কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, May 4, 2026

May 04, 2026

পশ্চিমবঙ্গে এগিয়ে বিজেপি, সরকার গঠনের আশাবাদ শুভেন্দু অধিকারীর

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। প্রাথমিক ফলাফলের প্রবণতায় এগিয়ে রয়েছে বিজেপি, আর এই পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা Suvendu Adhikari।
সোমবার ভোট গণনার অগ্রগতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী তার দল সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপি এই নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য দেখছে এবং ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ১৮২ আসনে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল Mamata Banerjee-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে ১০৯ আসনে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসন, যা বিজেপি এই মুহূর্তে অতিক্রম করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই ফলাফল এখনো চূড়ান্ত নয়, কারণ ভোট গণনা চলমান। তবুও প্রাথমিক প্রবণতা রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি মাত্র ৭৭টি আসন পেয়েছিল, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ২১৪টি আসন। সেই তুলনায় এবারের ফলাফল বিজেপির জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থী নির্বাচন, কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাব এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল—সবকিছু মিলিয়ে ভোটের এই ধারা তৈরি হয়েছে। কিছু এলাকায় নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও আশাবাদী। দলটির নেতারা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর এবার তাদের সরকার গঠনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
তবে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ভোট গণনা শেষ হলে পরিষ্কার হবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার আসনে কে বসছে।

 

May 04, 2026

রামগঞ্জে সোনার দোকানে চুরি, নৈশপ্রহরীর লাশ উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় একটি সোনার দোকানের শাটারের তালা ভেঙে সিন্দুক চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই ঘটনায় দায়িত্বরত এক নৈশপ্রহরীর মরদেহ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে পৌর শহরের পাটবাজার এলাকায় ‘নিউ আপন শিল্পালয়’ নামের একটি সোনার দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরের দল দোকানের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোনা-রূপার অলংকারসহ পুরো সিন্দুক নিয়ে যায়।
শনিবার সকালে রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কের পাশে হাত-পা ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করে জানা যায়, তিনি ওই বাজারের নৈশপ্রহরী ফরিদ (৪৪)। তিনি রামগঞ্জ পৌরসভার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা এবং বাজারের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, চুরির ঘটনা দেখে ফেলায় দুর্বৃত্তরা ফরিদকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে, বাজারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে চোরের দল ঘটনাস্থলে আসে। তাদের সংখ্যা ও পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক রূপন শীল জানান, চোরেরা তার দোকান থেকে সোনা ও রূপার অলংকারসহ সিন্দুক নিয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, এই ঘটনায় তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, প্রথমে মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হলেও পরে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। নিহতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং নৈশপ্রহরী হত্যার ঘটনায় পৃথক মামলা দায়ের করা হবে। বাজারের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

May 04, 2026

ফরিদপুরে নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর গাছ থেকে লাশ উদ্ধার

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
নিহত জোসনা বিশ্বাস (৪৫) সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণুপুর গ্রামের শিকদার বাড়ির বাসিন্দা এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের সদস্য। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি নিজ বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে সদরপুর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পেয়ে তাঁর মেয়ে সাধনা বিশ্বাস ও ছেলে অমিত বিশ্বাস আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় শুক্রবার সকালে সদরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৩০৮) দায়ের করা হয়। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। একই দিন দুপুরে গ্রামের দুই শিশু পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে একটি গাব গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পায়। শিশুদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আফজাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া এবং তিন দিন পর বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, স্বর্ণালঙ্কারের লোভে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, ব্যক্তিগত বা মানসিক কোনো কারণে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন।
ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় এক ধরনের রহস্য ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

 

May 04, 2026

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট সীমান্তে পুকুর খননে মিলছে শত বছরের পুরনো নিদর্শন, এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য

কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার সীমান্তঘেঁষা সিন্দুরমতি এলাকায় পুকুর খনন কাজ চলাকালে একের পর এক প্রাচীন ও মূল্যবান নিদর্শন উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া এই খনন কার্যক্রম যেন অজানা ইতিহাসের এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুকুর খননের সময় বৃষ্টিপাতের কারণে কাদা নরম হয়ে গেলে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা বিভিন্ন বস্তু ভেসে উঠতে শুরু করে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাচীন মূর্তি, স্বর্ণালংকার এবং মানতের মুদ্রা—যা দেখে অনেকেই বিস্মিত ও কৌতূহলী হয়ে পড়েছেন।
এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণ চন্দ্র জানান, তিনি নিজ হাতে পুকুর থেকে এক জোড়া প্রাচীন মূর্তি উদ্ধার করেছেন। তার এই আবিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের গ্রামসহ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন। প্রতিদিনই উৎসুক জনতার উপস্থিতি বাড়ছে, যা এলাকাটিকে এক ধরনের অঘোষিত আকর্ষণকেন্দ্রে পরিণত করেছে।
স্থানীয়দের ধারণা, উদ্ধার হওয়া এসব নিদর্শন কোনো প্রাচীন সভ্যতা বা ধর্মীয় স্থাপনার অংশ হতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, এখানে অতীতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্দির বা বসতি ছিল, যা সময়ের সঙ্গে মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে।
এদিকে প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যথাযথ বৈজ্ঞানিক তদন্ত, খনন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে এসব নিদর্শন দেশের প্রাচীন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে সক্ষম হবে।
স্থানীয় জনগণ দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এসব মূল্যবান নিদর্শন সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং কোনো ধরনের অপচয় বা চুরি-চামারি না ঘটে। এখন সবার নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে—এই রহস্যময় আবিষ্কার শেষ পর্যন্ত কী নতুন ইতিহাস উন্মোচন করে, সেটিই দেখার বিষয়।


 

May 04, 2026

পাকিস্তানের বুকে ২০০০ হাজার বছরের প্রাচীন তীর্থস্থান

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের ঐতিহাসিক কালাট শহরে অবস্থিত প্রাচীন কালাট কালী মন্দির, যা স্থানীয়ভাবে মা কালাটেশ্বরী মন্দির নামেও পরিচিত, দক্ষিণ এশিয়ার হিন্দু ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইতিহাস, বিশ্বাস ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই মন্দির।
ঐতিহাসিক সূত্র ও লোকগাঁথা অনুযায়ী, মন্দিরটির বয়স প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়। মন্দিরের প্রবেশপথে উর্দু ভাষায় খোদাই করা তথ্য থেকে জানা যায়, এর প্রতিষ্ঠাকাল ৭৪ খ্রিস্টাব্দ। ইতিহাসবিদদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামের আগমনের বহু পূর্বেই এই মন্দির নির্মিত হয়েছিল। প্রচলিত কাহিনিতে উল্লেখ রয়েছে, প্রাচীন হিন্দু শাসক সেওয়া বা বীরসেবা এই অঞ্চল ও দুর্গনগর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার সূত্র ধরে কালাট শহরের প্রাচীন নাম ছিল ‘কালাত-ই-সেবা’।
মন্দিরটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর বিশালাকৃতির দেবীমূর্তি। প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার মা কালীর বিগ্রহ এখানে রণচণ্ডী রূপে পূজিত হন। দশভুজা এই দেবীর হাতে রয়েছে গদা, তরবারি, ঢাল, শঙ্খ, খড়গ, ত্রিশূল, চক্র, ধনুক, নরমুণ্ড ও খঞ্জরের মতো অস্ত্রশস্ত্র, যা শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবীর গলায় রয়েছে মানুষের খুলির মালা, যা এই বিগ্রহকে আরও রহস্যময় ও ভক্তিময় করে তোলে। বর্তমানে ভক্তদের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে বিগ্রহটি কাঁচ দিয়ে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবেও এই মন্দিরটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাকিস্তানের হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিম ও শিখ জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এই মন্দিরকে ঘিরে গভীর শ্রদ্ধাবোধ দেখা যায়। অনেক সময় বেলুচ মুসলিমরা মন্দিরের পূজা-পার্বণ ও বিভিন্ন আয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, যা এ অঞ্চলের সহাবস্থানের এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে।
ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে মন্দিরটি ধ্বংসের মুখে পড়লেও তা টিকে আছে আপন মহিমায়। বর্তমানে পাকিস্তানের প্রত্নতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ এর সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। সব মিলিয়ে, কালাট কালী মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং এটি অতীত ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জীবন্ত প্রতীক—যা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কাছে সমানভাবে পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ।

 

May 04, 2026

সরকারি অনুষ্ঠানে সব ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ শুরু করার উদ্যোগে—সরকারকে ধন্যবাদ ঐক্য পরিষদের 🙏

সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান সব ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। রোববার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ জন্য সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেটে অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’সহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে সব ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে দেখছে।
ঐক্য পরিষদের মতে, এ ধরনের আয়োজন দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বাড়াতে এমন উদ্যোগ কার্যকর বলে মনে করছে সংগঠনটি।
তারা আরও প্রস্তাব করেছে, জাতীয় সংসদের প্রতিটি অধিবেশন শুরুর আগেও যদি একইভাবে সব ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়, তাহলে তা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে। এতে দেশের বহুমাত্রিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতিফলন ঘটবে বলেও তারা মনে করে।
ঐক্য পরিষদ বলেছে, বাংলাদেশ একটি বহু ধর্মের সহাবস্থানের দেশ। তাই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে তা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

