কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, March 26, 2026

March 26, 2026

মীরসরাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা জগ্যেশ্বর জলদাস ও তার ভাইয়ের উপর সন্ত্রাসী হামলা

 


চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ৫ নম্বর ওচমানপুর ইউনিয়নের জলদাসপাড়ায় এক চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা জগ্যেশ্বর জলদাস ও তাঁর ভাই ধনেশ্বর জলদাসকে জলদাসপাড়ার এক সন্ত্রাসী জোরপূর্বক ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মন্দিরের সামনে হামলা চালায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দলবল নিয়ে জগ্যেশ্বর জলদাস ও ধনেশ্বর জলদাসকে তাদের বসতঘর থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং স্থানীয় মন্দিরের সামনে নিয়ে নির্মমভাবে হামলা করে। এ সময় দুই ভাই চিৎকার করলে আশপাশের এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী বালি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

পরবর্তীতে এলাকাবাসী গুরুতর আহত অবস্থায় জগ্যেশ্বর জলদাস ও ধনেশ্বর জলদাসকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পর পুরো জলদাসপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রবীণ ব্যক্তির উপর এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসনের নিকট উক্ত ঘটনার বিচারের দাবি জানিয়েছেন

Wednesday, March 25, 2026

March 25, 2026

খুলনায় আগামীকাল উদযাপিত হবে শ্রীশ্রী অন্নপূর্ণা পূজা

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:
খুলনার ভৈরব স্ট্যান্ড রোড সংলগ্ন আদি কালীবাড়ি পাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরে আগামীকাল ২৬ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার (১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) অত্যন্ত ভক্তি ও উৎসাহের সাথে পালিত হতে যাচ্ছে পরমেশ্বরী শ্রীশ্রী অন্নপূর্ণা পূজা। জগতের অন্ন ও পুষ্টির দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনায় দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
​বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার আয়োজনে এবারের পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে পূজার একটি পূর্ণাঙ্গ সময়সূচীও প্রকাশ করা হয়েছে।
​অনুষ্ঠান সূচী ও সময়:
​পূজার দিন (২৬ মার্চ) সকাল থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে:
​ঘট স্থাপন: সকাল ৯.০০ ঘটিকা।
​পূজা আরম্ভ: সকাল ১০.৩০ ঘটিকা।
​অঞ্জলি প্রদান: দুপুর ১.০০ ঘটিকা।
​হোমযজ্ঞ: দুপুর ১.৩০ ঘটিকা।
​প্রসাদ বিতরণ: দুপুর ২.০০ ঘটিকা।
​পূজা উদযাপন পরবর্তী অনুষ্ঠান হিসেবে আগামী ২৭ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার (১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) প্রতিমা নিরঞ্জনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। এদিন বিকেল ৫.০০ ঘটিকায় 'মায়ের বরণ' এবং সন্ধ্যা ৭.০০ ঘটিকায় 'নিরঞ্জন যাত্রা' বা বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।
​বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার পক্ষ থেকে সকল ধর্মপ্রাণ ভক্ত ও দর্শনার্থীদের এই আনন্দ উৎসবে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য সশ্রদ্ধ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


March 25, 2026

৭১-এর গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ

 

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিবৃতিতে এই প্রস্তাবকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ১১৯তম কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। এতে ১৯৭১ সালের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। ঐক্য পরিষদ তাদের বিবৃতিতে এই আহ্বানকে ‘যথার্থ’ বলে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে সংগঠনটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার নির্যাতন, সহিংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তাদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ধরনের সহিংসতা দেখা গিয়েছিল, পরবর্তী সময়েও ভিন্ন ভিন্ন সরকারের আমলে নানা রূপে সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
ঐক্য পরিষদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সংঘটিত সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে দেশে তাদের জনসংখ্যার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ১৯৭০ সালে যেখানে সংখ্যালঘুদের হার ছিল ১৯ দশমিক ০৭ শতাংশ, বর্তমানে তা কমে ৯ দশমিক ০২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনটির মতে, এটি একটি পরিকল্পিত নিঃস্বকরণ প্রক্রিয়ার অংশ, যার ফলে অনেক সংখ্যালঘু নাগরিক দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচার না হওয়ায় দেশে দায়মুক্তির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলোকে আরও উৎসাহিত করেছে এবং বিভিন্ন সময়ে তারা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাও পেয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ফলে সুযোগ পেলেই তারা আবারও একই ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তারা দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং একটি জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন প্রতিষ্ঠাসহ আট দফা দাবি বিভিন্ন সরকারের কাছে তুলে ধরেছে বলে জানানো হয়।
ঐক্য পরিষদ বলছে, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও তারা নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে ধর্মীয় বৈষম্যবিরোধী মানবাধিকার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংখ্যালঘুদের স্বকীয় অস্তিত্ব রক্ষায় তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১৯৭১ সালের গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা যেমন জোরদার করতে হবে, তেমনি দেশের ভেতরেও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।


