাটনে ক্লিক করে ফেলেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই সক্রিয় হয়ে ওঠে প্রতারণার ফাঁদ।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, প্রতারণার কৌশলও তত সূক্ষ্ম হচ্ছে। তাই শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা নয়, ব্যবহারকারীর সচেতনতাও এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।

 

May 07, 2026

গাইবান্ধায় ৪ হাজার অসহায় সনাতনী পরিবারের পাশে মন্দির, চাল বিতরণে মানবিক উদ্যোগ

পলাশবাড়ী-তে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির। মন্দিরের উদ্যোগ এবং চয়েস টু চেন্জ অব হিন্দু ফাউন্ডেশন-এর অর্থায়নে প্রায় ৪ হাজার দরিদ্র ও অসহায় সনাতনী পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মন্দির কমিটির সদস্য, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও মানবিক দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল চিত্র।
আয়োজকরা জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নিম্নআয়ের বহু পরিবার নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অসচ্ছল মানুষের মধ্যে। তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে এবং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সহায়তা পাওয়া পরিবারের সদস্যরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনেকেই বলেন, এই সহায়তা তাদের জন্য কঠিন সময়ে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস বলেন, ধর্ম কেবল আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের সেবাও ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।”
অন্যদিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা জানান, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা ও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই তাদের এই উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এমন মানবিক উদ্যোগ শুধু মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পূরণ করে না, বরং সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদার করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

May 07, 2026

মানিকগঞ্জে চুরির অভিযোগে গণপিটুনির পর হিন্দু যুবকের আত্মহত্যার অভিযোগ

মানিকগঞ্জের সদর উপজেলায় চুরির অভিযোগে গণপিটুনির পর এক হিন্দু যুবক আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (৬ মে) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে যেকোনো সময় সদর উপজেলার তরা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অফিসে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই যুবকের নাম কৃষ্ণ রাজবংশী। তিনি মানিকগঞ্জ পৌরসভার বান্দুটিয়া মাঝিপাড়া এলাকার খুদিরাম রাজবংশীর পালক ছেলে। স্থানীয়রা জানান, তরা মাছের আড়তে মাছ চুরির অভিযোগে কৃষ্ণ রাজবংশীকে আটক করে বাজার কমিটির লোকজন। আটকের পর তাকে গণপিটুনি দিয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অফিসে আটকে রাখা হয়। আটকে রাখার পর সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে যেকোনো সময় ফ্যানের সাথে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন কৃষ্ণ রাজবংশী। পরে তার আত্মহত্যার খবর পেয়ে মরদেহ নামিয়ে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে বাজার কমিটির কয়েকজন। তবে স্থানীয়রা এ কাজে বাধা দিলে দ্রুত সটকে পড়েন তারা। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তন (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, ঘটনা শুনে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হবে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
"
"