কণ্ঠনীল

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, May 14, 2026

May 14, 2026

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে যুবক গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

ময়মনসিংহের নেত্রকোনার বারহাট্টায় ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে অনয় কান্তি রায় নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। তবে অভিযুক্ত যুবক নিজেই ওই পোস্ট করেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও তার স্বজনরা। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনয় কান্তি রায়ের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্ট প্রকাশিত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কায় বারহাট্টা থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং অনয় কান্তি রায়কে আটক করে।
পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
তবে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইডি হ্যাক, ফেক আইডি তৈরি কিংবা অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানোর ঘটনা অহরহ ঘটছে। ফলে শুধুমাত্র একটি পোস্টের ভিত্তিতে কাউকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করার আগে গভীর ডিজিটাল তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
অনয়ের পরিবারের সদস্যরাও দাবি করেছেন, তিনি এমন কোনো কাজ করতে পারেন না। তাদের ভাষ্য, প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আগ পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তারা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ধর্মীয় সংবেদনশীলতার মতো বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ধরনের ঘটনায় আবেগ নয়, বরং তথ্যপ্রমাণ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তারা মনে করেন, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে যেমন দ্রুত ব্যবস্থা জরুরি, তেমনি কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বর্তমানে অনেক সময় ব্যক্তিগত শত্রুতা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কাউকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তাই অভিযুক্তের মোবাইল, আইপি লগ, লগইন হিস্ট্রি এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেকে। তারা আশা করছেন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তদন্ত পরিচালনা করবে এবং প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরবে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষী ব্যক্তি শনাক্ত হোক এবং নির্দোষ কেউ যেন অযথা ভোগান্তির শিকার না হন। একই সঙ্গে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
May 14, 2026

শোক সংবাদ: মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতা নিখিল চন্দ্র শীল আর নেই

শোক সংবাদ: মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতা নিখিল চন্দ্র শীল আর নেই
বাংলাদেশের সনাতনী সমাজের পরিচিত মুখ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সহ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক শ্রী নিখিল চন্দ্র শীল আর নেই। তাঁর মৃত্যুতে সনাতনী সমাজ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি-২ নম্বরে অবস্থিত Popular Diagnostic Centre & Hospital–এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত জটিলতায় (Brain Hemorrhage) আক্রান্ত হয়ে তিনি সেখানে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
শ্রী নিখিল চন্দ্র শীল দীর্ঘদিন ধরে দেশের সনাতনী সমাজের বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সংগঠনের প্রকাশনা, গ্রন্থনা ও সাংগঠনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত হতো।
এছাড়াও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংখ্যালঘু অধিকার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। শান্ত, ভদ্র এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে বিশেষভাবে সম্মানিত ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়ে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখিল চন্দ্র শীল ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ একজন সংগঠক। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি সবসময় আন্তরিকতা ও সততার পরিচয় দিতেন। ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে শুরু করে সামাজিক বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ সবার কাছে অনুকরণীয় ছিল।
তাঁর মৃত্যু সনাতনী সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে তিনি যে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাঁর শেষকৃত্যের বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে। এদিকে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনার আয়োজন করা হচ্ছে।
শ্রী নিখিল চন্দ্র শীলের মৃত্যুতে ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর কর্ম, আদর্শ এবং সমাজের প্রতি অবদান দীর্ঘদিন মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।

 

May 14, 2026

জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে আইনি লড়াইয়ে নতুন অগ্রগতি

বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী মন্দির–এর বিপুল পরিমাণ দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে চলমান আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করেছেন আন্দোলন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ ও আইনজীবীরা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি ফেরত আনার দাবিতে পরিচালিত মামলায় সাম্প্রতিক আদালতীয় কার্যক্রম হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত-২ এ টানা পাঁচ দিন শুনানি শেষে আদালত মূল মামলাটি আপিল বিভাগের মাননীয় প্রধান বিচারপতির নিকট উপস্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছেন। আইনজীবীদের মতে, এই আদেশের ফলে বহুদিনের আলোচিত দেবোত্তর সম্পত্তি বিরোধ নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে জাতীয় মন্দিরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমির একটি বড় অংশ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তাদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)–এর দখলে থাকা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের ভূমিসহ আরও প্রায় হাজার কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি বিভিন্ন পক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ বলেন, এই ভূমিগুলো কেবল অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, বরং সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে এসব সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর ও সমন্বিত আইনি উদ্যোগের অভাবে তা বাস্তব রূপ পায়নি। তবে সাম্প্রতিক আদালতের অগ্রগতিকে তারা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলে সেখানে দরিদ্র হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আধুনিক ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি একটি সনাতনী হাসপাতাল, বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয়, সনাতনী নারী পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং হিন্দু তরুণ-তরুণীদের জন্য আধুনিক আইটি শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ভাবনাও রয়েছে।
এই আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতার জন্য ‘জাতীয় মন্দির রক্ষা ও পরিচালনা কমিটি’, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ–এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সচেতন হিন্দু সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী ও সমাজকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, আদালতের ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাতীয় মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি একদিন পুনরুদ্ধার হবে এবং তা সনাতন সমাজের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের পরবর্তী শুনানি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের ভবিষ্যৎ। তবে বহু বছর পর বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছানোয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন আশাবাদ ও প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে।

 

May 14, 2026

বগুড়ায় ৩০ কেজির প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার, আটক দুই


Bogura জেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন বলে ধারণা করা একটি বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি কালো পাথরের তৈরি এবং এতে প্রাচীন শৈল্পিক কারুকাজের ছাপ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি বহু পুরোনো কোনো প্রত্ননিদর্শন হতে পারে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূর্তিটি অবৈধভাবে বিক্রি বা পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি কোনো প্রাচীন মন্দির বা ঐতিহাসিক স্থাপনার অংশ হতে পারে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। 
এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূর্তিটির প্রকৃত বয়স, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং উৎস নির্ধারণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এটি সরকারি সংরক্ষণে নেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায়ই এ ধরনের প্রাচীন প্রত্নসম্পদ উদ্ধার হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। ইতিহাসবিদদের মতে, এসব নিদর্শন বাংলার প্রাচীন সভ্যতা, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং শিল্পসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে।


May 14, 2026

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করছেন? হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে বদলান প্রতিদিনের ৮ অভ্যাস ❤️

আধুনিক করপোরেট জীবনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ল্যাপটপের সামনে বসে থাকা যেন এখন স্বাভাবিক বিষয়। কাজের চাপ, ডেডলাইন আর অনলাইন মিটিংয়ের ভিড়ে অনেকেই খেয়ালই করেন না, এই দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা শরীরের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের শরীর এত দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে বসে থাকার জন্য তৈরি হয়নি। 
ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ Sanjay Bhojraj সতর্ক করে বলেছেন, আধুনিক অফিস সংস্কৃতি ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান, গভীর রাত পর্যন্ত ইমেইল দেখা এবং অনিয়মিত জীবনযাপন মিলিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।
তবে সুসংবাদ হলো, দৈনন্দিন কিছু ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য কার্যকর ৮টি অভ্যাস তুলে ধরা হলো।
১. দিনের শুরু করুন প্রাকৃতিক আলো দিয়ে 
ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাস বাদ দিন। সকালে কিছু সময় প্রাকৃতিক আলোতে থাকুন। সূর্যের আলো শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে সাহায্য করে, যা রক্তচাপ ও হরমোনের ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
২. প্রোটিনসমৃদ্ধ সকালের নাস্তা খান 
শুধু চা-বিস্কুট দিয়ে সকাল শুরু না করে ডিম, দই, বাদাম বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে দীর্ঘ সময় শক্তি পাওয়া যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে।
৩. খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটুন 
দুপুরের খাবারের পর সামান্য হাঁটা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ক্ষতি কমায়।
৪. সন্ধ্যায় হালকা শরীরচর্চা করুন 
জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানোর প্রয়োজন নেই। হালকা যোগব্যায়াম, স্ট্রেচিং, হাঁটা বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেলাধুলাও হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী হতে পারে।
৫. রাতে ডিজিটাল ডিটক্স জরুরি 
ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার মস্তিষ্ককে উত্তেজিত রাখে। তাই রাতের খাবারের পর স্ক্রিন টাইম কমানোর চেষ্টা করুন। এতে ঘুম ভালো হবে এবং হৃদযন্ত্রও কম চাপ অনুভব করবে।
৬. পর্যাপ্ত ঘুমকে গুরুত্ব দিন 
গভীর ও নিয়মিত ঘুম হৃদযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করে এবং স্নায়ুতন্ত্র স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কম ঘুম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৭. ঘুম ও জাগরণের সময় নির্দিষ্ট রাখুন 
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস শরীরের ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এতে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং শরীরে প্রদাহ কমে।
৮. মানসিক চাপ কমান, মানুষের সঙ্গে সময় কাটান 
স্ট্রেস হৃদযন্ত্রের অন্যতম বড় শত্রু। তাই মেডিটেশন, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ ও মানসিক স্বস্তি হৃদস্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য সবসময় বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। বরং ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় সামান্য সচেতনতা আপনার হৃদযন্ত্রকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে পারে।
May 14, 2026