Tuesday, March 24, 2026

March 24, 2026

শত অবহেলার পরও পাকিস্তানে টিকে থাকা সনাতনদের তীর্থস্থান কাটাসরাজ মন্দির

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চক্রওয়াল জেলায় অবস্থিত কাটাসরাজ মন্দির কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে থাকা সনাতন ধর্মের ইতিহাস, আস্থা ও সংগ্রামের এক জীবন্ত নিদর্শন। পাহাড়ঘেরা নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত এই মন্দিরসমূহের সমষ্টি “কাটাসরাজ কমপ্লেক্স” নামে পরিচিত, যেখানে একাধিক প্রাচীন মন্দির, পুকুর এবং স্থাপত্য নিদর্শন রয়েছে।
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, এই স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভগবান শিব-এর গভীর একটি কাহিনি। বলা হয়, তাঁর পত্নী সতী-এর মৃত্যুর শোকে শিবের চোখ থেকে যে অশ্রু ঝরেছিল, তা থেকেই সৃষ্টি হয় এই পবিত্র কুণ্ড বা পুকুর। সেই থেকেই স্থানটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত।
ঐতিহাসিকভাবে ধারণা করা হয়, এই মন্দিরগুলোর প্রাচীনতম অংশ প্রায় এক হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। হিন্দু শাহী রাজাদের আমলে এখানে মন্দির নির্মাণ ও সম্প্রসারণ ঘটে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় মুসলিম শাসনামলেও এই স্থাপনা টিকে থাকে, যদিও ধীরে ধীরে এর জৌলুস কমে আসে।
১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজন-এর পর পাকিস্তানে হিন্দু জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়। ফলে কাটাসরাজ মন্দিরও দীর্ঘদিন অবহেলা ও অযত্নে পড়ে থাকে। নিয়মিত পূজা, সংস্কার বা তীর্থযাত্রা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অনেক স্থাপনা ভেঙে পড়ার মুখে পড়ে এবং ঐতিহাসিক কাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে থাকে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মন্দিরের ঐতিহ্য ও গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় আসে। পাকিস্তান সরকার এবং বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্থা কিছু সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়। মাঝে মাঝে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে হিন্দু তীর্থযাত্রীরাও এখানে আসেন, বিশেষ করে মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে।
তবুও সমস্যার শেষ হয়নি। আশেপাশের শিল্পকারখানার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়ায় পবিত্র কুণ্ডের পানি অনেক সময় শুকিয়ে যায়, যা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভক্তদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পাশাপাশি নিরাপত্তা, সংরক্ষণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
সব প্রতিকূলতার মধ্যেও কাটাসরাজ মন্দির আজও দাঁড়িয়ে আছে এক অটল প্রতীক হিসেবে—যেখানে ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সংখ্যালঘু সনাতনীদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম একসূত্রে গাঁথা। এটি শুধু একটি তীর্থস্থান নয়, বরং একটি বার্তা—সময় যতই বদলাক, আস্থা ও ঐতিহ্যকে মুছে ফেলা যায় না।


 

March 24, 2026

প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্যের জীবন্ত নিদর্শন ধবংস ও পুনঃরুত্থান

 