Sunday, May 3, 2026

May 03, 2026

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংখ্যালঘু পরিবারের জমির ধান কাটার অভিযোগ ⚖️🌾

নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির জমির ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জীবন দেবনাথের দাবি, ১ মে (শুক্রবার) রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র তার জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে জীবন দেবনাথ তার পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া প্রায় ৬৫ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি একই গ্রামের কামাল মিয়া ও তার সহযোগীরা ওই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ। জীবন দেবনাথ জানান, জমিতে ধান রোপণের পর ফসল পাকতে শুরু করলে জোরপূর্বক তা কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগেও তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ ও সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই এসব নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জীবন দেবনাথ আদালতের শরণাপন্ন হন। নেত্রকোণা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় করা আবেদনের ভিত্তিতে গত ১৫ এপ্রিল আদালত সংশ্লিষ্ট জমিতে রিসিভার নিয়োগের নির্দেশ দেন। খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আদালতের অধীন হওয়ায় রিসিভার যদি নিরাপত্তা সহায়তা চান, তাহলে পুলিশ সহযোগিতা করবে। তবে সরাসরি তাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত।
এদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও নিযুক্ত রিসিভার মো. দেলুয়ার হোসেন জানান, তিনি আদালতের নির্দেশনা পেয়েছেন। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ব্যস্ততার কারণে এখনো সরেজমিনে যেতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, তার পক্ষ থেকে সহকর্মীদের মাধ্যমে বিবাদীদের মৌখিকভাবে ধান না কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবুও যদি ধান কাটা হয়ে থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত কামাল মিয়া ও সাইফুল মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া বলেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ধান কেটে নেওয়া হলে তা আইন অবমাননার শামিল। তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ ঘটনায় স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

May 03, 2026

বেনাপোল-খুলনা -মোংলা রুটের ট্রেনর বাণিজ্যিক পরিচালনা চুক্তি বাতিল

বেনাপোল-খুলনা রুটের ‘বেতনা কমিউটার’ এবং বেনাপোল-মোংলা রুটের ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেন দু’টির বাণিজ্যিক পরিচালনা চুক্তি বাতিল করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস কর পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা এই চুক্তি বাতিল করা হয়। এর ফলে ট্রেন দু’টি আবারও সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাচল শুরু করেছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল রাজশাহী অঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পশ্চিম) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী ২৮ এপ্রিল থেকে চুক্তি বাতিল কার্যকর করা হয়।
এর আগে ট্রেন দু’টির আয় বাড়ানোর যুক্তিতে বেসরকারি খাতে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং করপোরেশন’-কে তিন বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে ট্রেন পরিচালনা শুরু করে।
তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়। এতে আবারও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চলাচল শুরু হলে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় যাত্রীদের মতে, সরকারি তদারকিতে সেবা তুলনামূলক ভালো হয়। যাত্রী আরিফা বেগম ও মোজাম্মেল হক বলেন, ট্রেনে চোরাচালান ও অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি বগি সংখ্যা বাড়ানো হলে যাত্রীসেবা আরও উন্নত হবে।
বেনাপোল রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার পারভিনা খাতুন জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরে আসার পর থেকেই যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর এই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। প্রথম দিকে প্রায় ১১ বছর সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ার পর ২০১০ সালে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু সেবার মান নিম্নমুখী হওয়া ও নানা অনিয়মের কারণে ২০১৩ সালে আবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরিয়ে আনা হয়। পরে সেবার উন্নতি হওয়ায় ২০১৭ সালের ১ মার্চ থেকে দিনে দুইবার কমিউটার ট্রেন চালু করা হয়।
সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তকে যাত্রীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে রেলসেবার মান আরও উন্নত হবে।

 

May 03, 2026

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ট্রেন্ডিং ১০ খাবার: স্বাদের দুনিয়ায় নতুন ঢেউ 🍽️