একাত্তরের বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর বিদায়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন

মুক্তিযুদ্ধ তার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল শৈশব, স্বাভাবিক জীবন আর সম্মানের নিরাপদ আশ্রয়। স্বাধীনতার জন্য নিজের সম্ভ্রম বিসর্জন দেওয়া একাত্তরের বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী শেষ পর্যন্ত বিদায় নিলেন পৃথিবী থেকেও। তার মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে Thakurgaon জেলার Ranishankail Upazila উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামে। 
বুধবার (১৩ মে) সকালে নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এসময় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং গ্রামবাসীরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে শেষ বিদায় জানান।
এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে Pirganj উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন টেপরী রাণী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা Khadija Begum, থানার ওসি (তদন্ত) Rafiqul Islam, স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বর্ণনায় উঠে এসেছে এক হৃদয়বিদারক ইতিহাস। ১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে, যখন টেপরী রাণীর বয়স মাত্র ১৭ বছর, তখন চারদিকে যুদ্ধের বিভীষিকা। পরিবারের সদস্যদের জীবন বাঁচানোর আশায় অসহায় বাবা বাধ্য হয়েই মেয়েকে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে তুলে দেন। সেই মুহূর্তে বাবা ও মেয়ের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। ছিল শুধু আতঙ্ক, অসহায়ত্ব আর নীরব কান্না।
এরপর টানা সাত মাস পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তিনি। নিজের অসীম ত্যাগের বিনিময়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবন রক্ষা করেছিলেন টেপরী রাণী। স্বাধীনতার পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু স্বাধীন দেশেও তাকে স্বাভাবিক মর্যাদা দেয়নি সমাজ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সেই সময় চারদিক থেকে অনাগত সন্তানকে নষ্ট করে ফেলার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মেয়ের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান তার বাবা। তিনি মেয়েকে বলেছিলেন, “এই সন্তানই হবে তোর বেঁচে থাকার অবলম্বন।” পরে জন্ম হয় ছেলে সুধীর বর্মনের।
তবে সমাজের কটূক্তি ও অবজ্ঞা থেমে থাকেনি। ছোটবেলা থেকেই সুধীরকে ‘পাঞ্জাবির বাচ্চা’ বলে অপমান করা হতো। বর্তমানে তিনি একজন ভ্যানচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবুও মায়ের ত্যাগের প্রতি তার গর্বের কোনো কমতি নেই।
সুধীর বর্মন বলেন, “আমাকে নিয়ে মাকে অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু দেশের জন্য মায়ের যে ত্যাগ, সেটা কখনও ভোলার নয়। ২০১৭ সালে মা বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাওয়ার পর আমাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি আসে।”
দীর্ঘ অবহেলা ও সামাজিক বঞ্চনার পর অবশেষে ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পান টেপরী রাণী। এরপর ২০১৮ সালে তার আত্মত্যাগের কাহিনি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। অনেকেই তখন নতুন করে উপলব্ধি করেন, স্বাধীনতার পেছনে নারীদের ত্যাগ কতটা গভীর ছিল।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা Riyazul Islam বলেন, “টেপরী রাণী শুধু একজন বীরাঙ্গনা নন, তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস। তার জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দেশের স্বাধীনতার জন্য নারীরা কত বড় আত্মত্যাগ করেছেন।”
রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। দেশের জন্য তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
টেপরী রাণীর জীবন ছিল কষ্ট, অপমান, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের এক দীর্ঘ ইতিহাস। কিন্তু সেই ইতিহাসের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য নারীদের অসামান্য অবদানের এক অনন্য অধ্যায়। তার বিদায় যেন আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, অসংখ্য নির্যাতিত নারীও সেই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