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের রাজধানী ভুবনেশ্বর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চৌষট্টি যোগিনী মন্দির, যা “মহামায়া মন্দির” নামেও পরিচিত। প্রাচীন ভারতের তান্ত্রিক সাধনা ও শক্তি উপাসনার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এই মন্দির আজও ইতিহাস, ধর্ম এবং স্থাপত্যপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে উপাসনা করা হয় যোগিনী নামে পরিচিত দেবী-সদৃশ শক্তিরূপগুলোর, যাদের হিন্দু তান্ত্রিক দর্শনে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই মন্দিরের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য হলো এর ছাদবিহীন বা হাইপেথ্রাল স্থাপত্যশৈলী। খোলা আকাশের নিচে নির্মিত এই গোলাকার মন্দিরটি তান্ত্রিক উপাসনার দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তান্ত্রিক বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রকৃতির পাঁচটি মৌলিক উপাদান—অগ্নি, জল, বায়ু, পৃথিবী ও আকাশ—এই সাধনার মূল ভিত্তি। সেই কারণেই এখানে পূজা-অর্চনা এমনভাবে সম্পন্ন হয় যাতে ভক্তরা সরাসরি প্রকৃতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, যোগিনীরা আকাশে বিচরণে সক্ষম, যা এই উন্মুক্ত স্থাপত্যের পেছনে একটি প্রতীকী ব্যাখ্যা প্রদান করে।

মন্দিরের ভেতরে স্থাপিত যোগিনী মূর্তিগুলো শক্তির বহুমাত্রিক প্রকাশকে ফুটিয়ে তোলে। হিন্দু দর্শনে আদিশক্তি সর্বোচ্চ সৃষ্টিশক্তি হিসেবে বিবেচিত, যিনি নিজ থেকেই সৃষ্টির সূচনা করেন এবং সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে ধারণ করেন। সেই আদিশক্তির বিভিন্ন রূপই এখানে যোগিনীদের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। মূর্তিগুলিতে মানবজীবনের নানান আবেগ—ক্রোধ, আনন্দ, দুঃখ, উল্লাস ও কামনা—শিল্পরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। অধিকাংশ মূর্তিতে দেবীদের পশু, অসুর বা মানুষের মাথার উপর দণ্ডায়মান অবস্থায় দেখা যায়, যা অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে ভৌম বংশের রানি শান্তিকরদেবী (দ্বিতীয়) এই মন্দির নির্মাণ করেন। অনেক গবেষকের মতে, এটি ভারতের প্রাচীনতম চৌষট্টি যোগিনী মন্দিরগুলোর একটি। স্থানীয় কিংবদন্তি অনুসারে, দেবী দুর্গা এক অসুর বধের জন্য ৬৪টি রূপ ধারণ করেছিলেন। যুদ্ধ শেষে সেই যোগিনীরা নিজেদের স্মরণীয় করে রাখতে একটি মন্দির নির্মাণের অনুরোধ জানান, যার ফলস্বরূপ এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ইতিহাসের ধারায় এই মন্দির ধ্বংসযজ্ঞের শিকারও হয়েছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৬শ শতকে মুসলিম সেনাপতি কালাপাহাড় মন্দিরে আক্রমণ চালিয়ে বহু মূর্তি ভেঙে ফেলেন। তিনি জগন্নাথ মন্দির এবং কোনার্ক সূর্য মন্দির ধ্বংসের সঙ্গেও জড়িত বলে পরিচিত।

স্থাপত্যের দিক থেকে মন্দিরটি ছোট হলেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় ২৫ ফুট ব্যাসের এই গোলাকার কাঠামোটি বেলেপাথরের ব্লক দিয়ে নির্মিত। এর অভ্যন্তরীণ দেয়ালের কুলুঙ্গিগুলোতে একসময় ৬৪টি যোগিনী মূর্তি স্থাপন করা ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৫৬টি টিকে আছে। মন্দিরের কেন্দ্রে স্থাপিত প্রধান দেবী কালী, যিনি একটি মানবমস্তকের উপর দাঁড়িয়ে আছেন—এটি অহংকার বা মনের উপর আত্মার বিজয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। পুরো মন্দিরটি একটি মণ্ডল পরিকল্পনার অনুসরণে নির্মিত, যেখানে সমকেন্দ্রিক বৃত্তের মাধ্যমে তান্ত্রিক দর্শনের গভীর প্রতীকী অর্থ প্রকাশ পেয়েছে।

"
"