একই খাবার প্রতিদিন খেতে খেতে একসময় একঘেয়েমি চলে আসে—এটা খুবই স্বাভাবিক। তাই তো বিশ্বজুড়ে খাবারের জগতে প্রতি বছরই দেখা যায় নতুন নতুন ট্রেন্ড, নতুন স্বাদের খোঁজ। কখনো ঐতিহ্যবাহী খাবার ফিরে আসে আধুনিক ছোঁয়ায়, আবার কখনো ফিউশন কনসেপ্টে পরিচিত খাবারও হয়ে ওঠে একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা।
২০২৫ সালেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বিশ্বজুড়ে খাবারপ্রেমীদের পছন্দ, সহজলভ্যতা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে কিছু খাবার এবার ট্রেন্ডের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেরা ১০টি জনপ্রিয় খাবার—
১. Neapolitan Pizza (ইতালি)
পাতলা, নরম ডো আর টাটকা টমেটো, মোজারেলা চিজ ও বাসিল পাতার সহজ কম্বিনেশন—এই পিৎজার স্বাদই একে আলাদা করে তোলে। কম উপাদানে অসাধারণ স্বাদই এর জনপ্রিয়তার মূল কারণ।
২. Ramen (জাপান)
গরম স্যুপ, নুডলস, মাংস ও ডিমের সমন্বয়ে তৈরি এই খাবারটি শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং আরামদায়ক ও পুষ্টিকরও।
৩. Taco (মেক্সিকো)
টরটিলার ভেতরে মাংস, সবজি ও সস—সহজে খাওয়া যায়, স্বাদে বৈচিত্র্যও অনেক। দ্রুত খাবারের জন্য দারুণ অপশন।
৪. Butter Chicken (ভারত)
মাখন ও টমেটোর গ্রেভিতে রান্না করা নরম চিকেন—ক্রিমি ও মসলাদার স্বাদের জন্য বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়।
৫. Dim Sum (চীন)
ডাম্পলিং, বানসহ ছোট ছোট খাবারের সমাহার। চায়ের সঙ্গে খেতে দারুণ লাগে, আর এখন অনেক দেশেই এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
৬. Sushi (জাপান)
ভাত, মাছ ও সামুদ্রিক উপাদানের সূক্ষ্ম সংমিশ্রণ—দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, স্বাদেও তেমন ইউনিক।
৭. Gourmet Burger (যুক্তরাষ্ট্র)
সাধারণ বার্গারের আপগ্রেড ভার্সন। উচ্চমানের উপকরণ ও নতুন স্টাইলের কারণে এটি এখন ফুড ট্রেন্ডের শীর্ষে।
৮. Pasta (ইতালি)
আলফ্রেডো, কার্বোনারা—বিভিন্ন সস ও স্টাইলে তৈরি পাস্তা সব বয়সের কাছেই প্রিয়।
৯. Pho (ভিয়েতনাম)
হালকা কিন্তু স্বাদে ভরপুর নুডলস স্যুপ, যেখানে থাকে নানা গুল্ম ও মাংসের মিশ্রণ।
১০. Korean Fried Chicken (দক্ষিণ কোরিয়া)
মুচমুচে টেক্সচার ও বিভিন্ন সসের কারণে এই ফ্রায়েড চিকেন তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।
খাবারের ট্রেন্ড আসলে শুধু স্বাদের পরিবর্তন নয়, এটি সংস্কৃতি, জীবনযাপন আর মানুষের পছন্দের প্রতিফলন। নতুন কিছু চেষ্টা করার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নতুন অভিজ্ঞতা—তাই মাঝে মাঝে নিজের খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনলে জীবনও একটু বেশি মজাদার হয়ে ওঠে 😄🍜



May 03, 2026

মির্জাপুরে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

টাঙ্গাইলের Mirzapur Upazila–এ এক সংখ্যালঘু পরিবারের পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের পথহাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিল চন্দ্র দাস অভিযোগ করেছেন, একই গ্রামের আব্দুল বাছেদ বাচ্চু ও তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে তার আবাদি জমি দখলের চেষ্টা করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে Mirzapur Police Station–এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (২ মে) গোড়াই পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক Ruhul Amin বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, পথহাড়া মৌজার ১১৫ খতিয়ানের ২০৩ নম্বর দাগে প্রায় ৮৯ শতাংশ জমি রয়েছে অনিল চন্দ্র দাসের নামে। গত ২৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুল বাছেদ বাচ্চুসহ কয়েকজন লাঠিসোটা নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করে। এ সময় জমিতে চাষ করা মরিচ ও বেগুন গাছ ট্রাক্টর দিয়ে নষ্ট করে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার সময় অনিল চন্দ্র দাস জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। একই দিন সন্ধ্যায় তিনি বাদী হয়ে বাচ্চুসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের একজন, লুৎফর রহমান দাবি করেছেন যে, ৮৯ শতাংশ জমির মধ্যে ৫৬ শতাংশ জমি আব্দুল বাছেদ বাচ্চু ও ঘুঘুর মামুদ বৈধভাবে ক্রয় করেছেন এবং তাদের নামে কাগজপত্র রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, ঘটনার দিন তারা প্রায় ১৫ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করতে গিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের হলেও হঠাৎ করে এমন সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অনেকেই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে ⚖️

 

"
"