Wednesday, May 13, 2026

May 13, 2026

সহস্র বছরের ঐতিহ্যের সাক্ষী: মুন্সীগঞ্জে আবিষ্কৃত ভগবান বিষ্ণুর বিরল ‘মৎস্য অবতার’ ভাস্কর্য

বাংলার প্রাচীন ইতিহাস, সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্য ও শৈল্পিক গৌরবের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে আজও সংরক্ষিত রয়েছে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর ‘মৎস্য অবতার’-এর এক সহস্র বছরের প্রাচীন ভাস্কর্য। Munshiganj জেলার ঐতিহাসিক বজ্রযোগিনী গ্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া এই বিরল প্রত্নসম্পদ শুধু একটি প্রাচীন মূর্তি নয়, বরং বাংলার আধ্যাত্মিক সাধনা, শিল্পচেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক জীবন্ত সাক্ষ্য। ✨
বর্তমানে রাজধানী ঢাকার Bangladesh National Museum-এ অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সংরক্ষিত এই ভাস্কর্য প্রতিদিন দর্শনার্থী, গবেষক ও ইতিহাসপ্রেমীদের আকৃষ্ট করছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিক্রম করেও এর শৈল্পিক সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য আজও সমানভাবে মুগ্ধতা ছড়ায়।
যে বজ্রযোগিনী গ্রাম থেকে এই ভাস্কর্য উদ্ধার হয়েছে, সেই অঞ্চলও ইতিহাসে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশ্ববিখ্যাত বৌদ্ধ আচার্য Atisha Dipankara-এর জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। ফলে বহু শতাব্দী ধরে এই জনপদ জ্ঞানচর্চা, ধর্মীয় সাধনা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, ভাস্কর্যটি পাল যুগে, আনুমানিক একাদশ শতাব্দীতে নির্মিত। পাল শাসনামলকে বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির স্বর্ণযুগ বলা হয়। সেই সময় ভাস্কর্য শিল্প এমন উচ্চতায় পৌঁছেছিল, যার নিদর্শন আজও বাংলা ও ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন প্রত্নস্থানে দেখা যায়। মুন্সীগঞ্জে আবিষ্কৃত এই ‘মৎস্য অবতার’ ভাস্কর্য সেই সমৃদ্ধ শিল্পধারারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। 🏛️
কালো কষ্টি পাথরে নির্মিত এই ভাস্কর্যে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর মৎস্য অবতারকে অসাধারণ নৈপুণ্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মূর্তিটির উপরের অংশ মানবদেহের আদলে নির্মিত হলেও নিচের অংশে রয়েছে মাছের আকৃতি, যা পুরাণে বর্ণিত মৎস্য অবতারের রূপকে জীবন্ত করে তোলে। চতুর্ভুজ এই মূর্তিতে শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম সুস্পষ্টভাবে খোদাই করা রয়েছে। মস্তকে রাজকীয় কিরীট, দেহজুড়ে অলংকার ও সূক্ষ্ম কারুকাজ পাল যুগের শিল্পীদের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় বহন করে।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাপ্রলয়ের সময় যখন সমগ্র বিশ্ব প্লাবনের জলে নিমজ্জিত হয়েছিল, তখন ভগবান শ্রীবিষ্ণু মৎস্য অবতার ধারণ করে বেদসমূহ এবং সৃষ্টিজগতকে রক্ষা করেছিলেন। তাই এই অবতার কেবল শক্তির প্রতীক নন, বরং জ্ঞান, সৃষ্টির ধারাবাহিকতা ও ধর্মরক্ষার প্রতীক হিসেবেও পূজিত। ভক্তদের কাছে মৎস্য অবতার আজও ঐশ্বরিক করুণা ও রক্ষাকবচের প্রতিচ্ছবি। 🙏
দীর্ঘ সময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা এই অমূল্য প্রত্নসম্পদ উদ্ধার হওয়ার পর এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব উপলব্ধি করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে এটি জাতীয় জাদুঘরে স্থান পায়। বর্তমানে জাদুঘরের গ্যালারিতে এটি শুধু একটি প্রাচীন ভাস্কর্য হিসেবেই নয়, বরং বাংলার হাজার বছরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক মূল্যবান উত্তরাধিকার হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জসহ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আবিষ্কৃত এ ধরনের প্রত্ননিদর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই ভূখণ্ড একসময় শিল্প, দর্শন, সাধনা ও ধর্মীয় চেতনার সমৃদ্ধ কেন্দ্র ছিল। যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই ঐতিহ্যের দীপ্তি আজও অমলিন। এমন প্রত্নসম্পদ নতুন প্রজন্মকে শুধু ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় না, বরং নিজেদের শিকড় ও সাংস্কৃতিক গৌরব সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখায়। 🌿

 

May 13, 2026

ঝিনাইদহে সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে নির্যাতনের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

ঝিনাইদহের Kotchandpur উপজেলার দোড়া ইউনিয়নে এক সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে লক্ষীপুর শীবনগড় এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন শতাধিক নারী-পুরুষ। তারা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিএনপি নেতা সিদ্দিককে দলীয় পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান। 
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ মে বিকেল ৫টার দিকে দোড়া ইউনিয়নের লক্ষীপুর শীবনগড় গ্রামের বাসিন্দা অরবিন্দ পাল (৫৪)-কে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধর করেন সিদ্দিক ও তার সহযোগী রেজাউল। অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশ্যে ওই বয়স্ক ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি ও দমনমূলক আচরণ চালিয়ে আসছেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন অসহায় বয়স্ক ব্যক্তির ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য হুমকি। তারা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সিদ্দিক ও তার সহযোগীরা এলাকায় “ত্রাসের পরিবেশ” সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলেও তারা মন্তব্য করেন।
প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়, যেন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।
 

May 13, 2026

চ্যাটজিপিটিকে এই ৮ প্রশ্ন করার আগে দুবার ভাবুন ⚠️

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা, কাজ, তথ্য খোঁজা কিংবা সাধারণ সমস্যার সমাধান—সব ক্ষেত্রেই মানুষ এখন নির্ভর করছে OpenAI–এর ChatGPT কিংবা Google–এর Google Gemini–এর মতো চ্যাটবটের ওপর।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সব ধরনের প্রশ্নের উত্তর এআই-এর কাছে খোঁজা নিরাপদ নয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি ভুল ধারণা, মানসিক বিভ্রান্তি বা বড় ধরনের ক্ষতির কারণও হতে পারে।
সম্প্রতি Cornell University–এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই চ্যাটবটগুলো মানুষের মতামতকে অতিরিক্ত সমর্থন করার প্রবণতা রাখে। ফলে অনেক সময় ব্যবহারকারীর ভুল ধারণাও আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
এ কারণে বিশেষজ্ঞরা কিছু সংবেদনশীল প্রশ্ন এআইকে না করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
১. “আমি কি খুব খারাপ মানুষ?”
নিজের ব্যক্তিত্ব বা আত্মপরিচয় নিয়ে এআই-এর কাছে সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়া ঠিক নয়। চ্যাটবট সাধারণত এমন উত্তর দেয়, যা ব্যবহারকারী শুনতে স্বস্তি বোধ করেন। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় তেমন নাও হতে পারে।
২. “সবাই কেন আমাকে অপছন্দ করে?”
সম্পর্ক, আবেগ বা সামাজিক জটিলতা বোঝার মতো মানবিক সংবেদনশীলতা এআই-এর নেই। ফলে এটি ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আপনার মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
৩. “৫ বছর পর আমার জীবন কেমন হবে?”
ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষমতা কোনো এআই-এর নেই। এটি কেবল তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য উত্তর তৈরি করে, যা বাস্তব জীবনের সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। 🔮
৪. “আমার কি ক্যান্সার হয়েছে?”
শরীরের উপসর্গ লিখে রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে। এআই চিকিৎসক নয় এবং ভুল তথ্য দেওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৫. “বুকের এই ব্যথার কারণ কী?”
অনলাইনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এআই সম্ভাব্য কারণ বলতে পারে, কিন্তু সঠিক পরীক্ষা ছাড়া রোগ নির্ণয় সম্ভব নয়। ভুল পরামর্শের কারণে সময় নষ্ট হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ❤️
৬. “আমি কি ডিপ্রেশনে ভুগছি?”
মানসিক স্বাস্থ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এআই সাময়িক কিছু পরামর্শ দিতে পারলেও এটি কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের বিকল্প নয়।
৭. “ট্রমা থেকে কীভাবে একাই মুক্তি পাব?”
গভীর মানসিক আঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন হয়। শুধু এআই-এর পরামর্শের ওপর নির্ভর করলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
৮. “আমার সব টাকা কোথায় ইনভেস্ট করা উচিত?”
বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ব্যক্তির আয়, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা ও আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। এআই সাধারণ তথ্য দিতে পারে, কিন্তু অন্ধভাবে সেই পরামর্শ মেনে চলা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। 💰
কেন সতর্ক থাকা জরুরি?
এআই অনেক ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও এটি এখনও মানুষের মতো বিচার-বিবেচনা বা আবেগ বোঝে না। চ্যাটবটের উত্তর অনেক সময় আত্মবিশ্বাসী শোনালেও তা ভুল হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, মানসিক অবস্থা, আইন বা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের মতো বিষয়ে শুধুমাত্র এআই-এর ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করছে, কিন্তু সেটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এআইকে তথ্য ও সহায়তার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করুন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা হিসেবে নয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, মানসিক সমস্যা ও আর্থিক বিষয়ে সবসময় বিশেষজ্ঞ মানুষের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের কাজ।


May 13, 2026

উল্লাপাড়ায় পুকুর খননের সময় উদ্ধার কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি, এলাকায় চাঞ্চল্য

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা–এর বাঙ্গালা ইউনিয়নের চেংটিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় পুকুর সংস্কারের সময় একটি কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বড় আনদার পুকুর খননের সময় হঠাৎ করেই মূর্তিটি পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুকুর খননের কাজে ব্যবহৃত এক্সাভেটর বা ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি তোলার সময় মেশিনের বাকেটের সঙ্গে মূর্তিটি ওপরে উঠে আসে। প্রথমে শ্রমিকরা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে কাছে গিয়ে দেখতে পান এটি একটি শৈল্পিক কষ্টি পাথরের মূর্তি। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি দেখতে অনেক পুরোনো এবং এতে সূক্ষ্ম কারুকাজের ছাপ রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে ধারণা করছেন, এটি প্রাচীন কোনো বিষ্ণু মূর্তি হতে পারে এবং এর সঙ্গে এলাকার ইতিহাস বা অতীত সভ্যতার যোগসূত্র থাকতে পারে।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে মূর্তিটি প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়, যাতে সেটি নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূর্তিটির প্রকৃত বয়স, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। প্রয়োজন হলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মতামতও নেওয়া হতে পারে।
স্থানীয় প্রবীণদের কেউ কেউ জানান, বহু বছর আগে এই অঞ্চলে প্রাচীন বসতির অস্তিত্ব ছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ফলে পুকুর খননের সময় এ ধরনের প্রত্ননিদর্শন উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসীর আগ্রহ আরও বেড়েছে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া বিষ্ণু মূর্তিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কৌতূহলের পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশও তৈরি হয়েছে। অনেকে এটিকে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

 

"
"